নিজস্ব প্রতিবেদক : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউপি নির্বাচনে প্রিসাডিং কর্মকর্তার কারসাজিতে অনিয়ম কারচুপির মাধ্যমে ফলাফল পাল্টে দিয়ে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী ও মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রিনা আক্তারকে পরাজিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ভোট গনণা শেষে সকল প্রার্থীকে প্রাপ্ত ভোটের ফলাফলের কপি হাতে দেওয়া হলেও ডুলাহাজরা ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের ইসলামিয়া আরবিয়া দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাডিং কর্মকর্তা প্রার্থী রিনা আক্তারকে কপি দেয়নি।
ওইদিন ভোট কেন্দ্রে ফলাফল কপি চাইলেও প্রিসাডিং কর্মকর্তা চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে নিতে হবে জানিয়ে কেন্দ্র থেকে চলে যান। এইধরণের অভিযোগ তুলে ৪৫৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার প্রার্থী রিনা আক্তার (মাইক প্রতীক) জাল-জালিয়াতি ও ইভিএম কারচুপির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত পুর্বক পুনরায় ব্যালট পেপারে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আবেদন জানান কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে। বৃহস্পতিবার ৩০ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসক, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), চকরিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত রির্টানিং কর্মকর্তা) ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েকটি উর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগে মেম্বার প্রার্থী মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রিনা আক্তার দাবি করেন, গত ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থধাপে অনুষ্ঠিত ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয় ১০ নভেম্বর, ২৫ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল ও ৭ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর মুলত অন্য প্রার্থীদের মতো আমি নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণা শুরু করি। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ঘোষনা মতে, ভোট গ্রহণের কথা ছিল ব্যালট পেপারে, কিন্তু হঠাৎ করে ১৪ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণ ইভিএম পদ্ধতিতে হবে জানতে পারি। তিনি অভিযোগে বলেন, বিষয়টি জানার পর ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণে কারচুপি বা অনিয়ম হবে এই আশঙ্কা থেকে সবার মতো আমিও নির্বাচন সংশ্লিষ্ঠ প্রশাসনের কাছে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করি। প্রতি উত্তরে প্রশাসন থেকে জানানো হয় ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ হবে।
মেম্বার প্রার্থী রিনা আক্তার অভিযোগ করেন, ইভিএম ঘোষনা আসার পর অন্য প্রার্থীর মতো আমিও যে আশঙ্কা করেছিলাম সুষ্ঠ ভোট নিয়ে সেটি সত্যি হয়েছে নির্বাচনের দিন ডুলাহাজরা ৫নং ওয়ার্ডের ইসলামিয়া আরবিয়া দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাডিং কর্মকর্তার ভুমিকা দেখে। তিনি সেইদিন ফলাফল ঘোষনার আগমুর্হুতে অন্য একজন প্রার্থীর হয়ে কৌশলে কাজ করেছেন।
ভোট গণনাকালে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যায় ওই ভোট কেন্দ্রে। এ সুযোগে অভিযুক্ত প্রিসাডিং কর্মকর্তা অত্যন্ত সুকৌশলে কেন্দ্র থেকে অমার এজেন্টকে বের করে দিয়ে ইভিএম কারচুপির মাধ্যমে আমার ভোটের ফলাফল পাল্টে দেয়। এমনকি ফলাফল সীটে আমার এজেন্ট থেকে কোন সাক্ষর না নিয়ে হাতের লেখা একটি ফলাফল সীট প্রর্দশন করেন। যদিও ইভিএম পদ্ধতিতে ফলাফল সীট কম্পিউটার প্রিন্ট কপি হওয়ার কথা। এসব অনিয়মের কারণে আমি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল স্থগিতপুর্বক পুনরায় ব্যালট পেপারে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানাচ্ছি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কছে। ##
