বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফের ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫ইউপির বিভিন্ন স্থানে ২২৫ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার চলছে ফসল তোলার মৌসুম। ভাল ফলন হওয়ায় লাভের আশায় ভূট্টা চাষীদের মুখে হাসি ফুটছে।
জানা যায়, টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ২২৫ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষাবাদ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন গ্রামে ভূট্টা ক্ষেত হতে ভূট্টা উত্তোলন শুরু হয়েছে। এসব ক্ষেত মালিকদের অনেকে পাইকারী আবার অনেকে খুচরা হিসেবে ক্ষেতসমেত বিক্রি করে দিচ্ছে। প্রতি হেক্টরে ১০ মেট্টিকটন ভূট্টা উৎপাদিত হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রের দাবী।
ভূট্টা বিক্রেতা নুর আলম, আশু আলী, মোক্তার ও ফায়সাল জানান, কম্বনের খুইল্যা মিয়া হতে দেড় কানি জমির ভূট্টা ৬৪হাজার টাকায় ক্রয় করেছি। এরপর আধ কানি ১৯হাজার টাকায় মরিচ্যাঘোনার ঈমান হোছন হতে ক্রয় করেছি। আমাদের গড় ক্রয়মূল্য প্রতি পিস ৬/৭ টাকা পড়ে। সিদ্ধ করার পর ক্যাটাগরী আকারে ১০, ১৫, ২০টাকায় বিক্রি করে আমরা চলি। হ্নীলা বড় লেচুয়াপ্রাং এলাকায় এক রোহিঙ্গা ক্রেতা ভূট্টা চাষের মাঠ ক্রয় করে বিক্রির জন্য নিয়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়দের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প সমুহে এই ভূট্টার চাহিদা বেশী। তাই ভূট্টা বিক্রেতাদের ক্রেতার অভাব নেই।
ভূট্টা চাষী ঈমান হোছন জানান, এই ভূট্টা চাষে তেমন কষ্ট করতে হয়না। ভাল বীজ বাছাইয়ের পর পর্যাপ্ত পানি আর কীটনাশকের ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আর প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে ভাল ফলন পাওয়া যায়।
চিকিৎসক আর বিজ্ঞজনদের মতে, এই শস্যে প্রোটিন, চর্বি, আঁশ, ক্যালোরী ও পুষ্টিসমৃদ্ধ এই ফলদ শস্যটি সারা বছরই জনপ্রিয় থাকে। সিদ্ধ করা ভূট্টা উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে আকার ও মান ভেদে খুচরা প্রতিটি ভূট্টা ১০,১৫ ও ২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এই ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিসার ড. ভবসিন্ধু জানান, টেকনাফ উপজেলার ৫টি াইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষকেরা ২২৫ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষাবাদ করেছে। অত্র অফিসের অধীনে বিভিন্ন ইউনিয়নে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ, নির্দেশনা ও সার্বিক সহায়তায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষিখাতের প্রত্যেক শ্রেণীতে ভাল চাষাবাদ ও ফলন হচ্ছে।
এদিকে কৃষি অধিদপ্তরের কর্মীরা যেহারে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের শলা-পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে তাতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় না হলে ভাল ফসল উৎপাদনের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে সুশীল মহল মনে করেন। আর কৃষিখাতে আরো সফল হতে স্থানীয় কৃষকদের প্রণোদনার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিশেষ নজর রাখা দরকার। ###
