টেকনাফ প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরটি কর্তাহীনঃ চলছে অফিস দায়সারা ভাবে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক :
টেকনাফ উপজেলা পরিষদের যে ক’টি সরকারী গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর রয়েছে তার মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরটি অন্যতম। গ্রামীণ জনপদের প্রমীণ অবকাঠামো উন্নয়নে এ দপ্তরটি বেশ ভূমিকা পালন করার কথা থাকলে এ দপ্তরটি চলছে তার মর্জি মতো। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় এ জনগুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরের অধীনে প্রতি অর্থবছরে কর্মসূজনসহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে যে পরিমান অর্থ ত্রান সামগ্রী বরাদ্ধ দেয়া হয় তাহা শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে কি পরিমাণ মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগ হয়, তা নিয়ে এ দপ্তরটি প্রশ্নবিদ্ধ। অনুসন্ধানে জানা যায়, এ দপ্তরটি অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার পড়েছিল এ দপ্তরের উপর। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরটি বনে যায়, এক দুর্নীতির আখড়ায়। ২০১২ সাল থেকে ২০১৮ সাল গেল অর্থ বছরে এ দপ্তরে কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী শুধু বদলী ও অতিরিক্ত দায়িত্বের মধ্যেই ছিল। কোন কোন কর্মকর্তা ১ থেকে ২ বছরের মাথায় বদলী হয়ে যায়। অথবা গরহাজির থাকে। কেন? এ দপ্তরে চলমান এ অবস্থা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নির্বাচনী বছরে এ দপ্তরের অবস্থা আরো নাজুক। গত ৮ বছরে এ দপ্তরে গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে আর্থিক কেলেংকারী সীমাহীন বলে মাঠ পর্যায়ে সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। সমন্নয় ও জবাবদীহিতা না থাকায় এ দপ্তরটি দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়। উপজেলা মাসিক সমন্নয় কমিটি সভায় প্রায় সময় কর্মকর্তা গরহাজির থাকতে দেখা যায়। কাজের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে এ দপ্তরটি তথ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখে। ২০১৮ সালের সেপ্টম্বর মাসে মাস পর্যন্ত এ ৯ মাসে এ দপ্তরের অফিস সহকারী-দপ্তরটি খোলা থাকলেও প্রায় সময় প্রধান কর্মকর্তার দপ্তরটি বন্ধ থাকতে দেখা যায়। অধীনস্থদের এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, সাব জবাব দেয় স্যার বাইরে অথবা প্রশিক্ষনে রয়েছেন। গত ৯ সেপ্টম্বর এ প্রতিবেদক এ দপ্তরে গেলে এ দপ্তরে মাত্র ১জন কর্মচারী থাকলেও কর্মকর্তার দপ্তরটি বন্ধ থাকতে দেখা যায়। নির্বাচনী বছরে এ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কার্যক্রম একেবারে ঝিমিয়ে পড়েছে। প্রয়োজনে ভূক্তভোগী জনপ্রতিনিধি ও জনগণ এ দপ্তরে সেবা থেকে বঞ্চিত। সুতারাং এ দপ্তরটি শুধু নামে আছে কাজে নেই। আজ এমন অবস্থা চলছে এ দপ্তরের দায়সারাভার কার্যক্রম। উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে রয়েছেন উধাসীন ও বেখবর।
অনুসন্ধানে করে জানা যায়, গত ৮ বছরে এ দপ্তরে গর হাজির থাকা কর্মকর্তার স্থলে অফিস সহকারী ছিল সর্বেসর্বা। তার মাধ্যমে দপ্তরের যাবতীয় প্রকল্পের কাজ সম্পাদন হতো। কর্তার মোবাইল ফোন ছিল, তার আসল হাতিয়ার। ফোনে অদৃশ্যকাজ রাতারাতী হয়ে যেতো। কাগজে কলমে প্রকল্পের কাজ ঠিক থাকলেও বাস্তবে অন্যরকম। এদপ্তরে অতিরিক্ত দায়িত্বে নিয়োজিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পবিত্র চন্দ্র মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। যার মোবাইল নং-০১৬৩২৮৫৭৯২০।