ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি :
কক্সবাজার’র টেকনাফ রোহিঙ্গাদের বিচরন ভূমিতে পরিনত হয়েছে। রাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের এই অঞ্চলে মানবতার খাতিরে আশ্রয় দেয়ার কথা জানিয়েছে। প্রতিদিন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজন এসে ত্রান সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। সূত্রে দাবী,এই পর্যন্ত যে ত্রান সহায়তা এসেছে তা দিয়ে টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের খাদ্য সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব। কিন্তু সঠিক ভাবে বন্টনের অভাবে অধিকাংশ রোহিঙ্গা না খেয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে।মায়ের দুধ্যজাত বাচ্চা শিশুদের খাবারের দিকে নজর নেই কারো! ফলে বাচ্চারা একেবারেই খাবার বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলার পৌর শহর রোহিঙ্গাদের জন্য সাম্প্রতিক সাপ্লাই পয়েন্টে পরিনত হয়েছে।এই অঞ্চলের সকল ঘাট দিয়ে প্রবেশ করে বাস স্টেশন জামে মসজিদ এলাকায় অবস্থান নিতে আসে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নর নারী শিশু।সবার মুখে অজানা আকুতি।৪/৫ বছরের বাচ্চারা লোক জন দেখলেই খাবারের জন্য ছুটে আসে।এভাবে রোহিঙ্গারা আসছে আবার ক্যাম্প গুলোর উদ্দ্যোশ্য চুটছে।নিত্য পন্যের দাম বেড়েছে দুই থেকে তিন গুন।এটাই টেকনাফের নিত্যদিনের চিত্র।দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রোহিঙ্গাদের সাহায্য নিয়ে হাত বাড়িয়ে আসছে ব্যক্তি বা প্রতিষ্টান।
গত বুধবার ভোর বেলা থেকে সন্ধ্যাঅবদি সরেজমিন চিত্রে দেখা গেছে,স্বপ্নের আনোয়ারা,হাটহাজারী কলেজ গেইট ,বাশঁখালী পুকুরিয়া কওমি মাদ্রাসা,চকরিয়া এলাকা বাসীর নামে ৩ টি ট্রাকে করে বিভিন্ন শুকনো খাবার,ঔষুধ এবং তৈজসপত্র সহ ব্যবহারিক পণ্য বিতরন করেছে। তাদের হিসেব মতো ২৫ লক্ষ টাকার ত্রান বিতরন করেছে। অপরদিকে ১০/১৫ জনের দল বেধেঁ এসে লক্ষাধিক টাকার করে ১৭টির বেশী গ্রুপ ত্রান বিতরন করার চিত্র দেখা গেছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ত্রান আসলেও সঠিক ভাবে বন্টনের আভাবে অধিকাংশ লোক ক্ষুধার্ত দিন কাটাচ্ছে। বাস স্টেশন এলাকায় ত্রান বিতরনে সরকারী নিয়ম নীতি চোখে পড়েনি।
অপরদিকে প্রশাসনের সরাসরি তদারকির তথ্য পাওয়া যায়নি।এদিকে আইনশৃংক্ষলা রক্ষার্থে অন্তত পুলিশের একটি স্ট্রাইকিং ফোর্সের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এসব মিলিয়ে স্টেশন এলাকায় যানজট লেগে থাকছে নিয়মিত।
অপর দিকে রোহিঙ্গা প্রতিটি পরিবারের সাথে গড়ে অন্তত ৩ জন বাচ্চা শিশু দেখা গেছে। এদের বয়স শুন্য থেকে ১০ মাস এবং অনেকে এক বছরের বেশী বয়সী।শিশু গুলো মায়ের দুধের সাথে বাড়তি কোন শিশু খাদ্য পাচ্ছে না।ফলে এসব শিশু মারাত্বক ভাবে খাদ্য হীনতায় ভূগছে।আবার অনেক শিশু ক্ষুধার্ত।
ত্রান বিতরন কাজে স্থানীয় ভাবে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্টান সক্রিয় আছে এই গুরুত্বপূর্ণ সংকট নিয়ে কেঊ চিন্তিত নয়।সামগ্রীক বিষয়ে স্থানীয় প্রবীন অধিবাসী ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সাথে মুক্ত আলোচনা কালীন সকলে বিষয়টি গুরুত্ব পূর্ণ বলে মত দিয়েছেন।অপর দিকে রোহিঙ্গা সহায়তার নামে সক্রিয় ভাবে বিভিন্ন লোকজন সিন্ডিকেট করে মসজিদকে ব্যবহার করে চলছে। বিচ্ছিন্ন ভাবে কয়েকটি সিন্ডিকেট ভ্রাম্যমান মানবিক সহায়তা করে যাচ্ছে।এদের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে। স্থানীদের দাবী এদের পূর্ব পুরুষরা এই অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের বিস্তৃতি পক্ষে সক্রিয় ছিলো। স্থানীয় ভাবে জনমত রয়েছে এই রকম একটি দিনের অপেক্ষায় ছিলেন সেই সব এজেন্টরা।
আগে চলমান দুর্যোগ মোকাবিলা দায়িত্ব হয়ে উঠেছে।সর্বোপরি মানবিক দৃষ্টি কোন থেকে যারা সাহায্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে আসছে তাদেরকে এই সব রোহিঙ্গা ক্ষুধার্ত ছোট্ট শিশুদের কথা একবার ভেবে দেখা উচিত।
