নিজস্ব প্রতিবেদক :
টেকনাফে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছে ইমরান হোসেন নামে আরএফএল এর সাবেক এসআর । মাস খানেক পূর্বে সে পরিবার নিয়ে গোপনে টেকনাফ ত্যাগ করে বলে জানায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা। টাকা উদ্ধারে তারা আইন শৃংখলা বাহিনীসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ প্রদান করেছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা জানান, ইমরান নামে ওই যুবক দীর্ঘদিন যাবত আরএফএল কোম্পানীর সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসাবে কাজ করার সুবাধে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও-ব্যাংক সহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথেও তার সুসম্পর্ক গড়ে উঠে বলে জানা যায় ।
এসসময় ইমরান সুরাইম এন্টারপ্রাইজ নামে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্লাস্টিক দ্রব্য সাপ্লাইয়ের কাজ শুরু করে।
একপর্যায়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বড় অংকের সাপ্লাইয়ের অর্ডার পেয়েছে বলে ব্যবসায়ীদের জানিয়ে তাদেরকে লভ্যাংশ প্রদানের আশ্বাসে কয়েক কোটি টাকা ধার নেন।
এভাবে টেকনাফ বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক ব্যবসায়ী আবদুস সাত্তারের কাছ থেকে ৬৫ লক্ষ টাকা, জামেয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী আজিজুল হক, কবির, ইলিয়াছ, মো. নুর, লামার বাজারের মুজিব, স্টেশন এলাকার জসিম সহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যান। এর কিছুদিন আগে সে আরএফএল এর এসআর এর চাকরী ছেড়ে দেয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং রুমখা বড় বিল এলাকায় বাদশা মিয়া উরফে শফিক আহমেদের ছেলে ইমরান হোসেন প্রায় দশ বছর পূর্বে টেকনাফে আসেন। টেকনাফ বিজিবি ক্যাম্প সিনেমা হল এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। পরে বাস স্টেশনের জাফর চেয়ারম্যান এর ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সেখান থেকেই গোপনে পরিবার নিয়ে লাপাত্তা হন। লামার বাজার এলাকায় তার নিজস্ব দোকানটিও গোপনে মালামাল সরিয়ে বন্ধ করে দেন।
কিছুদিন পর ব্যবসায়ীরা ইমরান এর লাপাত্তা হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে তাকে ফোন দিলে সে কাল পরশু বলে তাদেরকে ঘোরাতে থাকে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কাউকে কোন টাকা ফেরত দেননি বলে জানান ভোক্তভুগি ব্যবসায়ীরা।
টাকা ফেরতের বিশ্বাস স্বরুপ সুচতুর ইমরান ব্যবসায়ীদের কাছে নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকের চেক জমা রাখেন। তবে সেসব একাউন্টে কোন টাকা পাননি উক্ত ব্যবসায়ীরা।
এদিকে ব্যবসায়ীদের কোট কোটি টাকা মেরে দিয়ে ইমরান বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পায়তারা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন পাওনাদার ব্যবসায়ীরা।
এব্যাপারে তারা প্রশাসন আইন শৃংখলা বাহিনী পুলিশ ইমিগ্রেসন পাসপোর্ট অফিস সহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষেয়ে জানতে ইমরানের মুঠোফোন একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যায় নি। এমনিক তার মুঠোফোনের নাম্বারে ক্ষুধেবার্তা প্রদান করেও কোন জবাব পাওয়া যায়নি।
