অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্ব-১
স্টাফ রিপোটার, টেকনাফ :
দেশ ব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান এবং বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীরা খুনের পর থেকে টেকনাফ সীমান্তের স্থল ও নৌ-পথে বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক/ইয়াবার জোয়ার অনেকাংশ হৃাস পেয়েছে। এরপূর্বে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে প্রনিয়তই মাদক জব্দ বা আটক হতো। এখন সে ধরনের দৃশ্যমান কোন খবরা খবর সংবাদকর্মীদের কানে আসছেনা। দেশ ব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান চলমান থাকা এবং বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীরা নিহতের পর থেকে এর প্রভাব পড়েছে গোটা সীমান্ত এলাকাজুড়ে। অভিযান চলমান থাকলে মাদক ও রোহিংগা অনুপ্রবেশ অনেকাংশ কমে যাবে। এসব অভিমত টেকনাফ সীমান্তের সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের। সরকার এর রোধে জিরো ট্রলারেন্স নীতিতে বদ্ধপরিকার। নির্বাচনী বছরে সরকার এ পদক্ষেপ হাতে নেয়ার পর সীমান্ত এলাকার সচেতন মহল সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধারা অব্যাহত থাকুক। এমন প্রত্যাশা আমাদের । মাদক হচ্ছে, সকল অপকর্ম ও অশ্লীলতার মূল। এটি হাদীসের বাণী হলেও তাহা বাস্তবতা নিরীখে প্রমাণিত। পৃথিবীর কোন ধর্মে মাদককে বৈধ বলেনি বরং ঘৃনা করেছে। চলতি বছর ১লা মে থেকে দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান ও বন্দুকযুদ্ধ একযোগে শুরু হয়। এতে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে খুচরা মাদক/ইয়াবা ব্যবসায়ী আটক এবং বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও মাদকের ডনরা থেকে যায় ধরা ছোয়ার বাইরে।
২০১৩ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা ৬ এর ৩০ ডিসেম্বর এক স্মারকপত্রের সূত্রে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও গোয়েন্দা) প্রনব কুমার নিয়োগীর স্বাক্ষরিত ২৩ জানুয়ারী/১৩ একটি বিশেষ প্রতিবেদনে ৭৬৪ জনের মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকাভূক্ত করে। উক্ত তালিকায় টেকনাফ সীমান্ত উপজেলার পৌরসভাসহ ৬ ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়ীদের মাদকের তালিকাভূক্ত করে এবং এতে রাজনৈতিক দলের নেতা জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সমাজের বিভিন্নস্থরের লোকজনের নাম স্থান পায়। ঐ মাদক তালিকানুসারে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী চলমান দেশ ব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা দৃশ্যমান না হওয়ায় ওরা পার পেয়ে গিয়েছিল। ফলে মাদক ব্যবসা ও পাচার থামেনি বরং অতীতের তুলনায় ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। শুধু মাত্র বন্দুকযুদ্ধে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হলেও মাদকের বিরুদ্ধে এ অভিযান তেমন প্রভাব পড়েনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এখন থেকে এ পর্যন্ত মাদক বিরোধী অভিযান আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে মাদক ব্যবসায়ী আটক ও নিহত হয়েছিল, তাদের মধ্যে অনেকেই খুচরা মাদক ব্যবসায়ী। অপরদিকে রাঘব বোয়াল মাদক ব্যবসায়ীরা ছিল ধরাছোয়ার বাইরে। এমতাবস্থায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের প্রণীত মাদক তালিকাটি তেমন কার্যকর ও আশার আলো রাষ্ট্রকে দেখাতে পারেনী। যার প্রেক্ষিতে মাদকের ভয়বহতা ও প্রসারের ফলে অবশেষে সরকার দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযানে নামে। এতে সরকার প্রায় সফলতা অর্জন করে। এ অভিযানে প্রকৃত ইয়াবা ব্যবসায়ী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আতœগোপনে থাকায় তাদের মাদক সিন্ডিকেট ভেঙ্গে পড়লে মাদক ব্যবসা ও পাচার প্রায় ঝিমিয়ে পড়ে। এছাড়া মাদকের কালোটাকার অর্জিত সম্পদ ও রাজপ্রাসাদ বাজেয়াপ্ত ঘোষনার কথা শুনার পর ওরা আরো বেকায়দায় পড়ে যায়।
এখন মাদক বিরোধী অভিযান ঝিমিয়ে পড়ায় তালিকাভূক্ত মাদক গডফাদার, ব্যবসায়ীরা ধীরে ধীরে এলাকায় চলে আসতে শুরু করেছে। ওরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে বলে একাদিক সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ওরা কতিপয় আইন শৃংখলা বাহিনীকে মাসভিত্তিক নজরানা এবং উপটৌকন দিয়েই ওরা এলাকায় অবস্থান করছে এবং ফের মাদক ব্যবসায় জড়িত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে, এলাকায় থাকতে হলে আইন শৃংখলা বাহিনীকে নজরানা দিতে হলে, মাদক ব্যবসা করতে হবে। নইলে এ অর্থ আমরা পাব কোথায় ?
এ নিয়ে এ প্রতিবেদক তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করতে যাচ্ছে।
এ প্রসংগে সঠিক তথ্য উপাত্য দিতে (০১৮১৮০৮৭৩০৪) নাম্বারে যোগাযোগ করার জন্য বলা হচ্ছে। নাম গোপন করা হবে।
টেকনাফ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আসাদুজ্জামান বলেন, জ্বলস্থলে চলমান মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ীরা দেশও জাতীর স্বার্থে এদেরকে কোন মতেই ছাড় দেয়া যাবেনা।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও,সি) রনজিত কুমার বড়–য়া বলেন, মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থাকবে। কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না।
