টেকনাফে চাকমারকূল রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড় হতে অস্ত্র-বুলেট ও কিরিচ নিয়ে ৯জন রোহিঙ্গা ডাকাত আটক

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চাকমারকুলের পাহাড়ি এলাকা থেকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত ৯ জন রোহিঙ্গাকে অস্ত্রসহ আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
সুত্র জানায়, ৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকালে কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর উপাধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একটি চৌকষ আভিযানিক দল টেকনাফের ২১নং চাকমারকূল ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড় হতে ৪টি অস্ত্র, ২০ রাউন্ড বুলেট,৩টি কিরিচ ও ২টি ছাঁকুসহ রোহিঙ্গা ডাকাত দলের সদস্য কুতুপালং ৪নং ক্যাম্পের ব্লক-এ-৯ এর বাসিন্দা কাছিম আলীর পুত্র রশিদ আহমদ (৩২), ৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক ৩০ এর বাসিন্দা মৃত দুদু মিয়ার পুত্র সলিম উল্লাহ (৫৫), ১৭নং ক্যাম্পের আহমদ হোছনের পুত্র শফিক আলম (২০), কক্সবাজার পিএম খালী ছনখোলা পশ্চিম পাড়ার মৃত কালা মিয়ার পুত্র আব্দুল হামিদ (২০), হোয়াইক্যং চাকমারকূল ২১নং ক্যাম্পের ব্লক-এম এর বাসিন্দা মৃত আব্দুল গাফ্ফারের পুত্র মোঃ সাবের (৩২), কুতুপালং ২নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-ডি-৪এর বাসিন্দা মৃত আব্দুল খালেকের পুত্র মোঃ সালাম (৫০), ৯নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-১১ এর বাসিন্দা ফয়েজ আহমদের পুত্র মোঃ ইসমাঈল (২৫), ৩নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-বি-১৬ এর বাসিন্দা মৃত লোকমান হোসেনের পুত্র হারুন অর রশিদ (২৮) এবং ১নং ক্যাম্পের ব্লক-১,বি-৩ এর বাসিন্দা মৃত নজু মিয়ার পুত্র ফয়েজ ওরফে আব্দুল্লাহ (২২)কে আটক করে। আটকরা সম্প্রতি কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা শিবিরে ‘গোলাগুলি’র ঘটনায় জড়িত ছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

প্রসঙ্গত, কুতুপালংয়ের নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের একটি গ্রুপ ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অভ্যন্তরিণ দ্বন্ধ ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গত দুই দিনে খুন হয়েছে ৩ জন। সর্বশেষ গতকাল সোমবারও কুতুপালং ক্যাম্পে মোহাম্মদ ইয়াছিন (২৪) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক খুন হয়। এর আগে গত ৪ অক্টোবর ভোররাতে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুই জন রোহিঙ্গা নিহত হয়। এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বও একইভাবে সংঘর্ষে ১৫জনেরও বেশী রোহিঙ্গা আহত হয়েছে।

এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতার মুখে কতিপয় রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কুতুপালং এলাকা থেকে ছেড়ে চাকমারকুলের পাহাড়ে অবস্থান নিয়েছিল বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১৫ এর কক্সবাজার ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান জানান, কিছু রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় গোলাগুলি করেছিল। দুয়েকদিন আগে র‌্যাব তাদের ধাওয়া দেয়। এক পযায়ে তারা কুতুপালং ছেড়ে হোয়াইক্যংয়ের চাকমারকুল এলাকার পাহাড়ে অবস্থান নেয়। গোপন সূত্রে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় আমরা ৯ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তাদের কাছ থেকে দেশে তৈরী চারটি অস্ত্র, ২০ রাউন্ড কার্তুজ, কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটনা নতুন নয়। এ ধরনের ছোট-বড় ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে।

এদিকে গত কয়েক দিনের গোলাগুলি ও খুনের ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে কয়েক’শ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু কুতুপালং ক্যাম্প ছেড়ে অন্য ক্যাম্পে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছে বলে রোহিঙ্গা নেতারা জানিয়েছেন।