টেকনাফে নাইট্যং পাড়া আদম ঘাট অরক্ষিত : সাথে ঢুকছে মাদক ও স্বর্ণের চালান

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৮ years ago

স্টাপ রিপোর্টার, টেকনাফ :
প্রশাসনের সন্নিকঠস্থ বহুল আলোচি সেই নাইট্যং পাড়া সীমান্ত পয়েন্ট অরক্ষিত এবং অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। নাফ নদী সংলগ্ন এবং আঞ্চলিক সড়ক ও পাহাড়ের পার্শ্বে বিধায় আলোচিত নাইট্যং পাড়া সীমান্ত পয়েন্টটি চোরাচালান এবং আদম পাচারের জন্য অনেকাংশে নিরাপদ। এখানে আইন শৃংখলা বাহিনীর দিবানিশি সীমান্ত পাহারা দায়িত্বে নিয়োজিত থাকলেও তাদের বেধ করে দলে দলে রোহিঙ্গা নাম আদম ও মাদক প্রবেশ করে থাকে। নাইট্যং পাড়া সীমান্ত পয়েন্ট পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানা গেছে। তথ্য মতে নাইট্যংপাড়ায় অধিকাংশ অধিবাসী মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্যের বংশদৌত। দুদেশের সীমান্ত পর্যায়ে তাদের আতœীয়তার বন্ধন রয়েছে। সে সুবাধে নাইট্যাং পাড়া সীমান্ত পয়েন্টটি হয়ে পড়ে চোরাচালানের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট। এটি টেকনাফ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডে উঠনী পর্যন্ত তার সীমানা। টেকনাফ বাস ও ট্রাক ট্রার্মিনাল সংলগ্ন উত্তরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিশ্রামাগার পর্যন্ত এর মধ্যখানে চোরাচালান বাণিজ্যের জন্য খ্যাত। নাইট্যং পাড়ার পূর্বে নাফ নদীর তীরে চোরাচালান বাণিজ্যের জন্য খ্যাত। এর পূর্বে নাফ নদীর কেউড়া বাগানের ভিতর রোহিঙ্গা নামক আদম ও বিভিন্ন প্রকার চোরাইপণ্য উঠানামা করার জন্য একাদিক সিন্ডিকেটের ঘাট রয়েছে। সিন্ডিকেটের সাথে জড়িতরা এ ঘাটটি পরিচালনা করে আসছে। দিনের বেলায় এ ঘাটগুলো থাকে সংশ্লিষ্টদের কড়াকড়ী এবং রাতঘনিয়ে আসলেই উম্মোক্ত থাকে। সংশ্লিষ্টদের চাপে মধ্যে মধ্যে এঘাটগুলো বন্ধ থাকে এবং পরে চালু হয়ে যায়। সূত্র আরো জানায় নাইট্যং পাড়ার কারাবন্ধী আনোয়ারের স্ত্রী জাহান আরাসহ কয়েকটি সিন্ডিকেট এঘাটগুলো নিয়ন্ত্রন করছেন। এঘাট দিয়ে মিয়ানমার থেকে যে, সব চোরাইপণ্য ঢুকে তার মধ্যে রোহিঙ্গা নামক আদম, ইয়াবা ট্যাবলেট, স্বর্ণ, বিভিন্ন প্রকারের মাদকদ্রব্য ও বিয়ার। বিনিময়ে মিয়ানমারে পাচার হয়ে যাওয়া পণ্যের মধ্যে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও মোবাইলসেট সমূহ। কয়েকটি হস্তচালিত নৌকা যদিও মাছ আহারনের জন্য তৈরী করলেও প্রায় ব্যবহৃত চোরাচালানের। রাত ১১ টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলে চোরাচালানের রমরমা বাণিজ্য কার্যক্রম। অংশিদারে ভাগে না মিলা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, মিয়ানমার থেকে নৌকাযোগে প্রতি রোহিঙ্গা টেকনাফ নাইট্যং পাড়া ঘাটে যাতায়াত ভাড়া মাথাপিছু দিতে হয় ৫ হাজার টাকা।এই টাকা ভাগবাটোয়ারা হয় আইন শৃংখলা বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্য, রাজনৈতিকদলের নামে কতিপয় নেতা ও ঘাট পরিচালনাকারীদের মাঝে এ টাকা ভাগ হয় । গত ৮ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১ টায় কয়েকটি নৌকাযোগে ৫৫জন রোহিঙ্গা নারী পুরুষ মাথাপিছু ৫ হাজার টাকা করে আদম এ সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। এ সময় আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকেরা নীরব দর্শনের ন্যায় চেয়ে থাকে মাত্র। আলোচিত নাইট্যংপাড়া ঘাটটি রোহিঙ্গা বা আদম ঘাটে খ্যাত হলেও এর আড়ালে চলে আসে ইয়াবা ট্যাবলেট ও স্বর্ণের চালান। অতীতে এ ঘাট এবং তার আশপাশ দিয়ে মিয়ানমার থেকে নৌকা ভর্তি বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য ও ইয়াবা ট্যাবলেট সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত, সীমান্ত রক্ষী ও আইন শৃংখলা বাহিনীর পৃথক অভিযানে জব্দ/আটক হলেও এর নিয়ন্ত্রন করা সুদুর পরাহত মাত্র।

এব্যাপারে টেকনাফ পৌর শহর সীমান্ত ফাঁড়ির কোম্পানী কমান্ডার মোহাম্মদ ইব্রাহিমের নিকট জানতে চাইলে, তিনি বিষয়টি অশ্বীকার করেন।