টেকনাফের এক ব্যক্তির পেটে ইয়াবা বিস্ফোরণে মৃত্যু ; তারেক-শাহ আলমকে আইনের আওতায় আনার দাবী

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

বিশেষ প্রতিবেদক : টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে মৎস্যঘেঁর কর্মচারী দিয়ে সিন্ডিকেট করে ইয়াবা পাচারকালে পেটের ভেতরে বিস্ফোরিত হয়ে হাসপাতালে ইয়াবা বহনকারীর মৃত্যু ঘটেছে। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য লাশ শ^াশুড় বাড়িতে দাফনের প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি হলেও ইয়াবা চালানের মালিক তারেক ও শাহ আলমকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী উঠেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ১১নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী এলাকা হতে পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার আব্দুস সালামের পুত্র এবং লোকমানের পুত্র তারেকের মৎস্যঘেঁর কর্মচারী মোঃ আব্দুল্লাহ (৩০) কৌশলে ইয়াবা খেয়ে তারেকের সাথে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। সে চকরিয়া অতিক্রম করার পর তার শরীরে প্রচন্ড যন্ত্রণা শুরু হয়। তাকে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। সেখান থেকে চুরি করে লাশ বের করে নেওয়া হয়। এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ইয়াবা চালানের মালিকেরা আব্দুল্লাহর মৃতদেহ পটিয়ায় দাফনের পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই গ্রামের বেশীর ভাগই ইয়াবা সিন্ডিকেটে সম্পৃক্ত এবং স্বশস্ত্র হওয়ায় কেউ সহজে এই বিষয়ে মুখ খুলছেনা।

এই ব্যাপারে অভিযুক্ত শাহ আলম ও তারেকের (০১৮১২-৫৩৮৪৫৮) সাথে কথা বলে বক্তব্য জানার জন্য চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে শাহ আলমের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে,গত ৩/৪দিন আগে খারাংখালী সীমান্ত দিয়ে দুদু মিয়ার পুত্র শাহ আলম এবং লোকমানের পুত্র তারেক সিন্ডিকেটের দেড় লাখ ইয়াবার চালান খালাসে ঝুঁকি নিয়ে সহায়তা করে মৎস্যঘেঁর কর্মচারী আব্দুল্লাহ। তার পারিশ্রমিক হিসেবে দেড় হাজার পিস ইয়াবা দেয় শাহ আলম সিন্ডিকেট। সে আরো ৫শ পিস ইয়াবা নিয়ে ২হাজার পিস খেয়ে পাচারের সময় এই দূঘর্টনা ঘটে।

এই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোঃ আলম জানান,এই ধরনের একটি খবর আমি শুনেছি। এলাকার বাহিরে থাকায় বিস্তারিত বলতে পারছিনা।

টেকনাফ মডেল থানার মোঃ হাফিজুর রহমান জানান,কেউ এই বিষয়ে আমাদের অবগত করেনি। কেবল আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। যে বা যারা উক্ত ব্যক্তিকে ইয়াবা নিয়ে পাঠিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য,মুখোশধারী রাঘব-বোয়ালদের ছত্রছায়ায় পেশীশক্তির দাপটে এসব মাদক কারবারীরা দিনের পর দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এলাকার দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেদের মোটাংকের টাকার লোভে ফেলে প্রায় সময় মাদকের চালান গন্তব্যে পৌছানো হচ্ছে বলে একাধিক সুত্রের দাবী। ###