টেকনাফ উপজেলা যুবদল সম্মেলন : তৃণমুল নেতা-কর্মীরা টাকায় দেয়া কমিটি প্রতিরোধ করবে

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক :: টেকনাফ উপজেলা যুবদলের দ্বী-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর)। উক্ত সম্মেলনকে ঘিরে শুরুর দিকে নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চলতা দেখা গেলেও শেষ মুহুর্তে অনেকটা চুপসে গেছেন সাধারন নেতাকর্মীরা। অনেকে ধরে নিয়েছেন নতুন নেতৃত্ব না এসে সেই পুরনো নেতারাই নতুন করে পদ পদবী বন্টন করে নেবেন। দীর্ঘ চার বছর পর সম্মেলনের তারিখ ঘোষনাকে ঘিরে যে সাংগঠনিক চাঞ্চল্যতা পরিলক্ষিত হয়েছিল তা স্থবির হয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলা যুবদলের তৃণমুল ও ত্যাগী নেতা কর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার পকেট কমিটি হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতাই বেশ কয়েকটি ইউনিয়নেও একই কায়দায় কমিটি ঘোষনা করেন। তবুও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে বুকে ধারন করে রাজপথে যে কোন আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন পদ বঞ্চিত নেতা কর্মীরা। দীর্ঘ চার বছর পর টেকনাফ উপজেলা যুবদলের সম্মেলন ও কাউন্সিল ঘোষনা করায় নেতা কর্মীদের মাঝে চাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছিল। কিন্তু সম্মেলন শুরুর একদিন আগে সেই চাঞ্চল্যতা নেই। চুপসে গেছেন সাধারন নেতাকর্মীরা। এর কারন জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক যুবদল কর্মীরা বলেন, সম্মেলনের ক্ষন ঘনিয়ে আসলেও এপর্যন্ত অনেকে সম্মেলনের স্থান জানেনা বা কেউ জানাইনি। নেতৃত্ব কুক্ষিগত করতে সম্মেলনের স্থান গোপন রেখে টেকনাফ সদর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে শুনেছি এক বিএনপি নেতার ঘেরার ভিতর অনেকটা নিয়ম রক্ষার সম্মেলন করতে যাচ্ছেন।
নেতৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার জন্য এধরনের আয়োজন করেছে বলে যুবদল কর্মীদের কাছে প্রচার রয়েছে। এভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে সাময়িকভাবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা থেকে রক্ষা হলেও শতশত নেতা কর্মীরা পাল্টা কমিটি ঘোষনা দেওয়ার কথাও প্রচার হচ্ছে। ফলে বৃহৎ একটি সংগঠনের পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিলে যে কোন মুহুর্তে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এধরনের ঘটনা জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) টেকনাফ উপজেলায় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা করছেন বিএনপির অনেক মাঠ পর্যায়ের নেতারা।
জিয়ার পরিষদের সভাপতি মুরাদ জিয়া নিজেকে সাংগঠনিক প্রার্থী ঘোষনা দিয়ে জানান, কোন মতেই পকেট কমিটি মেনে নেবনা। গণতন্ত্র পদ্ধতিতে হাউজের মতামতের ভিত্তিতে কমিটি ঘোষনা করতে হবে। এতে ফলাফল যাই আসুক তাই মেনে নেব।
উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সাধারন সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধীতার কথা জানিয়ে বলেন, তৃণমুলের সমর্থন আমার পক্ষে রয়েছে। তাই ইলেকশনের মাধ্যমে যে আসবে তাই মেনে নেওয়া হবে। কোন মতেই চাপিয়ে দেওয়া কমিটি মেনে নেওয়া হবেনা।
এদিকে একটি পক্ষ মোটা অংক নিয়ে পদ পদবীর জন্য কতিপয় নেতৃবৃন্ধের কাছে ধর্না দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। যদি তৃণমুলের মতকে উপেক্ষা করে পকেট কমিটি ঘোষনা করা হয় তবে টেকনাফ উপজেলা যুবদলের জন্য চরম সাংগঠনিক বিপর্যয় বয়ে আনবে। তবে এক্ষেত্রে উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ শাহজাহান চৌধুরী বিষয়টি অনুধাবন করে কমিটি গঠনে জেলা নেতৃবৃন্ধকে সহায়তা করলে সংগঠনের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সাধারন নেতাকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত ২০১৪ সনে সর্বশেষ টেকনাফ উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটি ঘোষনা করা হয়।