এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া : পেকুয়ায় ফাঁসানোর দাবী তুলে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার জামাল উদ্দীনের পরিবারের সদস্যরা। গতকাল রোববার (৭এপ্রিল) বিকেলে রাজাখালী ইউনিয়নে বদিউদ্দিন পাড়া এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জামাল উদ্দিন একই এলাকার শাহ আলমের ছেলে। শুক্রবার দিনগত রাত ৩টার দিকে নিজ বাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পেকুয়া থানা পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে জামালের স্ত্রী জিয়াসমিন আরা বলেন, একই ইউনিয়নের বামুলা পাড়া এলাকায় আমার স্বামীর ভোগদখলীয় একটি চিংড়ীঘের জবরদখল করতে আনছার উদ্দিনের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি চক্র অপতৎরতা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিতায় তারা আমার স্বামীর ক্ষতিসাধনের হুমকি দিয়ে আসছিল তারা। ওই চক্রটি আগামী মৌসুমে চিংড়িঘেরটি জবরদখল করতে স্থানীয় শাহাদাত নামের একজনের মাধ্যমে পুলিশকে ম্যানেজ করে আমার স্বামীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। আমার স্বামী নির্দোষ, নিরপরাধ। তাই আমি তার নিঃশর্ত মুক্তি এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তাকে ফাঁসানোর ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে জামালের মা উম্মে ছফা বলেন, আমার ছেলে জামাল উদ্দিন দীর্ঘদিন সৌদিআরবে ছিল। তিনবছর আগে সে দেশে ফিরে আসে। এখানে সে লবণ ব্যবসা ও চিংড়িঘের করে জীবিকা নির্বাহ করে। বিদেশ থেকে আসার পর থেকে স্থানীয় কিছু মানুষ তার সাথে শত্রæতা করে আসছিল। বিদেশ থেকে অনেক টাকা নিয়ে দেশে এসেছে মনেকরে আমার ছেলেকে ফাঁসিয়ে ফায়দা লুঠার ধান্ধায় ছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে দুটি মামলায় ষড়যন্ত্রমূলক আসামী করা হয়। আমার ছেলে কখনো কোন খারাপ কাজে জড়িত ছিলনা।
জামালের ভাই মোঃ সাগর বলেন, আমার ভাই জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্রম‚লক মামলার ওয়ারেন্ট ছিল। ওই ওয়ারেন্টে পুলিশ তাকে ধরতে আসে। কিন্তু পুলিশের ডাকে তার বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা না খুললে জনপ্রতিনিধি এবং প্রতিবেশী হিসেবে রাজাখালী ইউপির চেয়ারম্যান ছৈয়দ নুর এসে দরজা খোলার ব্যবস্থা করে। এসময় পুলিশ পুরো বাড়ী তল্লাশি করে কোন অবৈধ জিনিস পায়নি। পরে চেয়ারম্যান এবং প্রতিবেশীদের সামনে পুলিশ আমার ভাই জামালকে আটক করে নিয়ে যায়। কিন্তু পরে জানতে পারি পুলিশ তাকে অস্ত্রসহ আটক দেখিয়েছে। এতে আমার পরিবারের সদস্যস স্থানীয় বাসিন্দারা খুবই হতবাক হয়েছি। এ কেমন বিচার, এ কেমন দেশ ? আমার ভাইয়ের মামলা আছে। তাতে সে জড়িত কিনা তার বিচার করবে আদালত। আদালত তাকে আটকের আদেশ দিয়েছে। কিন্তু অস্ত্র দিয়ে নতুন মামলা দেয়ার কারণ কি ? পুলিশ কার ইশারা এ নিন্দনীয় কাজ করেছে, তা আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি। আমরা অতিদ্রæত এ অবিচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এছাড়া উক্ত সংবাদ সম্মেলনে জামাল উদ্দিনের বোন পারভিন আক্তার, শিশু সন্তান রাকিব, সাকিব ও মেঘলাসহ কয়েক শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিল। উপস্থিত সকলে জামা উদ্দিনকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনাকে নিন্দনীয় উল্লেখ করে তার দ্রæত মুক্তি দাবী করেন।##
