টেকনাফে খানা-খন্দকে ভরা সড়ক দ্রুত সংস্কার দাবী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

সাদ্দাম হোসাইন : দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার-টেকনাফ শহীদ এটিএম জাফর আলম আরাকান সড়কের ২৯কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। গত ৩বছরে এই সড়কে সৃষ্টি হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। দীর্ঘ যানজট এলাকাবাসীর এখন নিত্যসঙ্গী। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে হাজার হাজার যানবাহন, প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। যাত্রী ও চালকদের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নাগরিকরা।

এলাকাবাসী জানান, ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা কুতুপালং, থাইংখালী, বালুখালী, পালংখালী, উনছিপ্রাং, লেদা ও নয়াপাড়াতে আশ্রয় নেয়ার পর কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক গুলোতে দৈন্য দশা শুরু হয়। রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক, দেশীয় এনজিও ও দাতা সংস্থার হাজার হাজার ত্রাণবাহী ট্রাক যাতায়াতের কারণে সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই মহাসড়কে যান চলাচল বেড়ে যাওয়ায় টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। হোয়াইক্যং নয়াবাজার, নয়াপাড়, মিনাবাজার, খারাংখালী, হ্নীলা মৌলভী বাজার, মোচনী, নাইট্যং পাড়া,কেরুনতলী এলাকায় প্রায়ই পণ্যবাহী ট্রাক বড় বড় খানা খন্দে পড়ে উল্টে যায়। এতে দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়। কক্সবাজার থেকে উনছিপ্রাং পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ চললেও উনছিপ্রাং থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বাকি ২৯ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের অনুপযোগি হওয়ার পরও সড়ক সংস্কারের কোন খবর না থাকায় ক্ষোভে ফুটে উঠেছে এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত আছেন ২হাজার বিদেশিসহ অন্তত ১১হাজার চাকরিজীবী। ফলে ব্যবহার হচ্ছে ২হাজারের বেশি প্রাইভেট গাড়ি। শিবিরে দৈনিক গড়ে মালামাল পরিবহন হচ্ছে ৪ শতাধিক ট্রাকে। এ ছাড়া টেকনাফ সীমান্ত বাণিজ্যে আমদানি-রফতানির ট্রাক, পর্যটকদের গাড়ি, যাত্রীবাহী বাস চলাচল করছে আরও এক হাজারের বেশি। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোরিকশা, জিপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলে আরো ৭ হাজার। মেরিন ড্রাইভ সড়কে সব যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আরাকান সড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ পড়ায় সড়কটি লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে।
হ্নীলা-হোয়াইক্যং সিএনজি সমিতির সভাপতি দিল মোহাম্মদ বলেন, এই সড়কে গত ১৫ বছর ধরে গাড়ি চালিয়ে আসছি । সড়কের বেহাল অবস্থা এবারের মতো আর কখনো হয়নি। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা আসার পর থেকেই আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। কত সুন্দর সড়ক এখন খানা খন্দে পরিণত হয়েছে।
মোটর সাইকেল চালক সাংবাদিক জসিম উদ্দিন টিপু বলেন, রাস্তার খানা-খন্দকের কারণে গাড়ি চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কয়েকদিন আগে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেচে গেছি। খানা-খন্দকে মোটর সাইকেল চালাতে গিয়ে গাড়িটি পড়ে যায়।
সমাজ কর্মী আমান উল্লাহ আমান জানান, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে গত ৩বছর আগেও ৫হাজার যানবাহন চলাচল করত। কিন্তু রোহিঙ্গা আসার পর এখন ১০হাজারের অধিক এনজিওর ত্রাণবাহী ও বাণিজ্যিকভাবে ভারী পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করায় পুরো সড়কটিতে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগ মাঝে মধ্যে এসব খানাখন্দে ইট ও বালি দিয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করলেও তা ঘণ্টার বেশি স্থায়ী থাকে না। তাই সড়কটির বেহাল দশা কাটছে না।
এনজিও কর্মী সাইফুল জানান, রোহিঙ্গা আসার পর থেকে অতিরিক্ত যানবাহনেরর কারণে ২৯ কিলোমিটার সড়কজুড়ে বড় বড় দুই শতাধিক খানাখন্দ তৈরি হয়। প্রায় প্রতিদিন দেশি-বিদেশি ভিআইপিরা এই সড়কে যাতায়াত করলেও টেকনাফের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এইচ এম ইউনুছ বাঙ্গালী বলেন, রোহিঙ্গারা আসার পর আমরা শুধু অর্থনৈতিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হইনি। বিগত দিনে আমাদের এলাকায় অবকাঠামোগত যে উন্নয়ন হয়েছিল সেগুলোও ধ্বংস হয়েছে। অবাধে ত্রাণের ও এনজিওদের গাড়ি চলাচলের কারণে রাস্তাঘাট নষ্ট হয়েছে।
এই টেকনাফ উপজেলায় প্রায় ৩লাখ লোকের বাস থাকলেও তার উপর আরো ২ লাখ রোহিঙ্গা বাস করছে। দিনে হাজার হাজার গাড়ি চলছে এই সড়ক দিয়ে। উনছিপ্রাং থেকে টেকনাফ পর্যন্ত যে যানজট তৈরি হয় তা ঢাকার ব্যস্ততম ঢাকাতেও হয় না। এত বছরের জীবনে এখানে এত যানজট দেখিনি আমরা।
টেকনাফের ভূক্তভোগী মানুষ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সকলের আন্তরিক সহায়তা কামনা করেছেন। ###