হাবিবুল ইসলাম হাবিব/মো.শফি, টেকনাফ |
চট্টগ্রামের সানশাইন স্কুলের নবম শ্রেনীর ছাত্রী তাসফিয়া আমিনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে টেকনাফে মানব বন্ধন ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্যোগে ৯ ই মে বুধবার দুপুর দেড়টায় টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে প্রধান সড়কে এ মানব বন্ধন অনুষ্টিত হয়।
উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সোলতান মাহমুদের সভাপতিত্বে আব্দুল বাসেতের পরিচালনায় মানব বন্ধন পরবর্তী সভায় বক্তব্য রাখেন তাসফিয়ার পিতা মোহাম্মদ আমিন, উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল বশর, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নুরুল আলম, উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মুন্না প্রমুখ।

সভায় তাসফিয়ার পিতা মেয়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়ে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন। আদনান ও তার গ্যাং পরিকল্পিত ভাবে তার মেয়েকে হত্যা করেছে বলেও তিনি দাবী করেন।
এছাড়া সভায় আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ বলেন, তাসফিয়ার খুনীরা হত্যাকান্ডটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে। রাজনৈতিক রং লাগিয়ে হত্যাকান্ডটিকে ধামাচাপা দিতে তৎপর রয়েছে মহলটি। যাতে তাসফিয়ার খুনীরা পার পেয়ে যেতে না পারে তার জন্য সদা তৎপর থাকবে টেকনাফ ছাত্রলীগ। এ লক্ষ্যে আগামী ১৫ই মে শোক র্যালী ও মামলার সুষ্টু তদন্ত জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী ঘোষনা করা হয় সমাবেশ থেকে।

এর আগে টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে আগত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা প্রধান সড়কে মানব বন্ধন পালন করেন। আর কত তাসফিয়া এই নির্মমতার বলি হবে,বোন হত্যাকারীদের শাস্তি চাই, মানুষরূপী হায়েনাদের সমাজ থেকে বয়কট করুন, বাংলার প্রশাসন এগিয়ে আসো বিচার করো, নৃশংস হত্যাকারীদের বিচার চাই সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে তাসফিয়ার হত্যার বিচার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবীতে মানব বন্ধনে অংশ নেয় শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।
উল্লেখ্য গত ১মে চট্টগ্রাম সানশাইন স্কুলের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী তাসফিয়া আমিনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার বন্ধু আদনান মির্জা। পরদিন ২ মে পতেঙ্গা সৈকত থেকে তাসফিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩মে টেকনাফের নিজ গ্রামে দাফন করা হয় তাসফিয়াকে। এ ঘটনায় তাসফিয়ার পিতা ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ উক্ত মামলায় তাসফিয়ার বন্ধু আদনান মির্জাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ্য করেছে।

