দৃশ্যমান মাদক বিরোধী অভিযান থমকে : তালিকাভূক্ত মাদক ডনেরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন- পর্ব-২

স্টাপ রিপোটার, টেকনাফ :
টেকনাফ মাদক বিরোধী অভিযানে পৌর কাউন্সিলার একরামুল হক কথিত বন্দোকযুদ্ধে নিহতের পর টেকনাফ সীমান্তে মাদক বিরোধী অভিযান থমকে পড়লে আতœগোপনে থাকা তালিকাভূক্ত মাদক ডনেরা এখন এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে। ফের সীমান্ত এলাকায় মাদক ব্যবসা স্বক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে। তথ্যমতে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত এবং তালিকাভূক্ত মাদক ডন জনপ্রতিনিধিরা পর্যন্ত এলাকা ছাড়া হলেও তারাও এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ এবং সভা সমাবেশের তাদের উপস্থিতি তেমন একটা দেখা যাচ্ছেনা। এমতাবস্থায় স্থানীয় সরকার উন্নয়ন এবং গ্রামীন আদালতের বিচার কার্যক্রম ব্যবস্থা একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। ফলে ইউনিয়নের স্ব স্ব ওয়ার্ডের জনগণ নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বিজিবি ও পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে চুনোপুটি মাদক ব্যবসায়ীরা আটকের পর ভ্রাম্যমান আদালতের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হলেও তালিকাভূক্ত মাদক ডনেরা এক্ষেত্রে রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে। অথচঃ তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে বলে একাধিক সূত্র এতথ্য নিশ্চিৎ করেছে। এর পরও কিন্তু মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে। সীমান্ত এলাকায় প্রতিনিয়তই আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে জব্দ হচ্ছে। মাদক বিরোধী অভিযানে ব্যস্ত সময়ে নব্য মাদক ব্যবসায়ীরা ওদের স্থলে সীমান্তের আলোচিত পয়েন্টে রমরমা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। দৃশ্যমান মাদক বিরোধী অভিযান থমকে যাওয়ায় এ স্থান দখলে নিয়েছে নব্য মাদক ব্যবসায়ীরা। নাফ নদীতে জেলেদের মাছ আহরনের পর থেকে কৌশলে মিয়ানমার থেকে থেমে থেমে মাদক বা ইয়াবার চালান সীমান্তে আলোচিত চোরাইপয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। দেশে মাদকের চাহিদা থাকায় মাদক বা ইয়াবা প্রবেশ থামানো যাচ্ছে না। সাবরাং শাহপরীরদ্বীপের ঘোলার পাড়া, জালিয়াপাড়া, কাটাবনিয়া, নয়াপাড়া, খুরের মুখ এবং টেকনাফ সদরের সমূদ্র সৈকতের মহেশখালীয়াপাড়া, নয়াপাড়া, খুরের মূখ এবং টেকনাফ সদরের সমূদ্র সৈকতের মহেশখালীয়া পাড়া, লেংগুরবিল, রাজারছড়া, শামলাপুরসহ মৎস্যঘাট এলাকা দিয়ে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাযোগে মাদক/ইয়াবার চালান প্রবেশ করছে। নাফ নদী ও সাগরের জিরো পয়েন্ট দুদেশের জেলেদের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে সরাসরী ইয়াবার চালান উপকূলে খালাস হচ্ছে। আলোচিত ইয়াবা পল্লী টেকনাফ সদরের নাজির পাড়া, হাবির পাড়া, ডেইল পাড়া, মৌলভী পাড়া, গোদারবিল, মহেশখালীয়া পাড়া, দক্ষিণ লেংগুরবিল, মিঠাপানিরছড়া ও কেরুনতলী এলাকায় দৃশ্যমান মাদক বিরোধী অভিযান না থাকাতে মাদক ও ইয়াবা ব্যবসা চাংগা হয়ে উঠেছে।

সীমান্ত জনপদে যে ক’জন শীর্ষ মাদক ডনেরা এখনো অধরা অবস্থায়, তাদের যোগ সাজশে মাদক ও ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার পুরোদমে চলছে, ওদের মধ্যে নাজির পাড়ার নুর মোহাম্মদ, মোঃ রফিক, জিয়াউর রহমান, বড় হাবীবপাড়ার মৃত নজির আহমদের পুত্র রশিদ আহমদ, মৃত আমীর আলীর পুত্র ছিদ্দিক আহমদ, মৌলভী পাড়ার সোলতান আহমদের পুত্র বশির আহমদ, মৃত লালমিয়ার পুত্র কালামিয়া, মৃত লাল মিয়ার পুত্র আবুল কালাম, হাজী ফজল আহমদের পুত্র মোঃ রিদুওয়ান, রহমান, একরাম, ডেইল পাড়ার আবদুল গফুরের পুত্র মোঃ শফিক। হ্নীলা ইউনিয়নের লেদার লাল মিয়ার পুত্র মোঃ আলম জাফর আলম, ফরিদ আলম, মফিজ আলম, মৃত আবুল কাসেমের পুত্র নুরুল হুদা, নুরুল কবির, শামসুল হুদা, পূর্ব লেদার মোঃ জাহাংগীর ও রঙ্গীখালীর মোঃ জামাল।

টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আছাদুদ জামান চৌধুরী বলেন, মাদকের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট এবং তারা যেই দলেরই হউক না কেন? তাদেরকে আইনের আনা হবে। টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) রনজিত কুমার বড়–য়া বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পুলিশ এ ব্যাপারে জিরো ট্রলারেন্স নীতিতে অটল ও অনড় থাকবে।