জিয়াবুল হক জিয়া :
কক্সবাজারের টেকনাফে পুরোনো আধিপত্যের জেরধরে নবী হোসেন প্রকাশ লাদেন বাহিনীর সাথে হাবিবুর রহমান ও শাহাবুদ্দিন গ্রুপের মধ্যে দা কিরিচ নিয়ে কাটাকাটিতে ব্যর্থ হয়ে দু’গ্রুপে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে নবী হোসেন প্রকাশ লাদেন গ্রুপের তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) বিকাল সোয়া তিনটার দিকে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উত্তর কানজর পাড়া চেয়ারম্যানের বাড়ির পেছনে এই ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শাহাদাত সিরাজী বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহতদের স্থানীয়দের সহযোগিতায় হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে জানান তিনি।
স্থানীয়রা জানান,নবী হোসেন লাদেন একসময় শীর্ষ ডাকাত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা রয়েছে। পরে কিছু মামলাতে শীর্ষ ডাকাত লাদের খালাস পেয়েছে বলে জানা গেছে। কিছুদিন তাবলীগ জামাতে যোগ দিয়ে পাঞ্জাবি পড়ে সুফি ভান করে এলাকায বসবাস করছিলেন। পরে আবারে সে পুরোনো পেশা ডাকাতি,সন্ত্রাসী কান্ডে ফিরে গেছে।
এরপর থেকে একেরপর এক গোলাগুলি করে স্থানীয়দের আতঙ্ক রাখতেন। নানান সময় সাধারণ মানুসের উপর নির্যাতন চালালেও তাদের অস্ত্রের ঝনঝনানির ভয়ে কেউ মুখ খুলে কথা বলার সাহস করেন না।
এদিকে লাদের বাহিনীর সাথে যুক্ত নানা ধরণের অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছিল হাবিবুর রহমান শাহাবুদ্দিন গ্রুপ। পরে তাদের মধ্যে ইয়াবা চালানের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এরপর থেকে লাদেন গ্রুপ আর শাহাবুদ্দিন গ্রুপ আলাদা হয়ে নিজের বিভিন্ন সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
অবশেষে আজও তাদের সেই আধিপত্য নিয়ে দা,কিরিচ নিয়ে কাটাকাটি শুরু করে পরে আবার দুই গ্রুপে ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তুমুল গোলাগুলি হয়। এতে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। পরে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন ।
তবে যেকোনো সময় তাদের দু’গ্রুপের মধ্যে আবারো বড় ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা আরো জানায়,শাহাবুদ্দিন কিছুদিন আগে র্যাবের হাতে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বের হয়ে আবারো ত্রাসের রাজত্ব শুরু করেছে শাহাবুদ্দিনরা গংরা । এতে করে পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকার শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এসব সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
