হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে আসন্ন ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ৩য় ধাপের নির্বাচনে রাত পোহালেই ভোট গ্রহণের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। ৬০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ইতিমধ্যে ৫৯টি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটের সরঞ্জাম ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য অবস্থান করলেও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে সরঞ্জামাদি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এইবারের নির্বাচনে সাবেক দুই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ জাফর আহমদ ও নুরুল আলমের মধ্যে মূলত প্রতিদ্বন্দিতা হচ্ছে। এই মর্যাদার লড়াইয়ে কে হাসছে বিজয়ের শেষ হাসি তা ভোট গণনার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জানা যায়,২৮মে সকাল হতে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৬০টি কেন্দ্রে টেকনাফ উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য পর্যাপ্ত কর্মকর্তা, সরঞ্জাম ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য প্রেরণের কার্য্যক্রম শুরু হয়। বিকাল ৫টার মধ্যে উপজেলার ৫৯টি ভোট কেন্দ্রে সব কিছু পৌঁছানো গেলেও দূর্যোগ আবহাওয়ার কারণে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের ১টি কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে জানান সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান। ভোটের দিন সকালে ওই কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জামাদি পৌঁছানো সম্ভব না হলে এই বিষয়ে সকালেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

এদিকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রার্থী থাকলেও মূলত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমদ (আনারস) ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম (টেলিফোন), পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে মৌলানা রফিক উদ্দিন (মাইক), সরওয়ার আলম (টিউবওয়েল) ও আবু ছিদ্দিক (চশমা) এবং সংরক্ষিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহেরা আক্তার মিলি (পদ্ম ফুল), মর্জিনা আক্তার মদিনা (ফুটবল) এবং গোলাপজান (কলসী) প্রতিক নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন।

রাত পোহালেই আগামী ২৯মে সকাল ৮টা হতে শুরু হয়ে একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার ১লাখ ৮০হাজার ৮শ ৩জন নারী-পুরুষ ভোটারদের ভোট গ্রহণ চলবে। এতে পুরুষ ভোটার ৯২হাজার ৭৫জন এবং নারী ভোটার ৮৮হাজার ৭শ ২৬জন এবং হিজড়া ২জনসহ মোট ভোটারেরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন বলে আশায় রয়েছে প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীসহ সাধারণ মানুষ।
প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীদের অনেক শুভাকাংখী ও রাজনৈতিক বোদ্ধামহল মনে করেন, টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন ক্ষমতা কুক্ষিগত করা আর বিকেন্দ্রিকরণ, স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তার, উত্থান-পতনসহ বিবিধ ইস্যু জড়িত রয়েছে।
উল্লেখ্য, টেকনাফ উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্রে কোন ধরনের আইন-শৃংখলার অবনতি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণ র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের বিশেষ টিমের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে স্ট্রাইকিং ফোর্স। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কেন্দ্রে স্ট্রাইকিং ফোর্সের টহল করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল প্রকাশিত হলেই দেখা যাবে এই নির্বাচনে বিজয়ের শেষ হাসি কোন কোন প্রার্থী হাসছে। ###
