হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফে পারিবারিক শত্রুতা ও জমিজমা বিরোধের জেরধরে পেশাদার অপরাধী দিয়ে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবী করেছে কথিত চাচা। এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, কার্তুজ, কিরিচ, দা এবং নেপথ্য নায়কসহ ৩জন অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে।
১৭অক্টোবর সকাল ১১টায় টেকনাফ মডেল থানা পরিষদ হলরোমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অফিসার ইনচার্জ গিয়াস উদ্দিন,বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মোঃ দস্তগীর হোসেনসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এতে উপস্থিত মিডিয়া কর্মীদের তিনি জানান, গত ১৬অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টারদিকে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মোঃ দস্তগীর হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দক্ষিণ শীলখালী পাহাড়ি ঢালা এলাকায় পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে কক্সবাজার হতে গ্রামের বাড়িতে এসে অপহরণের শিকার আলী আহমদের পুত্র মোহাম্মদ বেলাল (৩২) কে উদ্ধার করে পেশাদার অপহরণকারী চক্রের সদস্য হ্নীলা রঙ্গিখালী জুম্মা পাড়ার মৃত ফকির মিস্ত্রীর পুত্র আবছার উদ্দিন ওরফে রায়হান (৩৩), মৃত আবুল হোছাইনের পুত্র জসিম উদ্দিন (৩৫) কে ১টি ওয়ান শুটার গান, ২রাউন্ড কার্তুজ, দেশীয় তৈরী কিরিচ ও দা’সহ আটক করে। পরে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম বেলালের কথিত চাচা মৃত মকবুল আহমদের পুত্র আমীর আহমদ (৫৫) কে গ্রেফতার করে।
তিনি আরো জানান, জায়গা সম্পত্তির বিরোধের জের ধরেই রোহিঙ্গা শফি ডাকাতের সাথে গত ৩ সপ্তাহ আগে আমীর আহমদ এর ভাতিজা ভিকটিম বেলালকে অপহরণ করার জন্য চুক্তি করে। অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য বেলালের পরিবার থেকে তাদের মৌরসি জায়গা সমূহ অল্প মূল্যে চাচারা ক্রয় করে তাদের ভাতিজা ভিকটিম বেলালকে উদ্ধারের পরিকল্পনা সাজায়।
ইতিমধ্যে বেলাল কক্সবাজার শহর থেকে সম্পত্তি দেখাশুনার জন্য নিজ গ্রামের ঘরে আসে। গত ১৪ অক্টোবর ভোররাত ৩টারদিকে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বেলালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর প্রথমে ৭০লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে আসছিলো অপহরণকারীরা। এরপর ৫০লাখ টাকা দাবী করা হয়। সর্বশেষ ৪০লাখ টাকা মুক্তিপণে সম্মত হলে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় দূবৃর্ত্তদের ধরার জন্য বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মোঃ দস্তগীর হোসেনকে নিয়ে একটি চৌকস টিম গঠন করে। আভিযানিক পরিকল্পনা অনুযায়ী বাহরছড়ার জাহাজপুরা পাহাড়ের ঢালার ভিতর এক দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে মুক্তিপণ নিতে আসা ২জনকে ১টি ওয়ান শুটার গান, ২রাউন্ড কার্তুজ, একটি দা ও একটি কিরিচসহ আটক করে। পরে ধৃত আসামীদ্বয়ের দেওয়া তথ্যমতে এই অপহরণের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ভিকটিমের কথিত চাচা আমির আহমদকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান,এই অপহরণে ঘটনায় গত ১৬অক্টোবর টেকনাফ মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। যার মামলা নং-৪৫,তারিখ-১৬/১০/২০২৪ইং। এছাড়া গ্রেফতারকৃত আসামীদের হেফাজত হতে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ দস্তগীর হোসেন বাদী হয়ে একটি অস্ত্র মামলার এজাহার দায়ের করেন।
এদিকে রোহিঙ্গা দূবৃর্ত্তরা ক্যাম্প এলাকা ছেড়ে স্থানীয় কতিপয় দূবৃর্ত্তদের সঙ্গে যোগ-সাজশে নানা অপরাধ করে জনজীবন দূর্বিষহ করে তুলেছেন। তাই এসব অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ক্যাম্প প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ দরকার বলে সচেতন মহল মনে করেন। ###
