টেকনাফ হাসপাতাল গেইট সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে সওজের জমি দখলের চিত্র
দখলকৃত জমিতে প্রভাবশালীরা রাতের অন্ধকারে নির্মাণ করে যাচ্ছে অবকাঠামো
নুরুল করিম রাসেল, টেকনাফ টুডে ডটকম |
টেকনাফে সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) জমি দখল অব্যাহত রয়েছে। দখলকৃত জমিতে প্রভাবশালীরা রাতের অন্ধকারে নির্মাণ করে যাচ্ছে পাকা স্থাপনা ও বালু ভরাট। দখলকৃত জমিতে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালালেও কয়দিন যেতে না যেতে ফের দখল অব্যাহত রেখেছে প্রভাবশালী মহল।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, টেকনাফ পৌর এলাকার প্রধান সড়কের দুইপাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে কাঁচা পাকা অসংখ্য স্থাপনা। আর এসব স্থাপনা নির্মাণ করে দখলদাররা সেখানে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকান, ক্লাব, খড়ের স্তুপ, নার্সারী, ইট বালুর ব্যবসাসহ নানা ধরনের বানিজ্যিক কর্মকান্ড। উদ্দেশ্য সড়কের পাশের জমির অবৈধ দখল। এতে সড়কের জমি চিরতরে বেহাত হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি সংকোচিত হয়ে পড়ছে ফুটপাত, দখল হয়ে যাচ্ছে সড়ক বিভাগের জমি। ফলে যানজট নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। আবার এসব জমির অবৈধ দখল প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ঘটছে দাঙ্গা-হাঙ্গামা।
সম্প্রতি টেকনাফ হাসপাতাল গেইট সংলগ্ন প্রধান সড়কের পশ্চিম পাশে ৭৭ তম কিলোমিটারের পাশে প্রায় ৯ শত বর্গফুট জমি দখল করে রাতের অন্ধকারে বালু ভরাট করে তাতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জনৈক সালেহ আহমদ। শুধু তাই নয় সড়কের পাশে বিশাল জমি দস্তুরমতো ঘেরা দিয়ে সে দখল প্রতিষ্ঠা করেছে। আর রাতের অন্ধকারে সেখানে বালু ভরাট ও নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
গত বছরের ২৪ অক্টোবর সওজের পক্ষ থেকে দখল ছেড়ে দিতে সালেহ আহমদকে নোটিশ প্রদান করেছিলেন। পরবর্তীতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদ হোসেন সিদ্দিক গত ডিসেম্বর মাসে উক্ত স্থানে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে জমিটি দখলমুক্ত করেন। কিন্তু সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বদলী ও নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার যোগদানের সুযোগে সালেহ আহমদ ও তার ছেলেরা সেখানে পুনরায় দখল অভিযান শুরু করে। তারা রাতের অন্ধকারে বালু দিয়ে জমি ভরাট ও সেখানে ঘেরা দিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। শুধু তাই নই তারা সড়কের পাশে বিশাল জমি ঘেরা দিয়ে তাদের দখল প্রতিষ্ঠা করেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সড়কের পাশের এই জমি সওজ বিভাগ অধিগ্রহন করে বহু বছর আগে। অধিগ্রহনকৃত জমির বিপরীতে ১৯৬২-৬৩ সনে ক্ষতিপুরনও প্রদান করা হয় জমি মালিককে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, সড়ক বিভাগের জমিতে ভুয়া খতিয়ান সৃজন করে দখল পাকাপোক্ত করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে উক্ত মহলটি।
এছাড়া পৌর এলাকার পুরাতন ট্রান্সপোর্ট এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সংলগ্ন সড়কের পাশে জমি দখল করে তাতে পিলার স্থাপন করেছে টেকনাফ বাস স্টেশন যুব সমাজ একতা সমবায় সমিতি লিমিটেড (রেজি নং- ২২৫৬, স্থাপিত ২০-০৪-২০১৭) নামে একটি সংগঠন। শুধু তাই নই এ সংগঠনের নাম দিয়ে দস্তুরমত নির্মাণ কাজ চলার সাইনবোর্ডও টাঙ্গানো হয়েছিল তাতে। পরে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সাইনবোর্ড গুলো সড়ানো হলেও এখনো দখল ছাড়েনি তারা।
এব্যাপারে বক্তব্য জানতে সালেহ আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবী করেন ঘেরা দেওয়া জমিটি তার ক্রয়কৃত জমি। তিনি সড়কের জমি দখল করেননি বলে দাবী করেন। তাহলে সওজ থেকে কেন নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল এবং ইউএনও কেন উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি সওজের কোন নোটিশ পাননি। এছাড়া ইউএনও তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন না পেয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিলেন। (বক্তব্যটির রেকর্ড রয়েছে প্রতিবেদকের কাছে)
এর আগে সালেহ আহমদের ছেলে সাকেরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উদ্ধত্যভাবে জানিয়েছিলেন আপনার যা ইচ্ছা তাই লিখেন কোন অসুবিধা নেই। পরে তার পিতার নাম্বার সংগ্রহ করে বক্তব্য নেওয়া হয়।
অপরদিকে টেকনাফ বাস স্টেশন যুব সমাজ একতা সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি জিয়াউর রহমান ও সাধারন সম্পাদক মোঃ আলমগীরের কাছে অবৈধ দখলের ব্যাপারে জানতে চাইলে জানিয়েছিলেন, এখানে সমিতির অফিস ঘর করার জন্য জমিটি দখল করেছেন, সরকার চাইলে আমরা জমি ছেড়ে দেব।
এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী শফিক রায়হান জানান, টেকনাফ এলাকায় প্রধান সড়কটি ক্ষেত্র বিশেষে একশত ফুট থেকে একশত বিশ ফুট। অর্থাৎ সড়কের মাঝখান থেকে উভয় পাশে ৫০ ফুট থেকে ৬০ ফুট সড়কের জমি। বহু বছর আগে এই জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে। কেও এ জমি দখল করলে তা থেকে উচ্ছেদ করা হবে। তাছাড়া টেকনাফে দখলদারদের শনাক্ত করা হয়েছে। শীগগীরই উচ্ছেদ অভিযানে নামবেন বলে জানান তিনি।
