তারপরও পরাজয় এড়ানো দায়!

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৯ years ago

: বোলিংবান্ধব পিচে উইকেট পড়বে এটাই তো স্বাভাবিক। তাই বলে অট্টহাসির কিছু নেই। প্রবাদ আছে ‘বেশি হাসলে বিপদে পড়তে হয়’। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অবস্থা আসলে তেমনই। শ্রীলংকার ব্যাটসম্যানদের সাজঘরে ফিরিয়ে খুশিতে আত্মহারা টাইগাররা। তবে লংকান ব্যাটসম্যানরা দলকে যে অবস্থানে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশের পক্ষে তা স্পর্শ করা কঠিন।

ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৩১২ রানের লিড শ্রীলংকার। এখনও তাদের হাতে আছে ২উইকেট।

ঢাকা টেস্টের উইকেট নিয়ে আমাদের হয়তো অনেক কথা আছে। তবে এই উইকেটেই তো শ্রীলংকান ব্যাটসম্যানরা খেলেছেন। তারা তো সাবলীলভাবেই খেলে গেছেন। তাদের তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। তারা যদি অচেনা উইকেটে ২২২ রান করতে পারে তাহলে আমরা কেন চেনা মাঠে অচেনা আচরণ করব!

উইকেট স্লো, বল ঠিকমতো ব্যাটে আসে না ইত্যাদি ইত্যাদি। হয়তো আমাদের এমন অজুহাত আছে। তবে এসব অজুহাত আর চলে না। একই উইকেটে তো তারাও খেলেছেন। তাহলে আমরা কেন নয়!

শুধু বোলাররা দলকে জয় উপহার দিয়েছে-এমন নজির ইতিহাস ঘেঁটেও পাওয়া যাবে না। আদৌ পারবে বলে মনেও হয় না। জয়ের জন্য ব্যাটসম্যান এবং বোলার উভয়ের অবদান রাখতে হবে। দুইয়ের সমন্বয়ে কাঙ্ক্ষিত জয় ধরা দেবে। এটাই হয়ে আসছে, হওয়ার কথাও।

চলমান ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের বোলাররা যা একটু পারফর্ম করছেন। ব্যাটসম্যানদের অবদান শূন্যের কোটায়। তামিম-ইমরুল-সাব্বির-মুশফিক-রিয়াদরা নামানুসারে খেললে ১১০ রানের লজ্জায় পড়তে হতো না বাংলাদেশকে। মিরপুর শেরেবাংলা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের এটাই দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ইনিংস।

এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৪ সালে ৭ উইকেটে ১০১ রান করেও প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত জয় পায় বাংলাদেশ।

কিন্তু ঢাকা টেস্ট ঝুঁকে আছে শ্রীলংকার দিকে। টাইগার ব্যাটসম্যানরা আরেকটু সিরিয়াস হলে বোলারদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যেত। তাহলে নিশ্চিত রেজাল্ট হওয়া টেস্টে বাংলাদেশেরও আশা থাকত।

প্রথম ইনিংসে যারা ১১০ রানে গুটিয়ে গেল, তারা টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ৩০০ রানের বেশি চেজ করে জয় পাবে তা কল্পনা করা অবাস্তব। নাটকীয় কিছু না ঘটলে ত্রিদেশীয় সিরিজের পর আরও একটি ট্রফি হাতছাড়া হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

শ্রীলংকা ১ম ইনিংস : ২২২/১০ (মেন্ডিস ৬৮, রোশেন ৫৬; রাজ্জাক ৪/৬৩, তাইজুল ৪/৮৩,)।

দ্বিতীয় ইনিংস : ২০০/৮ (রোশেন ৫৮*, করুনারত্নে ৩২, চান্দিমাল ৩০; মোস্তাফিজ ৩/৩৫, তাইজুল ২/৭২, মিরাজ ২/২৯)।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ১১০/১০ (মিরাজ ৩৮, লিটন ২৫; ধনাঞ্জয়া ৩/২০, লাকমল ৩/২৫)।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ৩১২ রানে এগিয়ে শ্রীলংকা।