মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী : টেকনাফ পর্যটন পৌর শহরের বাস ষ্টেশানটি এখন যানজাট নামক যন্ত্রনার শহরে পরিনত হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে বিকাল অবদি পর্যন্ত যানজাট লেগেই থাকে। এর থেকে পরিত্রানের কোন উপায় খুজে পাচ্ছেনা ভূক্তভোগীরা। টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে শাপলা চত্তর থেকে প্রায় অর্ধ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজাট সৃষ্টি হয়। এর কবলে পড়ে যাত্রী ও পথচারীসহ সকলেই বিড়ম্বনার শিকার হয়। ষ্টেশানে ট্রাপিক ব্যবস্থা থাকলেও এটি অনেক সময় নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়ে। টেকনাফ ষ্টেশান রাস্তার পাশে অবৈধ স্থাপনা, ভাসমান দোকান, মাছ ও তরকারীর বাজার, বাস কাউন্টার গাড়ী পাকিং ও যত্রতত্রস্থানে গাড়ী রাখার কারণে যানজাট সৃষ্টির একমাত্র কারণ। মধ্যে মধ্যে প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত কার্যক্রম শুরুর পর ভাসমান দোকান ও অবৈধ স্থাপনা লোক দেখানো উচ্ছেদ করলেও পরবর্তীতে পূনরায় স্থাপিত হয়। ফলে ষ্টেশানে যানজাট নিত্যসংগী হয়ে দাড়ায়। খোজ নিয়ে জানা যায়, টেকনাফ ষ্টেশানের অধর্ কিলোমিটারের মধ্যে ১২ প্রকারের বিভিন্ন ছোট বড় যানবাহন ও পরিবহণ পুরো ষ্টেশানটি দখলে রাখে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে আরো ২টি গাড়ী যোগ দিয়েছে। মোজক সার্ভিস নামের ছাড়পোকা ও টমটমগাড়ী চালুর পর থেকে যানজাট মাত্রা আরো বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়পোকা শুধুমাত্র রোহিঙ্গা যাত্রী পরিবহণ করার নামে দেশীয় যাত্রীরাও পথচারীর অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছে। রোহিঙ্গা প্রেমিক এ মোজক সার্ভিস পুুরো ষ্টেশানকে দখলে নিয়েছে। এরি কারণে ষ্টেশান মসজিদের মুসল্লিরা নামাজ ও প্রবেশে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়াও ষ্টেশানে যে সকল গাড়ী অবস্থান নেয়, তার মধ্যে টেকনাফ কক্সবাজার মূখী মিনিবাস, হাইয়েস, সিএনজি, মিনি পিকআপ, টমটমগাড়ী ব্যাটারী চালিত রিক্সা, টেলাগাড়ী ও ট্রাকসমূহ। ষ্টেশানের মংগ্রী মার্কেটের সামনে ভাসমান দোকান স্থাপিত হওয়ায় পথচারী ও মসজিদমূখী মুসল্লিরা গন্তব্য স্থানে পৌছনে বাঁধাগ্রস্থ ও ভোগান্তি শিকার হচ্ছে। অভিযোগে জানা যায় মংগ্রী মার্কেটের কতিপয় মুদির দোকান ব্যবসায়ীরা ভাসমান দোকান থেকে দৈনিক ৩/৫শত টাকা ভাড়া নিয়ে এব্যবস্থা সৃষ্টি করেছে। দোকানের সামনে তেলের ড্রামসহ অবৈধ স্থাপনার কারণে এ যন্ত্রনা আরো বৃদ্ধি করেছে। বিশেষ করে সকাল ৯টা থেকে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, সরকারী ও বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যানজাটের কবলে পড়ে তারা সঠিক সময়ে প্রতিষ্টানে ও কর্মস্থানে পৌছতে পারেনা। চোরাচালান ও আইন শৃংখলা দমন কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার লোকেরা পড়ে যায় বিপাকে। ফলে অনেক সময় অভিযান সফল হয়না। অপরদিক হাসপাতাল মূখী রোগীরা পর্যন্ত যানজটের গ্যাঁড়াকলে পড়ে চিকিৎসাস্থলে পৌছতে পারেনা। এ সময় জঠিল রোগী মাঝপথে আরো অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে লেখালেখির পরও প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন উদ্দ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছেনা। নির্বাচনী বছরের কারণে এটি নিয়ে কেউ মাথা গামাচ্ছেনা বলে মনে হয়। এদিকে টেকনাফ পুরাতন পল্লান পাড়ার আনোয়ারের পুত্র উপজেলা হাইএস,জিপ সমবায় শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ জিয়াউর রহমান ২রা আগস্ট ষ্টেশানে গাড়ী রাকার কারণে একটি আইন শৃংখলা বাহিনীর আক্রমনের শিকার হয়। ম্যাজিক সার্ভিস নামক ছাড়পৌকাা গাড়ী প্রধান সড়ক দখলে রাখে। এ অবস্থা থেকে ফিরে আসতে গাড়ীর মালিকদের আলোচনা সাপক্ষে বসতে এবং গাড়ী নির্ধারিত স্থানে রাখতে বললে, ঐদিন ষ্টেশানে প্রকাশ্যে দিবালোকে গাড়ীর মালিকদের হাতে তিনি নাজেহাল হয়। পরে এর প্রতিকার চেয়ে তিনি নিজে বাদী হয়ে স্থানীয় আব্দুল আজিজকে অভিযুক্ত করে ৩ জনের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি দাবী করছে ঘটনারদিন অভিযুক্তরা ৩৫ হাজার টাকা মূল্যে একটি মোবাইল ফোন ও পকেটে থাকা ২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। অভিযোগটি টেকনাফ মডেল থানার (ও’সি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বিষয়টি আমলে এনে তদন্তে দায়িত্ব দিয়েছেন এসআই বিবেবকে।
