টেকনাফ টুডে ডেস্ক : নৈতিকতার অভাব এবং দুর্নীতির কারণে মানবাধিকার সুরক্ষিত হয় না বলে জানিয়েছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম। তিনি বলেছেন, দুর্নীতিবাজ অন্যের অধিকার হরণ করে দুর্নীতি করে থাকে। তাই দুর্নীতি প্রতিহত করা গেলে অন্যের অধিকারও সুরক্ষিত হবে। অন্যের অধিকার সুরক্ষিত করলে কেউ অপরাধ করতে পারে না।
সোমবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মানবাধিকারবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে নাছিমা বেগম এসব কথা বলেন।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুন্দর মন লাগে। শৈশবে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সুন্দর মন তৈরির কার্যক্রম শুরু করতে হবে। কিন্তু মাদক আমাদের সন্তানদের কৈশোর ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি জিরো টলারেন্সে আনতে পারলে মানবাধিকার নিয়ে এত কথা বলতে হবে না।
নাছিমা বেগম বলেন, অনেকেই মন্তব্য করেন- মানবাধিকার কমিশন ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান। অথচ সমাজের গণ্যমান্যরা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন না। এটি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। আমরা চাই সবাই মিলে কাজ করে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সুষ্ঠু গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার লাগবে সবার আগে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি নাজুক। রোহিঙ্গা সমস্যা প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কিন্তু সমস্যার সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছেন না।
মানবাধিকার কর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, সরকারকে মানবাধিকার সুরক্ষায় এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
সেমিনারে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক গোলাম মনোয়ার কামালের উপস্থাপনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ড. হামিদা হোসেন, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফসটিনা পেরেরা।
