৫ দফাসহ সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবীতে টেকনাফে ফারিয়ার মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

বার্তা পরিবেশক : সরকারি নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী ৭ম গ্রেড সমপরিমাণ বেতন নির্ধারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ এসোসিয়েশন (ফারিয়া)। শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর সামনের সড়কে সংগঠনটির টেকনাফ শাখা এই কর্মসূচি পালন করে। দাবিসমূহ হলো -বর্তমান মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে টিএ ডিএ প্রদান, চাকুরির নিরাপত্তা ও নিশ্চয়তা বিধানসহ একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, ফারিয়াকে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান ও সাপ্তাহিক ছুটিসহ সকল জাতীয় ছুটি ভোগের বিধান রাখা। ফারিয়া টেকনাফ শাখার সভাপতি রাশেদ উদ্দিন র সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও সমাবেশে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন -ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদেরকে যেনতেনভাবে ব্যবহার করলেও উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেয় না। বরং কথায় কথায় ছাঁটাই করে। বছরের পর বছর চাকুরি করেও পদোন্নতি পায়না সিংহভাগ কর্মকর্তা। মাসিক টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে বেতন থেকে টাকা কেটে নেয় অনেক কোম্পানি। যে কারণে অনেককে শূন্য পকেটে মাস শেষে বাড়ি ফিরতে হয়।
সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসাইন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নাচির উল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ফারিয়ার ১ম সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, পিএমএ চেয়ারম্যান শাহ আলম, ফারিয়া কেন্দ্রীয় সহ অর্থ সম্পাদক নুরুল কবির, পিএমএ সভাপতি দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফারিয়া র কার্যকরী সদস্য জামাল হোসাইন, পিএমএ সেক্রেটারি আবুল ইসলাম, কক্সবাজার জেলা ফারিয়া সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার কামাল, টেকনাফ ফারিয়া র সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান, বর্তমান সহসভাপতি মিরাজ উদ্দিন, সহসেক্রেটারি আজিম উদ্দিন প্রমুখ। টেকনাফ এলাকায় কর্মরত বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করে। ওইসব প্ল্যাকার্ডে লেখা হয়েছে -‘৪-পিসহ সব ধরনের এনজিও সার্ভে এবং প্রেসক্রিপশনের অনৈতিক ছবি তোলা বন্ধ করা’, ‘বেতনের যুক্তিসঙ্গত একটি ন্যূনতম সীমা নির্ধারণ’, ‘সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে ভিজিট সীমাবদ্ধতা উঠিয়ে দেয়া’, ‘প্রতিটি কোম্পানিতে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্র্যাচুয়িটি চালু’, ‘প্রত্যেক প্রতিনিধির জন্য ইন্সুরেন্স পলিসি করা’, ‘ব্যাংক চেক বা মূল সনদ জমা না নেয়া’, ‘সেলস ও মার্কেটিং বিভাগ আলাদা করা’, ‘প্রতিটি কোম্পানিতে উৎসব বোনাস চালু।’ মানববন্ধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ফারিয়ার ১ম সহসভাপতি আবু সুফিয়ান এর বক্তৃতায় বলেন “আমাদের ন্যায্য দাবি সরকার অচিরেই বাস্তবায়নে পদক্ষেপ না নিলে দেশব্যাপী লাগাতার কর্মসূচিসহ কর্মবিরতি পালন করা হবে। ঔষধ কোম্পানী প্রতিনিধিদের ন্যায্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালাসহ ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য আমরা ২০১৫ সাল থেকে দেশব্যাপী কয়েক দফা মানববন্ধন ও সমাবেশ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি পেশ করি। কিন্তু সরকার কোন প্রকার সুদৃষ্টি দিচ্ছে না। তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে আমরা আবারো মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছি”।
এসব দাবি নিয়ে রবিবার (২০ অক্টোবর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।