নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের জমিদার পাড়া গ্রামে আগুনে বসতবাড়ি পুড়ে যাওয়ার ঘটনাটি শিক্ষক সাইফুল হকের পরিকল্পিত নাটক বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মুলত স্থানীয় মহিলা মেম্বার এবং দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধুকে ইতোপুর্বে নানাধরণের কুপ্রস্তাব দিয়ে সামাজিকভাবে নাজেহাল হওয়ায় পরিবারের ভাবমুর্তি রক্ষার্থে ভাইকে নিষেধ করেন দিদারুল হক বাদল। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক সাইফুল বুধবার ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে নিজের বাড়িতে নিজে আগুন লাগিয়ে দিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকালে চকরিয়া থানা সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এধরণের অভিযোগ করেছেন শিক্ষক সাইফুলের ভাই দিদারুল হক বাদল।
সংবাদ সম্মেলনে দিদারুল হক বাদল, লাঞ্চনার শিকার স্থানীয় মহিলা মেম্বার ফরিদা ইয়াসমিন, মহিলা মেম্বারের ভাই আরফাতুল ইসলাম ও শ্লীলতাহানির শিকার গৃহবধু তাহেরা ইয়াছমিন দাবি করেছেন, নিজের বাড়িতে নিজে আগুন দিয়ে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে চেষ্ঠা করছেন অনেক অপকর্মের নাটের গুরু সাইফুল হক। মুলত তাঁর অপকর্মের বিরুদ্ধে বাঁধা দেয়ায় আমাদেরকে (ভাইসহ ভুক্তভোগী মহিলা মেম্বার, অপর গৃহবধুসহ) চারজনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় মিথ্যা ঘরপুড়া মামলার দিতে চেষ্ঠা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভাই দিদারুল হক বাদল অভিযোগ করেছেন, পৈত্রিক জমি নিয়ে শিক্ষক সাইফুল বা পরিবারের কারো সঙ্গে আমার কোন বিরোধ নেই। আমি চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে সহকারি স্বাস্থ্য পরির্দশক হিসেবে কর্মরত আছি। প্রায় ৪০বছর আগে ঢেমুশিয়ার বাড়ি থেকে পরিবার নিয়ে চকরিয়া পৌরশহরে ভাড়া বাসায় আলাদা বসবাস করছি। আমার ভাই সাইফুল পেকুয়া উপজেলায় শিক্ষকতা করেন। সেখানে বউ বাচ্চা নিয়ে থাকেন। গ্রামের বাড়িতে রাখেন স্বামীর সংসার থেকে ফেরত আনা দুই শ্যালিকাকে। মাঝেমধ্যে সে শ্যালিকাদের দেখতে এসে তাদের সঙ্গে বাড়িতে থাকতো।
দিদারুল হক বাদল অভিযোগ করেছেন, আমার ভাই সাইফুল হক একজন শিক্ষক হলেও তাঁর চারিত্রিকগত অনেক অপকর্ম রয়েছে। সেই ইতোপুর্বে গ্রামের বাড়ির পাশের প্রতিবেশি স্থানীয় মহিলা মেম্বার এবং দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধুকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়েছে। বাড়িতে ঢুকে তাদেরকে শ্লীলতাহানির চেষ্ঠাও করেছে। এ ঘটনায় তাহেরা ইয়াছমিন নামের লাঞ্চনার শিকার গৃহবধু ২০১৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর চকরিয়া থানায় শিক্ষক সাইফুল হকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে চকরিয়া থানার পুলিশ নোটিশ পাঠালে গ্রেফতারের ভয়ে ওই গৃহবধু এবং তাঁর স্বজনদের হাতে-পায়ে ধরে ক্ষমা চান সাইফুল। এরপর বাদি তাহেরা ইয়াছমিন ১৭ ডিসেম্বর চকরিয়া থানার শালিসী বৈঠকে উপস্থিত ইউপি মেম্বার ও স্বাক্ষীদের সামনে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন বাদির কাছে। ওইসময় দুইপক্ষের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সমাধান হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভাই দিদারুল হক বলেন, গৃহবধু তাহেরা ইয়াছমিনের ঘটনাটি সমাধানে আগে শিক্ষক সাইফুল আবার একই ধরণের ঘটনা ঘটান স্থানীয় মহিলা মেম্বার ফরিদা ইয়াছমিনকে কুপ্রস্তাব দিয়ে। এ ঘটনায় ইউপি মেম্বার ফরিদা ১৫ ডিসেম্বর বাদি হয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি বর্তমানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তদন্ত করছেন। মুলত আমার ভাই শিক্ষক সাইফুল হক মুলত স্থানীয় মহিলা মেম্বার এবং দুই সন্তানের জননী এক গৃহবধুকে ইতোপুর্বে নানাধরণের কুপ্রস্তাব দিয়ে সামাজিকভাবে নাজেহাল হওয়ায় পরিবারের ভাবমুর্তি রক্ষার্থে ভাইকে নিষেধ করেছি আমি। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক সাইফুল বুধবার (২৯ জানুয়ারী) ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে নিজের বাড়িতে নিজে আগুন লাগিয়ে দিয়ে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্ঠা চালাচ্ছে। এখন ওই মামলায় আমাকে এবং লাঞ্চনার শিকার স্থানীয় মহিলা মেম্বার ফরিদা ইয়াসমিন, মেম্বারের ভাই আরফাতুল ইসলাম ও শ্লীলতাহানির শিকার গৃহবধু তাহেরা ইয়াছমিনসহ চারজনকে আসামি করে মিথ্যা ঘরপুড়া মামলা দিয়ে হয়রাণিতে নেমেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভাই দিদারুল হক বাদল ছাড়াও উপস্থিত মহিলা মেম্বার ফরিদা ইয়াছমিন, লাঞ্চনার শিকার গৃহবধু তাহেরা ইয়াছমিনসহ ৪ ভুক্তভোগী বৃহস্পতিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিক্ষকের বসতঘর পুড়ে ছাই শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ গুলো মিথ্যা ও সাজানো বলে দাবি করেছেন। মুলত বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনাটি শিক্ষক সাইফুলের পরিকল্পিত নাটক। তাই আমরা উল্লেখিত সংবাদের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি এব্যাপারে বিভ্রান্ত না হতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
ভুক্তভোগী দিদারুল হক বাদল দাবি করেন, আমার সঙ্গে পৈত্রিক জমি নিয়ে কোন ধরণের বিরোধ নেই। তবে আমি বিভিন্ন সময়ে তাঁর অপকর্মে বাধা দিয়েছি। সেই কারণে অতীতেও আমাকে জড়িয়ে সেই মিথ্যা ঘরপুড়াসহ কয়েকটি ঘটনায় থানা ও আদালতে মামলা করেছিলো। কিন্তু পুলিশের তদন্তে সবঘটনা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। #
