চাকঢালায় বিএনপি নেতার দাপটে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি : প্রশাসন চুপ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৭ years ago

শামীম ইকবাল চৌধুরী : পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে পাহাড় কাটার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অনেকেই তা মানছেন না। উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেও থামানো যাচ্ছে না ওই এলাকায় পাহাড় কাটা। উল্টো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগোচরে বেড়েই চলেছে একের পর এক পাহাড় কাটার ঘটনা।
আর এদিকে, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাকঢালা এলাকার স্থানিয়দের অভিযোগ উঠেছে পাহাড় কেটে পরিবেশ বিপর্যয়ের।
জানাযায়, এক বিএনপি নেতার দাপটে পাহাড় কেটে চড়া দামে মাটি বিক্রি করার । এসব মাটি যাচ্ছে ফসলি জমিতে, ভরাট করা হচ্ছে ভিটেবাড়ি, পানের বরজ এবং ইটভাটায় । রাত-দিন প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা চললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনও চুপ রয়েছে।
গত ২৬ নভেম্বার (মঙ্গলবার) বিকেলে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাকঢালা বাজারের থেকে প্রায় এক শত গজ দুরত্বে ৫ নং ওয়ার্ডের গয়ালকাটা নামক এলাকার মৃত শামশুল আলমের পুত্র আজিজুর রহমান প্রকাশ লেজি আজিরন বিএনপির নেতা হিসেবে বেশ পরিচিত। সে ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি । বিগত বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় অর্ধশত একর খাস পাহাড় দখল করে বসতবিটার নামভেঙ্গে একটি ঝোঁপড়ি ঘর নির্ম্মাণ করেন তিনি। সে ওই পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছেন দেদারছে । এসব মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ফসলি জমি, পানের বরজ, ইটভাটা ও পুকুর ভরাটের কাজে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে
চাকঢালা বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, আজিজুর রহমান ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা । এলাকায় তাকে লেজি আজিরন নামে বেশ পরিচিত । আবার কেহ ডাকেন নেতা আজিরন নামে। সে বিএনপির ক্ষমতা থাকাকালীন বেশ কয়েকটা বড় বড় খাস পাহাড় দখল করে রেখেছেন। এই দখলকৃত পাহাড় গুলো দাপটের সাথে প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা হচ্ছে। এই ভাবে পাহাড় কাটতে থালে এতে পরিবেশ বিপর্যয় হতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা ।

৫ নং ওর্য়াডের বাসীন্দা মো,আব্দুল্লাহ পাহাড় কাটার বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আগেও সংশ্লিষ্টরা এসে পাহাড় কাটার বিষয়ে নিষেধ করে দিয়ে ছিলো । নিষেধ অমান্য করে এই বিএনপির নেতা আজিজুর রহমান প্রকাশ লেজি আজিরন পাহাড় কাটা অব্যাহত রেখেছে।’ তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে আপনাদের মতো এক সাংবাদিক পাহাড়কাটা অভিযোগ পেয়ে সরজমিনে দেখতে গেলে আজিজুর রহমানের স্ত্রী লোহার রট হাতে নিয়ে পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে গালি-গালাজ করে পাহাড়ে উঠতে এবং ছবি তোলতে দেয়নি।

লেজি আজিরন চাকঢালা বাজারের দোকানে বসে প্রকাশ্যে এলাকার লোকজনকে বলতে থাকে পুলিশ,সাংবাদিক সব আমার পকেটে। না হয় এতো পাহাড় কি ভাবে কাটি?

আজিরনের স্ত্রী মন্জু আরা বেগম জানান, বর্ষাকালে পাহাড় ধসে কিছু অংশ পাহাড়ের মাটি সরে এসে পড়লে তা বিভিন্ন মাট ভরাট ও পানের বরজে জন্য মাটি বিক্রি করেছে আমার স্বামী। কারন এই লাকার আশে-পাশে মাটির চাহিদাও রয়েছে বলে জানান। তবে নতুন ভাবে পাহাড় কাটা বিষয়টি অস্বীকার করেন আজিরনের স্ত্রী আন্জু আরা বেগম । এসময় মন্জু আরা বেগমের স্বামী আজিজুর রহমান প্রকাশ লেজি আজিরনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইলের সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, ‘গয়াল কাটা পাহাড় কাটার বিষয়ে আমি শুনেছি। শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’