নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত আওয়ামীলী নেতা নাছির উদ্দিন নোবেল হত্যা মামলায় ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলা উদ্দিনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়িয়ে আসামি করে হয়রানীর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর স্ত্রী কোহিনুর আক্তার। পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিনের স্ত্রী কোহিনুর আক্তার রবিবার দুপুরে চকরিয়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে কোহিনুর আক্তার দাবী করেন, আওয়ামীলীগ নেতা নাছির উদ্দিন নোবেল হত্যাকান্ডের সাথে আমার স্বামী আলাউদ্দিন কোন ভাবেই জড়িত নন। ঘটনার দিন (১৭ আগস্ট) আমার স্বামী (আলাউদ্দিন) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে এলাকার একটি মক্তবে দোয়া মাহফিলের আয়োজনে করেন এবং সেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। ওই দোয়া মাহফিলে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও এলাকার মান্যগন্য ব্যক্তি, হাফেজগন উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, ওইদিনের দোয়া মাহফিলের অনুষ্টানে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও দাওয়াত দিয়ে ছিলেন আমার স্বামী আলাউদ্দিন। এদিন ইউএনও মহোদয় ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথাও ছিল। মুলত দোয়া মাহফিলের অনুষ্টানের শেষ পর্যায়ে নাসির উদ্দিন নোবেলকে হত্যার খবর জানতে পারেন তিনি। মৃত্যুর খবর শুনে তিনি (আলাউদ্দিন) নিজের ফেসবুক ওয়ালে শোক প্রকাশ করে একটি পোস্টও দেন।
কোহিনুর আক্তার আরো দাবী করেন, আমার স্বামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হবে বলে ঘোষণা করেছে। এরই জেরে তাকে ষড়যন্ত্র মূলক ভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এই হত্যাকান্ডে যারা জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হউক। একইসঙ্গে আমার নিরাপরাধ স্বামী আলাউদিনকে হয়রানীমূলক আসামী থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে সবিনয় আবেদন দাবী জানাচ্ছি।
একইসঙ্গে আমি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও চকরিয়া পেকুয়া (কক্সবাজার-১) আসনের মাননীয় সাংসদ আলহাজ জাফর আলম এমপি মহোদয়ের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছি। কারণ আমার স্বামী নির্দোষ। সংবাদ সম্মেলনে এসময় আলাউদ্দিনের মা হাসিনা বেগম, ছেলে আওয়ানুল তাসিন রায়হান ও মেয়ে সুমাইয়া তাসরীন রাইছা উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে একইদিন দুপুরে পরিবারের পক্ষ থেকে পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের বুড়ির পাড়া হেফজখানা ও এতিমখানায় সংবাদ সম্মেলন করে যুবলীগ সভাপতি আলা উদ্দিনের পিতা হাজী হেলাল উদ্দিন। সেখানে স্থানীয় লোকজন ও পরিবার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
