চকরিয়ায় ২৬ বসতঘরে আগুন ও নারী খুনের ঘটনায় ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা : গ্রেফতার-৭

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৬ years ago

এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকায় মাতামুহুরী নদীর জেগে উঠা খাস জমি দখলে নিতে রাতের আঁধারে একটি গ্রামের ২৬টি বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া ও আগুনে এক নারীকে হত্যার ঘটনায় অবশেষে চকরিয়া থানায় ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকার বাসিন্দা ও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি মালিক জমির উদ্দিন নামের একজন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। এদিকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় ৭ আসামিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
এদিকে গত ১৪ মে কৈয়ারবিলের খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকার ২৬টি বসতঘর পুড়িয়ে দেয়া ও বাড়িঘর লুটপাটের ঘটনা পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত সরকারীভাবে সামান্য চাল ও কয়েকবান টিন ছাড়া আর কোন কিছুই কপালে জুঠেনি এসব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশু বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সোমবার দুপুরে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
আগুন তাÐবে সর্বস্ব খোয়ানো বাড়ির মালিক কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকার নুরুল হোসাইনের ছেলে কৃষক মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, গত ১৪ মে ভোর রাতে সেহেরীর পরপরই দূবৃত্তদের দেয়া আগুনে ২৬টি বসত ঘর পুড়ে যাওয়া এবং আগুনে পুড়ে এক নারী নিহতের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও প্রশাসনিক চাপের মুখে মূল আসামীদের বাদ দেয়া হয়েছে।
ফলে চিহিৃত দূবৃত্তদের হুমকির মুখে এখনো নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন ২৬টি পরিবারের লোকজন। আগুনে সর্বস্ব খোয়ানো বাড়ির মালিক জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত ৭ মে দূর্ত্তরা ফাঁকাগুলি বর্ষণ করে নদীর পার্শ্ববর্তী জেগে উ্ঠা চর দখলের চেষ্ঠা চলায়। এ সময় দূর্ত্তদের গুলিতে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ ওসমানের পিতা নুরুল হোসাইন বাদী হয়ে দূবৃত্তদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করলেও পুলিশ এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভুমিকা পালন করায় দূবৃত্তরা পুনরায় এ ধরণের বর্বর কর্মকান্ড চালানোর সাহস পায়। ফলে এ ঘটনার জন্য প্রশাসন কখনো তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে ভোররাতে উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খিলছাদক ডাঙ্গারচর এলাকায় প্রবাহমান একটি খালের জেগেউঠা চর (খাস জমি) দখলে নিতে ব্যাপক তান্ডব চালায় দূবৃত্তরা। পার্শ্ববর্তী বরইতলী ইউনিয়নের বাসিন্দা দিদার মেম্বারের নেতৃত্বে দেড় থেকে দুই শতাধিক দূবৃত্ত অন্তত ৫০টি বিভিন্ন ধরণের অবৈধ অস্ত্র নিয়ে কয়েকশত ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে প্রথমে ওই গ্রামে প্রবেশ করার পর এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
পরে চার ঘন্টা ধরে ব্যাপক লুটাপাট চালিয়ে দেড় হাজার মণ ধান, কয়েক’শ মণ মরিচ, আলু ও শিমের বিচি, ৫০ মণ মতো চাল, ৩৫/৪০টির মতো গবাদিপশু, তিনটি মোটরসাইকেল, ২৪টি টিউবওয়েল, ফ্রিজ, টেলিভিশন এবং বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ অন্তত কয়েক কোটি টাকার সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। লুটপাটের পর ২৬টি বাড়ি একের পর এক আগুন ধরিয়ে দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় দূবৃত্তরা। এ সময় আগুনে পুড়ে মারা যায় মনোয়ারা বেগম (৫০) নামে এক নারী।
তিনি ওই এলাকার মোজাহের আহামদের স্ত্রী। এছাড়া দূবৃত্তদের এলাপাতাড়ি গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ১৫ ব্যক্তি আহত হয়। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার একদিন পর ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির মালিক জমির উদ্দিন বাদী হয়ে ৪৪ জনের নাম উলে­খ পূর্বক চকরিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এজাহার নামীয় ৭জন আসামীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।#