” জগৎ সমুহের জন্যে রহমত, বিশ্বনবী মুহাম্মদ (স) “

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

আব্দুর রহমান হাশেমী : যখন বিশ্বময় অজ্ঞতার বিভীষিকাময় অন্ধকার, অধর্ম ও অনাচারের নানা পাপ ও গ্লানি এসে মানবজাতির জ্ঞান ও বিবেকের সুনীতি ও সদাচারের উপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছিল।
বস্তুত তখন অজ্ঞতায় জ্ঞান, অধর্মই ধর্ম, পাপই পূণ্য এবং অবিচার-জুলুমই আদর্শ সদাচার বলে গৃহীত হয়েছিল ঠিক সে সময়কার ৫৭০/৭১ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম নামক বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্টার মহান মশাল নিয়ে ঘোর অমানিশার অন্ধকার কাটিয়ে দুর দিগন্তে আলোর রেখা দেখা দিল,তমাসচ্ছন্ন রাজনীর অবসান ঘটল। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অশেষ করুণায় বিশ্ব মানবের হিতার্থে অাবির্ভূত হলেন বিশ্বনবী মুহাম্মদ মুস্তফা (স)
তিনি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল, তিনি কোন কালের, দেশের বা বিশ্বের কোন একক জাতির জন্যে প্রেরিত নন। তাঁর আগমণ সকল কালের, সকল দেশের, সকল জাতি ও সকল মানুষের জন্যে মুক্তির সনদ নিয়ে।
তাঁর প্রতি নাজিল হয়েছে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী, ন্যায়-অন্যায়, হক ও বাতিলের বিভেদকারী, ভাল-মন্দ ও সুন্দর-কুৎসিতের বিভিন্নতাকারী মহাগ্রন্হ আল-কুরআন।
কুরআন ও হাদীসের সমন্বিত জীবন ব্যবস্হার নাম আল-ইসলাম, যা আল্লাহ কতৃক প্রদত্ত একমাত্র জীবন ব্যবস্হা।
কেবল মাত্র ইসলামই চরম বিশৃংখলায় নিমজ্জিত সমগ্র মানব জাতিকে শান্তিতে জীবন-যাপন করার গ্যারান্টি দিতে পারে, আর এ শান্তি আসবে রাসুল (স) কে পুরোপুরি অনুসরণের মাধ্যমে।
যেহেতু রাসুল (স) ছিলেন মানব জাতির জন্যে আদর্শ স্বরুপ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: আল্লাহর রাসুলের (স) মধ্যেই রয়েছে তোমাদের জন্যে সর্বোত্তম জীবনাদর্শ (সূরা আহযাবঃ২১)
অার রাসুল (স) ছিলেন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরুপ , মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী, আপনাকে অামি জগৎ সমুহের রহমত স্বরুপ প্রেরণ করেছি। (সুরা আম্বিয়াঃ ১০৭) তাই ইসলামের প্রতিপক্ষ শক্তি সারাজীবন রাসুলুল্লাহ (স) এর মিশনের বিরোধিতা করেছে প্রচন্ডভাবে ও হীন পন্হায়, কিন্তু আল্লাহর রাসুল(স) তাদের উপহাস, বিদ্ধেষ ও ষড়যন্ত্র সহ্য করেন এবং উধার হৃদয়ে তাদের সাথে বন্ধু সূলভ আচরণ করেন। ইতিহাসে এরুপ মহানুভবতার দৃষ্টান্ত বিরল। শত্রু ও প্রতিপক্ষ শক্তির প্রতি রাসুলুল্লাহ(স) এর মানবিক আচরণ ইসলামী সমাজব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।
তিনি ইসলাম ও মুসলমানদের চরম শত্রুর হিদায়াতের জন্যে আল্লাহর নিকট দোয়া করতেন।
সামাজিকতা, মানববিকতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ণের মাধ্যমে দ্বীন প্রতিষ্টার স্বার্থে রাসুল (স) মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে প্রত্যেকের হাদিয়া কবুল করতেন এবং বিনিময়ে তাদেরও উপটৌকন দিতেন।
