বার্তা পরিবেশক ।
টেকনাফে মামলা তুলে নিতে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের দফায় দফায় হামলায় প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে একটি পরিবার। সন্ত্রাসীরা হামলা ও লুটপাত চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি ভিটেবাড়ী হতে উচ্ছেদ করতে সেমিপাকা বাড়ীর দেওয়াল, দরজা-জানালা পর্যন্ত ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের হামলায় আহত হয়েছে নারীসহ দুইজন। এতে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ওই পরিবারের সদস্যরা। গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেষখালীয়া পাড়া এলাকায় পঙ্গু আবুল বশরের বাড়িতে দফায় দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও হামলা-ভাংচুর ও আহতের ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করতে পারেনি।
জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের মহেষখালীয়া পাড়া এলাকায় জমিজমা সংক্রান্ত ঘটনায় মৃত ফয়েজুর রহমানের ছেলে আবুল বশরের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল একই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলামের সাথে। সেই বিরুধে আবুল বশরের পরিবারের বিরুদ্ধে নুরুল ইসলামের সাথে জোট বাঁধে একই এলাকার ইউপি মেম্বার হামিদ ও তার ভাইয়েরা। আর এই দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের দফায় দফায় স্বশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন আবুল বশরের শ্যালক দেলোয়ার। এছাড়া তাদের হামলায় এক পা হারিয়ে পঙ্গু জীবন যাপন করছেন আবুল বশর ও সারা শরীরে অসংখ্য ক্ষত নিয়ে কোনরকমে বেঁচে আছে ছেলে মিজান। তাদের মিথ্যা মামলা, হামলা ও নির্যাতনে পরিবারটি যখন দিশেহারা সেই অবস্থায় গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর মামলা তুলে নিতে স্বশস্ত্র হামলা চালায় আবুল বশরের বাড়িতে।

প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়ানো পঙ্গু আবুল বশর ও তার পরিবার
আবুল বশর ও তার পরিবার জানায়, হামলাকারীরা অত্যন্ত প্রভাবশালী তার উপর ইয়াবার কালো টাকায় তারা দিনকে রাত রাত কে দিন করতে কুন্ঠাবোধ করছেনা। এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। কেউ মুখ খুললেই তার বিরুদ্ধে নেমে আসে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন। ওই সন্ত্রাসীরা প্রায় সবাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারী এবং বিভিন্ন সময় তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল। তারপরও তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও ইয়াবার কারবার একদিনের জন্যও থেমে থাকেনি বলে জানিয়েছেন তিনি। উক্ত সন্ত্রাসীরা গত গত ১০/১১/২০১৭ ইং মহেষখালীয়া পাড়া এলাকায় স্বশস্ত্র হামলা চালিয়ে আবুল বশরের এক পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং এই বছরের ১৫ই জুন তারা আবুল বশরের শ্যালক দেলোয়ারকে হত্যা করে। উক্ত হত্যা ও হত্যাচেষ্টা সহ অন্যান্য ঘটনায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ৬টি পৃথক মামলা দায়ের করেন আবুল বশর।
এর আগে ২০০১ সালে আবুল বশরের পিতা মৃত ফয়েজুর রহমান পরিবারের নিরাপত্তার জন্য টেকনাফ থানায় ডাইরী করেন যার নং-৬৮১। ২০১৩ সালে আবুল বশর বাদী হয়ে আজিজুর রহমান, আব্দুল হামিদ সহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। তাদের এ বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছিল।
তারই জের ধরে সর্বশেষ গত ১৮ই সেপ্টেম্বর রাতে নুরুল ইসলামের ছেলে মো: শফিকের নেতৃত্বে তার সহোদর মো: তারেক, মো: রাশেদ, মৃত নুরুল আলমের ছেলে শামীম, মৃত আব্দুল হাশিমের ছেলে মো: আমিন, আজিজুল হক, আব্দুর রব, আব্দুল খলিলের ছেলে মো: তৈয়ুব, আব্দু রশিদের ছেলে মো: হোসেন, বশির আহমদের ছেলে আনোয়ার হোসেন, মৃত কবির আহমদের ছেলে মো: ইসলাম, মৃত ছিদ্দিক আহমদের ছেলে আব্দু শুক্কুর, আবুল খাইরের ছেলে মো: মোসা, মো: মুসার ছেলে মো: রাশেল, মৃত খুইল্লা মিয়ার ছেলে আব্দু সালাম, মৃত আব্দু সাত্তারের ছেলে রশিদ আহমদ, মৃত তমিম গোলালের ছেলে আবুল হোসেন, দলিল আহমদের ছেলে নবী হোসেন সহ ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী বশরের বাড়িতে গিয়ে পূর্ব হামলায় আহত ও প্রায় পঙ্গু আবুল বশরের ছেলে মিজানকে তার ক্ষত স্থানে পুনরায় দা-কিরিচ দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে মারধর করে আহত করে। এসময় তার মা শামসুন নাহার বাঁধা দিতে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকেও মারধর করে শরীরে কুপ দেয়। এসময় সন্ত্রাসীরা আবুল বশরের পরিবারকে পরদিন আদালতে গিয়ে মামলা তুলে নিতে শাসিয়ে দেয়। পরদিন আবুল বশর মামলা তুলে না নেওয়ায় সন্ত্রাসীরা রাতের বেলা আবুল বশরের বসত বাড়িতে ঢুকে বাড়িঘরে ভাংচুর ও লুটপাত চালায়। সন্ত্রাসীরা সেমিপাকা বাড়িটির দেওয়াল পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলে ও বাড়ির আসবাব পত্র, মালামাল এমনকি দরজা জানালা পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়। এসময় বাড়িতে থাকা পঙ্গু আবুল বশর, তার স্ত্রী শামসুন নাহার ও ছেলে মিজান প্রাণভয়ে পালিয়ে যায়। সেই থেকে আবুল বশরের পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। হামলার ঘটনার পরপর দুইবারই টেকনাফ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরদিন আবুল বশর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রনজিত কুমার বড়–য়ার সাথে দেখা করে হামলার ঘটনা জানান ও এব্যাপারে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন বলে জানান।


এদিকে হামলাকারী সন্ত্রাসীরা বহাল তবিয়তে এলাকায় স্বশস্ত্র অবস্থান নিয়ে ইয়াবা ব্যবসায় সহ তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে মহেষখালীয়া পাড়া এলাকার কয়েক হাজার জনসাধারন উক্ত সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। উক্ত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে আইন শৃংখলা বাহিনীর প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

কয়েকমাস আগে ইয়াবাসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক তারেক জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় ইয়াবা ব্যবসা ও সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয়।
প্রসঙ্গত এই সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য আবুল হাশিমের ছেলে মোহাম্মদুল হক কয়েকদিন আগে ইয়াবাসহ শামলাপুরে র্যাবের হাতে ও নুরুল ইসলামের ছেলে আরিফ কক্সবাজারে একটি ডাকাতি প্রচেষ্টা মামলায় আটক হয়ে উভয়ে কারাগারে রয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া অপর সন্ত্রাসী তারেক কয়েকমাস আগে ইয়াবাসহ আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও বর্তমানে জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় ইয়াবা ব্যবসা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে বলে স্রূত্রে জানা গেছে।

গত ১৩ই সেপ্টেম্বর ইয়াবাসহ র্যাব এর হাতে আটক সন্ত্রাসী মোহাম্মদুল হক
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রনজিত কুমার বড়ুয়া জানান, সন্ত্রাসী ও ইয়াবা কারবারীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।