টেকনাফে পাহাড়ের পাদদেশ হতে পৃথকভাবে নারী-শিশুসহ দূবৃর্ত্তদলের হাতে অ*প*হৃ*ত-১২ ; মুক্ত-৫

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

হুমায়ূন রশিদ : টেকনাফের উপকূলীয় বাহারছড়া এবং হ্নীলায় পাহাড়ের পাদদেশে পৃথকভাবে ক্ষেতের কাজ, মাছ শিকার ও গরু চরানোর সময় স্বশস্ত্র পাহাড়ি দূবৃর্ত্তদলের হাতে নারী-শিশু ও কৃষকসহ স্থানীয় ১২জন অপহরণের শিকার হয়েছে। পুলিশ এবং স্থানীয় জনতা পাহাড়ে অভিযানে গিয়ে অপহৃতদের হদিস মেলেনি। এদের মধ্যে নিতান্ত গরীব হওয়ায় হ্নীলা হতে অপহৃত ৫জনকে ছেড়ে দেয় দূবৃর্ত্তরা।

জানা যায়, ১৬মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টারদিকে সীমান্ত জনপদ টেকনাফের উপকূলীয় ৫নং বাহারছড়া ইউনিয়নের জাহাজপুরা এলাকার বাসিন্দারা প্রতিদিনের ন্যায় নিজেদের ক্ষেত-খামারে কাজ করতে যায়। তারা সেখানে কর্মরত অবস্থায় পাহাড়ে অবস্থানরত স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তদল এসে তাদের ঘেরাও করে কৌশলে ধরে স্থানীয় জাফর আলমের ছেলে জানে আলম (৪৫), জাবেরুল ইসলাম (৩৫), বশির আহমদের পুত্র ফজল করিম (৩৮), ইসহাকের পুত্র গিয়াস উদ্দিন (১৯), হায়দর আলীর পুত্র রশিদ আলম (৩০), জাফর আলম (৩৯) ও নজির আহমদের পুত্র আরিফ উল্লাহ (২২) কে ধরে গহীন পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। এসময় পালিয়ে আসা আমির ও রিফাত উল্লাহ বিষয়টি অপহৃতদের স্বজনদের অবহিত করে। তারা বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে থানা পুলিশকে অবহিত করেন। ফিরে আসা দুইজনকে পুলিশী হেফাজতে রাখা হয়েছে।

খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আব্দুল হালিম,বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের তদন্ত পুলিশী টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমদের স্বজনদের সাথে কথা বলেন। পরে পুলিশ জনসাধারণ মিলে উক্ত এলাকার পাহাড়ি জনপদের সন্দেহভাজন এলাকায় বিশেষ টহল পরিচালনা করেন। শেষ পর্যন্ত অপহৃতদের সন্ধান না পেয়ে সবাই হতাশ হয়ে ফিরে আসেন।

অপরদিকে বাদে জোহর হ্নীলা পশ্চিম লেদা খরুইল্যাখোলা নামক স্থানে পাট শাক (নারিস ক্ষেত) করার সময় পাহাড় থেকে স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তদল মুখোশ পরিহিত অবস্থায় এসে মাঠে কাজ করার সময় পশ্চিম লেদা মোহাম্মদ ইসমাঈলের পুত্র শবি আলম (১৮), পশ্চিম লেদার ছৈয়দ আলমের পুত্র ছৈয়দুল আমিন (১২), নুরুল বশরের পুত্র আবুল বশর (১০), পূর্ব লেদার মোঃ জামালের পুত্র মোঃ হাসান (১০) কে ধরে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় বাঁধা দিতে গিয়েই ইসমাঈলের স্ত্রী নুর নাহার (৪৫) দূর্বৃত্ত দলের হাতে মারধরে শিকার হন। পরে উক্ত মহিলাকেও অপহরণ করে পাহাড়ের দিকে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের বন্দুকের আঘাত ও কিল-ঘুষি মারার পর অপহৃত সকলেই একেবারে গরীব হওয়ায় রাত ৭টারদিকে মুক্তি দেয়। পরে তারা বাড়িতে পৌঁছলে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বজনেরা।

ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন,বার বার এই এলাকা দিয়ে অপহরণের ঘটনা ঘটছে। আসলে প্রকৃত বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর বিস্তারিত জানানো হবে।

হ্নীলা ইউপি চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান,হ্নীলা ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে প্রায় সময়ে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। যা খুবই দুঃখজনক এবং অমানবিক। আমার এলাকার পাহাড়ি এলাকায় এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা কঠোর হাতে দমনের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সরকারের উর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ আব্দুল আলিম জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে অভিযান করেছি,পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। আমরা অচিরে এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করব।

এদিকে সুশীল সমাজের অনেকের ধারণা, এক সময় টাকাওয়ালা দেখে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা হতো। আর এখন গণহারে যাকে পাচ্ছে তাকেই অপহরণ করে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। অনেককে মেরে ফেলা হচ্ছে তা নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। এসব আসলেই স্বশস্ত্র দূবৃর্ত্তরা করছে নাকি আইন-শৃংখলার অবনতি ঘটিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য বিশেষ চক্র এই ধরনের ঘটনা সাজাচ্ছে তা বুঝে উঠা দায় হয়েছে। ####