ইহুদি ও মুশরিকরা মুসলমানদের চিহ্নিত শত্রু হওয়া সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (স) তাদের সাথে অতি উত্তম ও স্বাভাবিক আচরণ করেন। শত্রুদের সাথে উদার ও মহৎ আচরণ করা সত্ত্বেও ইহুদিরা রাসুল(স) কে জীবনে শেষ করে দিতে চেয়েছিল, ইহুদি হারিসের কন্যা জয়নব একটি বকরির গোস্তে বিষ মিশ্রিত করে তা রাসুলের নিকট হাদিয়া পাঠায়, সেখান থেকে কিছু অংশ মূখে দিয়ে তিনি বিষক্রিয়া টের পেয়ে যান, ষড়যন্ত্রকারী মহিলাকে ধরে হাজির করা হলে আল্লাহর রাসুল তাকে ক্ষমা করে দেন (বুখারিঃ২২১৭)
হযরত আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দ বিনতে উতবা উহুদের যুদ্ধে হযরত হামজা(রা) এর মৃত দেহকে নারকীয় উল্লাসে নাক,কান,পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং পৈশাচিকতার উম্মত্ত তান্ডবে বক্ষ বিদীর্ণ করে কলিজা বের করে আনে এবং মূখে পুরে চিবাতে থাকে, মক্কা বিজয়ের সময় হিন্দ রাসুলের (স) কাছে হাজির হয়ে আরজ করলেন, আপনি আমার বিগত জীবনের অপরাধ সমুহ ক্ষমা করে দিন, আল্লাহ আপনার ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করে দিবেন, নাগালের মধ্যে পেয়েও তিনি ঘাতককে ক্ষমা করে দিলেন। চিহ্নিত শত্রুর প্রতি রাসুলের এমন দয়া দেখে হিন্দ তাৎক্ষণিক ঈমান এনে মুসলমান হয়ে যান (ইবনে জারীরঃ তাবারি)।
রাসুলের(স) রহমতের দৃৃষ্টান্ত শুধু মানবজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা পশু-পাখি ও কীট পতঙ্গের জন্যেও তিনি ছিলেন রহমত স্বরুপ।
তিনি বলেছেন : যারা (জীবজন্তুর প্রতি) দয়ালু, আল্লাহ তাদের প্রতি সদয়।
তিনি বলেছেন : একটি স্ত্রীলোক একটি বিড়ালকে খাদ্য ও পাণীয় না দিয়ে ঘরে আবদ্ধ করে রেখেছিল, যাতে সে হাঁটাচলা করে খেতে পারে তার জন্যে তাকে ছেড়ে দেয়নি, এতে বিড়ালটির মৃত্যু হয়। একারণে স্ত্রীলোকটির শাস্তি হয়েছিল(বুখারি, কিতাবুল মাসাকাত)
একবার এক ব্যক্তি একটি কবুতরের বাচ্চা ধরে নিয়ে যাচ্ছিল, তার পিছনে পিছনে মা কবুতরটি কাতর হয়ে ডানা ঝাপটাচ্ছিল তা দেখে বিশ্বরহমত রাসুলুল্লাহর (স) প্রাণ কেঁদে উঠে, তিনি বাচ্চাটা ছেড়ে দিতে বলেন, বাচ্চাটি ছাড়া পেয়ে মায়ের কাছে চলে গেল।
তিনি পিপড়া ও কীট-পতঙ্গাদি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারতে নিষেধ করেছেন। পশু জবেহ করার সময় ধারাল ছুঁরি ব্যবহারের তাকিদ দিয়েছেন। ভোতা ছুঁরিতে পশুর কষ্ট বেশি হয় বিধায় এরুপ বলতেন।
রাব্বুল আলামীনের বন্ধু হাবিবুল্লাহ ফিরিশতা, জ্বিন, মানব, পশু-পাখি, জড়-অজড় সকলের প্রতি রহমতস্বরুপ ছিলেন।
রাসুলের (স) সুদীর্ঘ ৬৩ বছর হায়াতে এধরণের আরো অসংখ্য ঘটনার দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। তাই সব শ্রেণীর মানুষের সকল প্রকার বিশুদ্ধ মানববিকতার সুষ্টু বিকাশ, পূর্ণাঙ্গ আচার-পদ্ধতি ও চরিত্রের মিলনে যার জীবন-চারিত ঘটেছে তিনি একমাত্র মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স) ছাড়া আর কেউ নন।
A R H TEKNAF TODAY - সীমান্তের সর্বশেষ খবর
লেখক :
আব্দুর রহমান হাশেমী
সমাজকর্মী
(কামিল হাদিস ফাস্টক্লাস, মাষ্টার্স সমাজবিজ্ঞান)