টেকনাফে মাদ্রাসা ছাত্রীর ধ*র্ষ*ণ চেষ্টা মামলা তুলে না নেওয়ায় বাদীপক্ষকে প্রাণে মা*রা*র হুমকি!

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

বার্তা পরিবেশক : টেকনাফ পৌর এলাকায় আয়েশা ছিদ্দিকা বালিকা মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে উক্ত্যতে বাঁধা দেওয়ায় ধর্ষণ চেষ্টা এবং হামলায় রক্তাক্ত করার মামলা তুলে না নেওয়ায় এবার বাদীপক্ষকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে প্রভাবশালী বাদীপক্ষ।

বাদীর অভিযোগে জানা যায়,গত ৪ঠা অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টারদিকে টেকনাফ পৌর এলাকার ৩নং ওয়ার্ড কায়ুকখালী পাড়ার মিয়া হোছনের পুত্র সব্বির আহমদ ওরফে সাবিয়া (৪২) গং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-০৩, ককসবাজার। সূত্র ঃ-সি.পি মামলা নং-২১৯/২০২৩ইং চলমান রাখায় বাদিনী স্থানীয় মোহাম্মদ শফির স্ত্রী রমিদা খাতুন (৩৪) গংকে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজ করে। অবিলম্বে এই মামলা তুলে না নিলে বাদিনীপক্ষের লোকজনকে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী দিয়ে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করে জীবনের নিরাপত্তা দাবী করেছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের গত ১২ই আগস্ট বিকাল ৪টারদিকে আয়েশা ছিদ্দিকা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৬ষ্ট শ্রেণী পড়–য়া মেয়ে (১৩) বাড়ি ফেরার পথে ১নং আসামী সব্বির আহমদ সাবিয়া বসত-ভিটায় লোকজনের আনা-গোনা না থাকায় পেছনে পেছনে এসে যৌন কামনা চরিতার্থ করার অসৎ উদ্দেশ্যে অধীন বাদীনির বাড়িতে ঢুকে ভিকটিম উম্মে সুলতানাকে ধর্ষনের উদ্দেশ্যে ঝাপটাইয়া ধরে বিবস্ত্র করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গে স্পর্শ করিতে থাকে। বাদিনীর কন্যা ভিকটিম নিজের সম্ভ্রম ও সতীত্ব রক্ষার্থে সাবিয়াকে প্রাণপণে বাঁধা প্রদান করে। ফলে ভিকটিমের বুকের বাম পার্শ্বে,নিতম্বে, উভয় রানে জখম প্রাপ্ত হয়। নাবালিকা ভিকটিম প্রাণ রক্ষার্থে আর্তচিৎকার করলে মাহমুদা, মোঃ আলী, শাহিনা ঘটনাস্থলে এসে সাবিয়াকে হাতে-নাতে আটক করে। সাবিয়াকে হাতে-নাতে আটকের খবর পেয়ে তাকে উদ্ধারের জন্য সাবিয়ার দুই পুত্র ও স্ত্রীসহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন সন্ত্রাসী বাড়িতে স্বশস্ত্র অবস্থায় অনাধিকারে প্রবেশ করে মাহমুদা, মোহাম্মদ আলী, শাহীনা ও ভিকটিমকে মেরে কাঁধে, বুকে কিল, ঘুষি, লাথি এবং কিরিচের কোপ মেরে রক্তাক্ত করে চলে যায়। পরে মোহাম্মদ শফি, নুরুল কবির ও মোঃ ছালামসহ স্থানীয় লোকজন মিলে আহত ও রক্তাক্তদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে মোহাম্মদ আলীর অবস্থায় গুরুতর হওয়ায় কক্সবাজার হাসপাতালে রেফার করা হয়।

উক্ত বিষয়ে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে আসামীরা প্রভাবশালী হওয়ায় থানা পুলিশকে মামলা নিতে দেয়নি। পরে আদালতে নামীয় ১০জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তে আসলে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে এই ধরনের জঘন্য ঘটনার আশ্রয় নেয়।

এই প্রভাবশালী সাবিয়া ২০১৯সালের ১৯নভেম্বর আমার আরো এক মেয়েকে অপহরণ করে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়েছিল। এই সাবিয়া অগাধ টাকার মালিক হওয়ায় টেকনাফের প্রভাবশালীদের সাথে সখ্যতা থাকায় নানা ধরনের অপরাধ করে বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানীয় মোহাম্মদ আইয়ুব নিরুপায় হয়ে স্বপরিবার কক্সবাজার গিয়ে বসবাস করছে।

এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা টেকনাফ মডেল থানার এসআই মনিরুল ইসলাম জানান, মামলাটি আমার হাতে তদন্তাধীন রয়েছে। শীঘ্রই এই বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হবে।

এই ধর্ষণ চেষ্টা মামলার বাদী ও ভিকটিমের পরিবার এখন আসামীদের অব্যাহত হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। এই মামলার বাদীপক্ষ আইন-শৃংখলা বাহিনীর নিকট জীবনের নিরাপত্তা দাবীর পাশাপাশি চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রæত আইনের আওতায় আনার জোর দাবী জানিয়েছে। ##