জাদিমোরা বৃটিশপাড়া এখন রোহিঙ্গা মাদক কারবারী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : নাফনদীর মোহনা এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প শাল বাগানের মিলনস্থল হ্নীলা জাদিমোরার বৃটিশ পাড়া। ভৌগলিক কারণে এই পাড়াটি দূর্গম হওয়ায় এখন স্থানীয় এবং রোহিঙ্গা স্বশস্ত্র অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়,উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড জাদিমোরার বৃটিশ পাড়া পাহাড় ঘেষাঁ আম বাগান সমৃদ্ধ বৃহৎ একটি গ্রাম। জাইল্যাঘাট, বৃটিশ পাড়া রোড, জাদিপাড়া, জিনজিরা পাড়া ও দক্ষিণ পাড়া শিশু গাছ পয়েন্ট রাস্তা দিয়ে এই গ্রামে সহজে প্রবেশ করা যায় বিধায় রোহিঙ্গা পারাপারের আদম ঘাট, মাদকের চালান মওজুদ ও সরবারহ এবং স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা অপরাধীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়ে আছে। যার কারণে টেকনাফে নিয়োজিত বিভিন্ন আইন-শৃংখলা বাহিনী এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকলেও দূর্গম পরিবেশের কারণে অনেক অপরাধী পার পেয়ে যাচ্ছে। এসব পরিস্থিতির কারণে টেকনাফের বিভিন্ন অঞ্চলে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কমলেও শরণার্থী ক্যাম্পের আলোচিত শাল বাগান কেন্দ্রিক অপরাধীরা এই গ্রামকে ঘিরে কৌশলে অপরাধমূলক নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। এদের মধ্যে জিনজিরা পাড়ার নজির আহমদের পুত্র খাইরুল বশর,নুর বশরসহ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাদকের চালান খালাস তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে বলে স্থানীয় সুত্রের দাবী। যা নিয়ে এখন এলাকায় তোলপাড় চলছে।

গত ২৪ জানুয়ারী রাতের প্রথম প্রহরে ইয়াবার চালান খালাসের সময় দমদমিয়া বিজিবির সাথে বন্দুক যুদ্ধে অজ্ঞাত রোহিঙ্গা নিহত এবং ১ লাখ ৩০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার এবং বৃটিশ পাড়া আম বাগানে স্বশস্ত্র রোহিঙ্গা অপরাধীরা আড্ডা জমিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে শলা-পরামর্শ করে থাকে। একই দিন দুপুরে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা একজন লোককে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় গোসল করতে আসা নুরুল হক কেন ধরে নিয়ে যাচ্ছেন জানতে চাইলে বৃটিশ পাড়ার দিল মোহাম্মদের পুত্র নুরুল হক (১৮) গুলিবর্ষণ করে। এসময় বুলেট তার পুরুষাঙ্গে গিয়ে লাগে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিতে না পেরে কোন প্রকারে ছেলেকে স্বজনেরা উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিলে আহত যুবকের চাচাকে উঠিয়ে নেওয়ার হুমকি দেয় বলে জানা গেছে। রাতের বেলা তো দূরের কথা মাঝে-মধ্যে স্বশস্ত্র ডাকাত দল দিনের বেলায় অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। প্রাণ ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়না। এই গ্রামের অনেক বাসিন্দা প্রাণ ভয়ে বহিরাগত এলাকায় গিয়ে রাত যাপন করে বলে জানা গেছে।

ঐদিন সন্ধ্যা রাত পৌনে ৭টারদিকে র‌্যাব-১৫ এর একটি চৌকষ আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে ২৭নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক-ডি-৫ এর বাসিন্দা রোহিঙ্গা মিঞ্জু আহমদের পুত্র মোঃ রহিম (২৫) এবং জাদিমোরার আব্দুস শুক্কুরের পুত্র মোঃ জুবায়ের (২৭)কে ৭৯হাজার ৫শ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন। এছাড়া উক্ত এলাকার মৃত ছৈয়দ হোছনের পুত্র জুবাইর, সিরাজ ও মোস্তফা কামাল ওরফে লম্বা মৌলভী,জনৈক ইউনুছ,দিল মোহাম্মদসহ একটি শক্তিশালী চক্র নানা অপরাধে সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই ব্যাপারে মোস্তফা কামাল ওরফে লম্বা মৌলভী বলেন, এখন আমি কোন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত নয়। গ্রামে একটি দোকান করে সংসার চালাচ্ছি। মাঝে-মধ্যে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করে থাকি বলেই মাদক কারবারীরা আমাকে জড়িয়ে হয়রানির চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে অপর অপরাধীদের বিষয়ে আমি কোন ধরনের মন্তব্য করতে পারবনা।
স্থানীয় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরাম সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসব অপরাধীরা ছাড়াও বিভিন্ন অপরাধীরা এখনো নানা কৌশলে সক্রিয় রয়েছে বলে দাবী করেন।

কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের সভাপতি আবুল হাশেম জানান,নানাবিধ অপরাধীদের পদচারণায় এলাকায় বসবাস কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার এসব অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে নানাবিধ হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। তাই হয়রানির ভয়ে সাধারণ মানুষ মুখ খুলেনা।

এই ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ আলী জানান, মুলত রোহিঙ্গা বসতি স্থানীয় গ্রামবাসীদের সাথে মিলে যাওয়ার সুযোগে নানা অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামবাসী হতে রোহিঙ্গা বসতি আলাদা করার জন্য গত বছরের ৯জুন আর.আর.আর.সির নিকট আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এসব বিষয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনী দ্রæত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করছি।

এই বিষয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর একটি বিশ্বস্থ সুত্রের দাবী,উক্ত এলাকায় সংঘঠিত ঘটনার প্রেক্ষিতে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে এসব মাদকসহ স্বশস্ত্র চিহ্নিত অপরাধীদের দ্রæত আইনের আওতায় আনার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসী সরকারের মাদক ও সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে এসব অপরাধ প্রবণতা দ্রæত দমনের জন্য সর্বস্তরের আইন-শৃংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ###