বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফে বিগত এক মাসে সীমান্ত অপরাধের তথ্য-বিশ্লেষণে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নাফনদীর বুকে মিয়ানমারের মালিকানাধীন দ্বীপ সমুহে স্বশস্ত্র মাদক কারবারী দূবৃর্ত্তরা অবস্থান নিয়েছে। এপারে এসব মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে আত্নস্বীকৃত এবং স্ব স্ব এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারী। রাতে অন্ধকারে এসব কারবার কৌশলে গোপন রাখা হলেও প্রকাশ্য ২টি ঘটনায় কারা কারা এসব অপরাধে জড়িত তা বের করার দাবী উঠেছে।
জানা যায়,গত ৮জানুয়ারী (শনিবার) রাত পৌনে ৮টারদিকে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের হ্নীলা বিওপির বিশেষ টহল দল মিয়ানমার থেকে মাদকের চালান আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোয়াব্রাং সংলগ্ন বেড়িবাঁধের আড় নিয়ে কৌশলে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর দুইজন চোরাকারবারী নাফনদী অতিক্রম করে বাংলাদেশ সীমান্তের বেড়িবাঁধের দিকে আসতে দেখে। তখন তাদের দাড়ানোর জন্য চ্যালেঞ্জ করে বিজিবি টহলদল সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। চোরাকারবারীরা বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে কুয়াশার সুযোগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের ভেতর দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশী করে ৩কোটি ৬০লক্ষ টাকা মূল্যমানের ১লাখ ২০হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। পরদিন মুঠোফোন থেকে কল করে এক সোর্সকে অপহরণ করার হুমকি দেওয়া যায়।
গত ২৬ জানুয়ারী রাতে খারাংখালী বিওপির আওতাধীন নয়াবাজার পয়েন্ট দিয়ে মাদকের চালান খালাসের সংবাদ পেয়ে ব্যাটালিয়ন সদর ও বিওপির পৃথক কয়েকটি টহল দল মাদক বিরোধী অভিযানে গিয়ে ১লাখ ৮০হাজার ইয়াবা উদ্ধার করে। সীমান্ত রক্ষী জওয়ানেরা মাদকের চালান আটকের নামে দূবৃর্ত্তরা লুটপাট করেছে মনে করে নাফনদীর চরে স্বশস্ত্র অবস্থানে থাকা ডাকাত দল বেড়িবাঁধে উঠে এসে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। পরে বিজিবি শক্তি সংশয় করে জলে ও স্থলে তৎপর হলে স্বশস্ত্র মাদক কারবারীরা পিছু হটে। তারা ফিরে যাওয়ার সময় মাদকের চালান খালাস করতে যাওয়া হ্নীলা মৌলভী বাজার অইর পাড়ার মৃত আব্দুস সালাম ওরফে প্রেমের বাক্সুর পুত্র হাবিব উল্লাহকে অপহরণ করে দ্বীপে নিয়ে যায়। তা নিয়ে প্রভাবশালী এবং তালিকাভূক্ত মাদক কারবারীদের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অপতৎপরতার তথ্য ফাঁস হওয়ার আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে অপহৃত হাবিব উল্লাহর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় অপহরণকারীরা ফেরত দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জনের সাথে যোগাযোগ করে। পরদিন রাত সাড়ে ৭-৮টারদিকে ঝিমংখালী বিওপির আওতাধীন দূর্গম পয়েন্ট দিয়ে হাবিব উল্লাহকে ফেরত এনে কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাকে আটক করে প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করার দাবী উঠলে তাকে চট্টগ্রাম রেফঅর দেখিয়ে আত্নগোপনে নেওয়া হয়। সে কি চট্টগ্রামের কোন প্রাইভেট ক্লিনিকে না খারাংখালী তার আতœীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছে তা স্পষ্ট করা যাচ্ছেনা। এসব চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কেউকিছু বললে বিশেষ মহলের ইন্দনে অপপ্রচার চালানো হয় বলে প্রচার করে। তাই স্পটে থাকাদের মুখ থেকে প্রকৃত অপরাধী কারা তা বের করে দ্রæত আইনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে।
এই ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার বেলাল উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি পরদিন বিকালে নিশ্চিত হয়েছি।
উল্লেখ্য, ঐদিন নয়াবাজার, মৌলভী বাজার ও হোয়াব্রাং পয়েন্ট দিয়ে পৃথকভাবে ৫লাখের মতো ইয়াবার চালান খালাস হয়। কিছু অংশ মালিকদের হাতে গেলেও বেশীর ভাগ আটক এবং ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে লূটপাট হয় বলে গুজব উঠেছে।
গত ২৫ জানুয়ারী এবং ৩০ জানুয়ারী রাতে হ্নীলা চৌধুরী পাড়ায় সক্রিয় থাকা সীমান্ত অপরাধীদের সহায়তায় মাদকের চালান খালাস করে আলীখালী এলাকায় সক্রিয় থাকা আত্নস্বীকৃত আরো ১টি ইয়াবা কারবারী সিন্ডিকেটের নিকট পৌঁছে দেওয়ার গুঞ্জন বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে।
পুরো টেকনাফের নাফনদী এবং সাগর উপকূলীয় এলাকার প্রত্যেকটি গ্রামের কয়েকজন আত্নস্বীকৃত এবং এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারীদের সমন্বয়ে এখনো মাদকের অপতৎপরতা রয়েছে।
এদিকে মিয়ানমার থেকে মাদকের চালান এনে বাংলাদেশ অভিমুখে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রোহিঙ্গা মাদক কারবারী গ্রুপের লোকজন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের মালিকানাধীন তোঁতার দ্বীপ হতে দমদমিয়া সংলগ্ন লালদ্বীপ পর্যন্ত স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা মাদক কারবারীরা মিয়ানমার সরকার থেকে লীজ নিয়ে মৎস্য চাষের নামে মাদকের চালান মওজুদের আস্তানা গড়েছে। তাই তারা নিজস্ব দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে স্বশস্ত্র অবস্থায় মাদকের এপারে ঠেলে দিচ্ছে।
এসব বিষয়ে বিষয়ে মহলের সাথে আলাপকালে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এসব চক্রের শেকড় খুব গভীরে। তাদের শেকড় উত্তোলনের জন্য কাজ চলছে। সময় এলেই সব রাঘব-বোয়ালদের মুখোশ উম্মোচন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ###
