টেকনাফ টুডে ডেস্ক : মিউনিখের আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শনিবার ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে ৪-২ গোলে শিরোপাধারীদের হারিয়ে দিয়েছে তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকে একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে জার্মানি। পঞ্চম মিনিটে দারুণ অ্যাক্রোবেটিক শটে জালে বলও পাঠিয়েছিলেন রবিন গোসেন্স। তবে আক্রমণের শুরুতে টমাস মুলারের হাতে বল লাগায় হয়নি গোল।
চাপ ধরে রেখেই খেলতে থাকে জার্মানি। ঘর সামলাতে ব্যস্ত পর্তুগাল নিজেদের সীমানা থেকে বেরই হতে পারছিল না। এর মাঝেই অসাধারণ এক প্রতি-আক্রমণে এগিয়ে যায় দলটি।
প্রতিপক্ষের কর্নার হেডে ক্লিয়ার করে ছুট দেন রোনালদো। তার হেড থেকেই বল পেয়ে এগিয়ে যান বের্নার্দো সিলভা, মাঝমাঠ থেকে বাড়ান দারুণ ক্রস। বুক দিয়ে বল নামিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন দিয়োগো জটা, সামনে একমাত্র বাধা গোলরক্ষক। কিন্তু ততক্ষণে পাশে চলে এসেছেন রোনালদো, নিশ্চিত হতে তাকে ছোট্ট পাস দিলেন তিনি। অনায়াসে বাকি কাজ সারলেন তারকা ফরোয়ার্ড।
আগের ম্যাচে দুটি রেকর্ড গড়া রোনালদো এবার গড়লেন আরেক কীর্তি। মেজর টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলে) ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ গোলের তালিকায় ১৯ গোল নিয়ে বসলেন শীর্ষে, জার্মানির সাবেক স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে।
দারুণ খেলতে থাকার মাঝে ওভাবে হঠাৎ পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা অনেক সময়ই বড় হয়ে দেখা দেয়। তবে এদিনের জার্মানি ছিল বিধ্বংসী রূপে। প্রতিপক্ষকে গুছিয়ে ওঠার সুযোগই দিচ্ছিল না তারা।
বিরতির আগে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের উদ্দেশে ১০টি শট নেয় তারা, যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যে এবং প্রায় সবগুলোই কঠিন চ্যালেঞ্জ জানায় গোলরক্ষককে। সবগুলো পরীক্ষায় দারুণ নৈপুণ্যে উতরে যান রুই পাত্রিসিও। তারপরও দুই আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় পর্তুগাল।
৩৫তম মিনিটে ডান দিক থেকে আসা ক্রস পেয়ে ভলিতে মাঝ বরাবর কাই হাভার্টজকে বাড়ান গোসেন্স। সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াস বিপদমুক্ত করতে গিয়ে জালে ঠেলে দেন বল। এই গোলে পর্তুগিজ রক্ষণের অবস্থান ছিল দৃষ্টিকটু। ডি-বক্সে এক সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিন জন, বাঁ দিকে গোসেন্স ছিলেন ফাঁকায়।
চার মিনিট পরই দ্বিতীয়বার আত্মঘাতী পর্তুগাল; এবার গোলমুখে বল ক্লিয়ার করতে একটু বেশি সময় পেয়েছিলেন রাফায়েল গেররেরো। কিন্তু তিনিও নিজেদের জালেই নেন জোরালো শট।
