নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ফকিরাখোলা নামক এলাকায় ডজনাধিক মেশিন বসিয়ে আবারও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চালাচ্ছে। স্থানীয় কতিপয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনের একটি বিশাল চক্র অতিস¤প্রতি সেখানে এ কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। এই অবস্থায় বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের তত্ত¡াবধায়ক মাজাহারুল ইসলামের নেতৃত্বে সাফারি পার্কের ফকিরাখোলা নামক এলাকায় এ অভিযান চালায়। অভিযানে বেশ কয়েকটি বালু উত্তোলনের সেলুমেশিন ধ্বংস করে ডজনাধিক পাইপ কেটে টুকরো টুকরো করা হয়।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে- সাফারি পার্ক, খুটাখালী বনবিট ও মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের প্রায় একশো একর বনভূমি বিরানভূমিতে পরিণত হচ্ছে। সেখানে অর্ধশত অবৈধ সেলু মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে বনভূমি ধ্বংস করে যাচ্ছে। এতে জড়িত রয়েছে ৩০-৪০ জনের সিন্ডিকেট। স্থানীয় অনেকে জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোন চাপ আসলে জড়িতরা সবাই প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি অথবা সরকার দলের নেতাদের শরণাপন্ন হয়।
এরপর রহস্যজনক কারণে নিমিষেই স্বাভাবিক হয়ে যায়। বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লয়ার এসোসিয়েশন (বেলা)র সুত্রে জানা গেছে চকরিয়ার ডুলাহাজারায় অবৈধ বালু উত্তোলন কেন বন্ধ হবে না সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে জানাতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে বেলার কার্যক্রম চলমান থাকবে। জানা গেছে, প্রভাবশালী এই বালু সিন্ডিকেটের কবলে রয়েছে খুটাখালী বনবিটের আওতাধীন দশ বছর মেয়াদি মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক বনায়ন। উপকারভোগী অনেকে আবার এ বনায়ন চুক্তির ভিত্তিতে বালু দস্যুদের বিক্রি করে দিয়েছে। সামাজিক বনায়ন হিসেবে যেখানে রোপিত গাছ বা চারা থাকার কথা। বর্তমানে সেখানে গাছ লাগানোর তলদেশটা পর্যন্ত হারিরয় যাচ্ছে। খানাখন্দে পরিনত হচ্ছে সর্বত্রে। পথেঘাটে রয়েছে বালুর বিশাল-বিশাল স্তুপ। নিকটস্থ সড়ক দিয়ে আসা-যাওয়া করছে সারি সারি বালু বহনকারী ডাম্পার গাড়ী। প্রশাসনের কোন অভিযান সেখানে আসার কথা থাকলে সোর্সের মাধ্যমে খবর পেয়ে জড়িতরা সতর্ক হয়ে যায়।
অভিযোগ উঠেছে, বালু সিন্ডিকেটের সথে খুটাখালী বনবিটের লোকজনের যোগসূত্র থাকার কথা জানালেও বিষয়টি অস্বীকার করেন বনকর্মীরা। তবে খুটাখলীর স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা জিলুর রহমান জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে যখন প্রতিবাদ করে অবৈধ বালু বন্ধ করতে পারছিনা শেষ পর্যন্ত নিজেকেও সেখানে জড়িত করলাম। অপরদিকে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে বলেন মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের বিট কর্মকর্তা মোঃ শাহিন আলম।
ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের তত্ত¡াবধায়ক (রেঞ্জ কর্মকর্তা) মো.মাজাহারুল ইসলাম জানান, সাফারি পার্ক এরিয়ায় বালু উত্তোলন যেই করুক না কেন আমরা কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। ইতোমধ্যে সেখানে পার্ক কর্তৃপক্ষ অভিযান পরিচালনা করেছে এবং আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।##
