শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকেঃঃ
নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি-জুমখোলা-সোনাইছড়ি সড়কে ও সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাতগইজ্জা পাড়ায় অর্ধশতাধিক ডাকাতের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। গত (১৫ ফ্রেুয়ারি) বৃহস্পতিবার রাতে সড়কের জুমখোলা এলাকায় পথ যাত্রী ও ওই এলাকার ব্যবসায়ীদেরকে ১০-১৫ জনের অস্ত্রধারী একটি ডাকাত দল জিম্মি করে লুটপাট করে। এরপর থেকে এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালি মিলে রাতভর পালাক্রমে পাহারা দিয়ে থাকে। তবে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ মাঝে আতংকে বিরাজ করছে।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৫নং সোনাইছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান বাহান মারমা বৃহস্পতিবার রাতে মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে সোনাইছড়ি ইউনিয়নের উপর জুমখোলাপাড়া সড়কের ঢালু উপড় পৌঁছলে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা ১০-১৫ জনের অস্ত্রধারী একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এসময় তাঁকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে একটি মোবাইল সেট ও পকেটে থাকা পাঁচ হাজার টাকা লুট করে। একই স্থানে মোটরসাইকেল চালক শামসুল আলম, জীপ চালক গুরা পুতিয়া ও রুহুল আমিনের জীপ গাড়ি থামিয়ে লুটপাট চালায় ডাকাতেরাা।
হামলার শিকার চেয়ারম্যান বাহান মারমা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘উপজেলা থেকে কাজ সেরে ফেরার পথে ১০-১৫জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা আমার গাড়ির গতিরোধ করে হামলা চালায় এবং নগদ টাকাসহ মোবাইল সেট লুট করে। পরে ওই ডাকাত দলটি জুমখোলার সড়কের পূর্ব দিকে পালিয়ে যায়।
এদিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে একটি অস্ত্রধারী সন্ত্রাস দল সদর ইউনিয়নের সাতগইজ্জাপাড়া এলাকায় অবস্থান করছে বলে গ্রামের মানুষের মাঝে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তাদের ধরতে বিজিবি-পুলিশের যৌথ বাহিনী সতগইজ্জাপাড়া পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।
সাতগইজ্জাপাড়া স্থানীয়রা জানান, সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান মৃত ছৈয়দ হাজী রবার বাগানের পাহাড়াদার শহর আলীর সহর্ধমিনী সিরাজ খাতুনকে ‘শুক্রবার সকালে ১০/১২জন যুবক এসে তাকে মুরগি রান্না করে দিতে বলে। তাদের প্রত্যেকের কাছে অস্ত্র ছিল’। সিরাজ খাতুন প্রত্যেকের কাছে অস্ত্র দেখে সে রান্না করতে রাজী হয়ে যায। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানের খবর মোবাইলের মাধ্যমে পেলে ওই অস্ত্রধারী যুবকেরা তড়িৎগতিতে অন্যত্রে সরে যায়। তবে আমারা ধারণা করছি বিজিবি-পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই সন্ত্রাসীরা যুবকেরা দ্রুত সোনাইছড়ির দিকে পালিয়ে যায়।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মো: আলমগীর শেখ জানান, কয়েকজন অস্ত্রধারী যুবক সোনাইছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান থেকে টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। তবে তাঁর উপর হামলা হয়নি। ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার আলী হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদেরও সহযোগিতা চান।
নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবি জোনের জোনাল কমান্ডিং অফিসার (সিও) লে. কর্নেল আনোয়ারুল আযীম বলেন, ‘অস্ত্রধারী ডাকাতদলের উপস্থিতির খবর পেয়ে বিজিবি ঘটনাস্থলে অভিযান চালাচ্ছে’।
