নিজস্ব প্রতিবেদক,চকরিয়া :
আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠকর্মী মিজবাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে পরিচয় গোপনে একটি প্রাইভেট স্কুলে চাকুরীর অভিযোগ উঠেছে। তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও গেল তিনবছর ধরে চকরিয়া পৌরশহরের প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চকরিয়া প্রো-ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজে সহকারি অধ্যক্ষ পদে চাকুরীতে রয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, চাকুরী নেয়ার সময় অভিযুক্ত মিজবাহ উদ্দিন নিজেকে শিক্ষিত বেকার যুবক পরিচয় দিলেও তিনবছর পর এসে চকরিয়া প্রো-ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদ জানতে পারেন অভিযুক্ত মিজবাহ আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের অধীনে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠকর্মী হিসেবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া প্রো-ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক শাহানা বেগম। তিনি বলেন, মিজবাহ উদ্দিন ২০১৬ সালের দিকে আমাদের বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। সেসময় তিনি নিজেকে শিক্ষিত বেকার পরিচয় দেন। সেই থেকে তিনি বিদ্যালয়ে প্রথমে সহকারি শিক্ষক ও পরবর্তী ২০১৯ সালে সহকারি অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি হন। নতুন পদোন্নতির পর তিনি বিদ্যালয় থেকে মাসিক ১৮ হাজার টাকা বেতন নেন।
তিনি বলেন, চাকুরীতে যোগদানের সময় আমরা তাঁর কথা বিশ^াস করেছি। কিন্তু তিনবছর পর এসে জানতে পারি অভিযুক্ত মিজবাহ উদ্দিন আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের অধীনে চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে সম্প্রতি তাকে বিদ্যালয়ে না আসতে নির্দেশ দিয়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের কোনাখালী ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাঠকর্মী মিজবাহ উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্ঠা করা হয়। তবে তাঁর মুঠোফোনটির সংযোগ লাইন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে বিষয়টি অবহিত করে জানতে চাইলে আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের চকরিয়া উপজেলা সমন্বয়ক মো.হাবিবুর রহমান প্রথমে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটি এইমাত্র আপনার (প্রতিবেদক) কাছ থেকে শুনলাম। মিজবাহ উদ্দিন আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের একজন মাঠকর্মী। তিনি কোনাখালী ইউনিয়নের দায়িত্বে আছেন। পরিচয় গোপন করে তিনি যদি সত্যি সত্যি প্রাইভেট স্কুলে চাকুরী করেন তা হলে তদন্তসাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি চাকুরীবিধি ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চকরিয়া প্রো-ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক শাহানা বেগম বলেন, শনিবার আমাদের বিদ্যালয়ে ঘটনাটি তদন্তে এসেছিলেন আমার বাড়ি আমার খামার প্রকল্পের চকরিয়া উপজেলা সমন্বয়ক মো.হাবিবুর রহমান। তিনি ওইসময় বিদ্যালয়ের অপরাপর শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সহকারি অধ্যক্ষ মিজবাহ উদ্দিনের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছেন।
