নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ৭২জনের মধ্যে ৬৮জনের লাশ উদ্ধার

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : নেপালের সেনাবাহিনী বলেছে, দেশটির পোখারায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তারা এখন পর্যন্ত কাউকে জীবিত উদ্ধার করেনি। রোববার ৭২ জন আরোহী নিয়ে ইয়েতি এয়ারলাইনসের একটি বিমান পোখারায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর ৬৮ জনের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কৃষ্ণ প্রসাদ ভান্ডারি সোমবার বলেন, ‘আমরা দুর্ঘটনাস্থল থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধার করিনি।’ সোমবার সকালে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে প্রথমে ব্যাহত হলেও পরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। নেপালের কর্তৃপক্ষ বিমান বিধ্বস্তের কারণ অনুসন্ধানে একটি বিশেষ কমিশনকে দায়িত্ব দিয়েছে। এ কমিশন ৪৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঠমান্ডু পোস্ট/ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ইয়েতি এয়ারলাইন্সের এটি-৭২ বিমান অবতরণের মাত্র ১০ সেকেন্ড আগেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আবহাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেনি। এমনই দাবি এটিস্যার। এটিসি সূত্রে খবর, বিমানের পাইলট এটিসি থেকে অবতরণের অনুমতি নিয়েছিলেন। যার পরে মেলে পোখরা এটিসি থেকে সবুজ সংকেত। কিন্তু অবতরণের ঠিক আগের মুহুর্তেই বিমানে আগুন ধরে যায়। 

নেপাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, যদি খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ত তাহলে বিমানটি মাঝ আকাশেই ভেঙে পড়তে পারত। কিন্তু তা হয়নি। খারাপ আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে তা বিমানবন্দরের কাছেই ঘটত না। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে, অবতরণের ঠিক আগে বিমানটিতে আগুনের শিখা দেখা গিয়েছে, তাই খারাপ আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেনি। 

এটিসি কর্মীদের মতে, পোখরার রানওয়ে পূর্ব-পশ্চিম দিকে তৈরি। বিমানের পাইলট এর আগে পূর্ব দিক থেকে অবতরণের অনুমতি চেয়েছিলেন এবং অনুমতি দেওয়াও হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে পাইলট পশ্চিম দিক থেকে অবতরণের অনুমতি চাইলে পুনরায় অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু অবতরণের ১০ সেকেন্ড আগে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়।

বিমানটির যে দুই পাইলট মারা গেছেন তাদের একজন অঞ্জু খাতিওয়াদা। ক্যাপ্টেন কমল কে সির সঙ্গে বিমান চালাচ্ছিলেন অঞ্জু। ২০০৬ সালের ১২ জুন বিমান বিধ্বস্ত হয়েই প্রাণ হারান অঞ্জুর স্বামী দীপক পোখারেল। তিনি ছিলেন কো-পাইলট। সেই বিমানটিও ছিল ইয়েতি এয়ারলাইনসের। সেটি বিধ্বস্ত হয়েছিল জুমলা বিমানবন্দরে। সেবার দীপকসহ প্রাণ হারান ১০ আরোহী।

স্বামীর মৃত্যুর পরই অঞ্জু পাইলট হবেন বলে স্থির করেন। স্বামী মারা যাওয়ার তার স্বপ্নপূরণ করতে পাইলট হওয়ার জন্য পড়াশোনা শুরু করেন অঞ্জু। পড়ার জন্য যান যুক্তরাষ্ট্রে। স্বামীর মৃত্যুর চার বছরের মাথায় তার পড়াশোনো শেষ হয়। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে নেপালে ফিরে নেপালে ফিরে এটিআর মডেলের উড়োজাহাজ চালানোর মধ্য দিয়ে পেশাজীবন শুরু করেন অঞ্জু। সেই এটিআর মডেলের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে রোববার প্রাণ হারাতে হলো তাকে। অঞ্জুর স্বামী দীপক প্রথমে সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার চালাতেন। কিন্ত পরে ইয়েতি এয়ারলাইনসে পাইলট হিসেবে যোগ দেন তিনি।

বিমানটি ছিল একটি বহুল ব্যবহৃত টুইট-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ প্লেন, যা এয়ারবাস ও ইতালিত নিওলার্দোর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছিল। ইয়েতি এয়ারলাইন্সের ওয়েবসাইট অনুসারে ৬টি এটিআর৭ ৫০০ প্লেনের ব্যবহার রয়েছে। ইয়েতি তার ওয়েসবাইটে নেপালের গুরুত্বপূর্ণ এয়ারলাইন্স হিসেবে নিজেকে দাবি করলেও বিমানগুলি অত্যন্ত পুরনো।

পাশাপাশি আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন, উন্নত রাডার এবং যোগ্য কর্মীদের অভাব, সরু উপত্যকার কারণে প্লেনে বাঁক নিতে অসুবিধা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও, তুষারপাত রানওয়েকে খুব বিপজ্জনক করে তোলে। এই পরিস্থিতিতে, পাইলটদের সামান্য ভুলের ফল মারাত্মক হতে পারে। যে বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেটি ৪২ বছরের পুরনো মডেলের বিমান। এই মডেলের প্রথম বিমানটি ১৯৮১ সালে নির্মিত হয়েছিল। নেপালে গত ৩০ বছরে এটি ২৮টি বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী থেকেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে পাহাড়ি অঞ্চল, প্রতিকূল আবহাওয়া, পুরানো বিমান এবং অনভিজ্ঞ পাইলটরা নেপালকে সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশগুলির মধ্যে একটি করে তুলেছে। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ২০১৯ সালের নিরাপত্তা সংক্রান্ত রিপোর্ট অনুসারে, নেপালের পাহাড়গুলি পাইলটদের জন্য একটি ‘বড় চ্যালেঞ্জ’।