টেকনাফে ২২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরকীয়া প্রেমের জেরধরে স্ত্রীকে জবাই করে খুন করেছে স্বামী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : টেকনাফের ঊনছিপ্রাং রইক্ষ্যং পুটিবনিয়া ক্যাম্পে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে নিরুপায় হয়ে ক্ষুদ্ধ স্বামী জবাই করে খুন করেছে স্ত্রীকে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে এবং ঘাতক স্বামীকে আটক করা হয়েছে।

জানা যায়, ১০ আগষ্ট দুপুর দেড়টারদিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ২২নং রইক্ষ্যং শরণার্থী ক্যাম্পের রি-এলুকেশন-১, সি-২ ব্লকের ১৩৫নং রোমের বাসিন্দা দিল মোহাম্মদের পুত্র মোঃ এরশাদ (২৫) এবং তার স্ত্রী এক সন্তানের জননী নছিমা খাতুন (২২) এর মধ্যে দাম্পত্য কলহ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। স্ত্রী নাছিমা স্বামীর অবাধ্য হয়ে পরকীয়া প্রেমিক শফিক উল্লাহর সাথে মুঠোফোনে কথা বলে। এতে স্বামী ক্ষুদ্ধ হয়ে নিজ ব্লকের মাঝিকে মৌখিক সালিশ দায়ের করলে আমরা আসছি বলে উক্ত মাঝি এরশাদকে ধৈর্য্য ধারণ করতে বলে। মাঝিরা আসার পূর্বেই ক্ষুদ্ধ স্বামী বাড়িতে থাকা দা দিয়ে স্ত্রী নছিমাকে গলা কেটে জবাই করে খুন করে।

এই ঘটনার খবর পেয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মশিউর রহমান জানান,এই ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার সহায়তায় ঘাতক স্বামীকে আটক এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে পোস্ট মর্টেমের জন্য মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

উল্লেখ্য, ধৃত আসামী ঘরের সামনে ১টি দোকান দেয়। উক্ত দোকানে একই ব্লকের শফিক উল্লাহ আসা-যাওয়া করায় বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে। কোরবানের ঈদের আগে এরশাদ স্ত্রী,ছেলে এবং দোকান দেখাশুনার জন্য বন্ধু শফিক উল্লাহকে দায়িত্ব দিয়ে কক্সবাজারে কাজের সন্ধানে যায়। সে কাজে থাকার সুযোগে বন্ধু শফিক এবং স্ত্রী নাছিমার মধ্যে গভীর পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের এই অবৈধ মেলা-মেশার খবর স্বামী এরশাদের নিকট পৌছে। সে দ্রæত ঈদের আগে বাড়ি চলে আসে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। একদিন বন্ধু শফিক এবং স্ত্রী নছিমাকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেললে সাংসারিক কলহের সৃষ্টি হয়। ক্ষুদ্ধ স্বামী বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পের সিআইসির নিকট সালিশ দায়ের করেন। তাদের সংসারে সাড়ে ৩ বছরের এক ছেলে থাকায় উভয়কে সংযত হয়ে সংসার জীবন দিয়ে চালানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে স্ত্রী নছিমা তা অগ্রাহ্য করে পরকীয়া প্রেমিক শফিক উল্লাহর সাথে সংসারে আগ্রহী হওয়ায় তা নিয়ে প্রায় সময় কথা কাটাকাটি হয়। ###