টেকনাফের প্রাণ প্রবাহ কায়ুকখালী খাল বাঁচান ; বর্ষায় হাজারো পরিবারকে জলাবদ্ধতা ও প্লাবিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করুন

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ১ বছর আগে

মাননীয় উপদেষ্টা,
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়

টেকনাফের প্রাণ প্রবাহ কায়ুকখালী খাল বাঁচান ; বর্ষায় হাজারো পরিবারকে জলাবদ্ধতা ও প্লাবিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করুন।

মাননীয় উপদেষ্টা,


দেশের সর্বদক্ষিণের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থান সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ। এই উপজেলার অন্তর্গত টেকনাফ পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের বুক দিয়ে বয়ে যাওয়া শত বছরের ঐতিহ্যবাহী পানি প্রবাহের প্রধান কায়ুকখালী খালটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আমাদের এই টেকনাফ শহর(যার দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ কিলোমিটার)। শত বছর ধরে এটি টেকনাফের প্রধান বাণিজ্যিক ও নৌ চলাচলেরও প্রধান খালও বটে। যা সরাসরি নাফ নদীর সাথে সংযুক্ত। শুধু তাই নয় নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরে চলাচলরত নৌ যান এবং সেন্টমার্টিনগামী নৌ যানের প্রধান চলাচলের নৌপথও এটি।এই খালটিকে কেন্দ্র করে প্রায় আড়াইশত বছর আগে গড়ে উঠেছিলো আমাদের এই টেকনাফ শহরটি। একসময় এই খাল দিয়েই রেঙ্গুন-আকিয়াবের সাথে ছিলো ব্যবসা ও যাতায়াত।


শিশুকালে এই খালের জমজমাট নৌকাবাইচ এখনও মানসপটে ভেসে উঠে। বঙ্গোপসাগরগামী বড় বড় ফিশিং বোটের সাড়ি এখানকার অর্থনীতিকে করতো সমৃদ্ধ।

অথচ বছরের পর বছর দখলদারদের নগ্ন থাবায় ১৬০ ফুট থেকে ১৪০ ফুট প্রশস্ত খালটি সংকুচিত হতে হতে এখন কোন কোন জায়গায় নালায় পরিণত হয়েছে।

ফলে প্রতিবছর বর্ষায় পানি নেমে যেতে না পেরে উজানে থাকা ৪/৫ টি গ্রামের হাজারো গরীব অসহায় পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়ে থাকে।
ফলে এসব এলাকার মানুষের কাছে দুঃখ দূর্ভোগের অপর নাম এখন কায়ুকখালী খাল।
দীর্ঘ বছর যাবত দেশের নদী খাল রক্ষা সহ পরিবেশ রক্ষায় আপনার আপোষহীন ভূমিকা ও সম্প্রতি বাঁকখালী নদী রক্ষায় আপনার উদ্যোগ আমাদের আশান্বিত করেছে।

আপনি বর্তমান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মমন্ত্রণালয়েরউপদেষ্টার দায়িত্বে থাকায় আমরা আরো বেশী আশান্বিত।

কাজেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন শহর টেকনাফের প্রধান এই খালটি দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করে এর প্রাণ প্রবাহ ফিরিয়ে দিতে আপনার যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

একেএম নুরুল করিম রাসেল
সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী
২৪.০৪.২০২৫