চিনির বাজার স্বাভাবিক হয়নি

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৪ years ago

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : সবজি থেকে শুরু করে সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তি থাকায় বছর জুড়েই ভোক্তাদের নাভিশ^াস অবস্থা। এরই মধ্যে গত নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাজারে চিনির সংকট দেখা গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব মেনে গত ১৭ নভেম্বর কেজিপ্রতি দাম ১৩ টাকা বাড়িয়ে প্যাকেটজাত চিনি ১০৮ টাকা এবং খোলা চিনি ১০২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এখনো চিনির বাজার স্বাভাবিক হয়নি। এখনো নির্ধারিত দামের চেয়ে ২৫-৩০ টাকা বেশি দিয়ে চিনি কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এ ছাড়া আটা, ময়দা ও ডালসহ অন্যান্য পণ্য অপরিবর্তিত দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে শীতের ভরা মৌসুমে সবজির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা এবং পাইকারিতে মোটা চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাজার মালিবাগ, রামপুরা, শান্তিনগর ও কারওয়ানবাজার ঘুরে দেখা যায়, টমেটো বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। শিম ৩০-৪০, পেঁপে ২৫-৩০, লম্বা বেগুন ৪০, গোল বা তাল বেগুন ৫০, নতুন আলু ২৫-৩০, পুরাতন আলু ২২-২৫, জালি কুমড়া প্রতিটি ৫০-৫৫, শসা ৫০-৬০, আকার ভেদে লাউ ৩০-৪০, মান ভেদে প্রতি কেজি করলা ৬০-৭০, প্রতি হালি কাঁচা কলা ২৫-৩০, আকার ভেদে ফুল-বাঁধা কপি ৩৫-৪০, দেশি গাজর ৬০ ও কাঁচা মরিচ ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজির খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালীন সবজি বাজারে সরবরাহ ভালো হওয়ায় প্রায় সবধরনের সবজির দাম কমে আসছে। তবে যেসব সবজির মৌসুম শেষ কিংবা আমদানিনির্ভর সেসব সবজির দাম কিছুটা বাড়তির দিকে রয়েছে।

শান্তিনগর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আশরাফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, পৌষের শুরুর দিকে বাজারে শীতের সবধরনের সবজি আসতে থাকে। এতে করে সবজির দাম কমতির দিকে।

রাজধানীর মুদি দোকানগুলোতে খবর নিয়ে জানায় যায়, মুদি পণ্যের মধ্যে আটা, ময়দা, চিনি ও ডালসহ অন্যান্য পণ্য আগের মতো অপরিবর্তিত দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি ছোট দানার মশুরির ডাল ১৩৫-১৪০ ও বড় দানার মশুরির ডাল ১০৫-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১২৫-১৩০ টাকায়।

মালিবাগের মা স্টোরের স্বত্বাধিকারী মঈন আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত ২০ দিনের বেশি একই দামে মশুরির ডাল বিক্রি করছেন তারা। চিনিও প্রতি কেজি ১২৫-১৩০ টাকা করে বিক্রি করছেন। বাজার থেকে বাড়তি দাম দিয়ে চিনি এনে তাদের বিক্রি করতে হচ্ছে বলে দাবি করেন এই ব্যবসায়ী।

চালের পাইকারি বাজার ঘুরে জানা যায়, সবধরনের মোটা চালের কেজিতে ২-৩ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে ৫৮ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রি আটাশ চাল কেজিতে ৩ টাকা কমে ৫৫ টাকা, স্বর্ণাও কেজিতে ৩ টাকা কমে ৪৩ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তবে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

কাওরান বাজারের নোয়াখালী রাইছ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী শাওন দেশ রূপান্তরকে বলেন, নতুন চাল ওঠায় মোটা চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। মান ভেদে প্রতি কেজি নাজিরশাইল ৭৬-৮৪ ও মিনিকেট চাল ৬৫-৭৪ টাকা করে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহে মতো প্রতি কেজি বয়লার মুরগি ১৬০-১৬৫, সোনালি ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৩০০ ও দেশি মুরগি ৫২০-৫২৫ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

ফার্মের মুরগির ডিমের (লাল) ডজন ১১০ টাকা করে বিক্রি হলেও মাছের বাজারে ভোক্তাদের স্বস্তি মিলছে না। মাঝারি আকারের প্রতি কেজি চাষের কই মাছ ২০০, তেলাপিয়া ১৬০, ১ কেজি ওজনের পাঙাশ ১৫০-১৬০, সবধরনের নলা ও পুঁটি মাছ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

রামপুরা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হেলাল দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ১০ দিনে সবধরনের মাছের দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে।