এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নে নারী লোভী লম্পট স্বামীকে পরকিয়া প্রেমে বাঁধা দেয়ায় মিনার নাহার ছোটমনি (২৬) নামের এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ ফেব্রæয়ারী বিকেলে কাকারা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আলীমিয়া সিকদারপাড়া গ্রামে নিজবাড়িতে স্বামী শাশুড় শাশুড়ি মিলে ওই গৃহবধুকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন পরিষদের চৌকিদার পাঠিয়ে গুরুতর অবস্থায় ওই গৃহবধুকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে শাররীক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক গৃহবধু মিনার নাহারকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে নেয়ার পথে মারা যান ওই গৃহবধু। নিহত গৃহবধু মিনার নাহার ছোট মনিক কাকারা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের আলী মিয়া সিকদারপাড়ার মকছুদ আহমদের মেয়ে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো.দিদার বাদি হয়ে স্বামী শাশুড় শাশুড়িসহ তিনজনকে আসামি করে ঘটনার দিন চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ ওই এজাহারটি এখনো মামলা হিসেবে রুজু করেনি, গ্রেফতার করতে পারেনি এজাহারনামীয় আসামি স্বামী আলাউদ্দিন, শাশুড় ফরিদ আলম ও শাশুড়ি নুরতাজ বেগমকে।
বিষয়টি প্রসঙ্গে চকরিয়া থানার ওসি তদন্ত মো.জুয়েল ইসলাম বলেন, গৃহবধু মিনার নাহার ছোট মনির মৃত্যুর ঘটনায় একটি এজাহার পাওয়া গেছে। ঘটনারদিন প্রথমে বলা হয়েছিলো গৃহবধু ছোট মনি বিষপান করেছে, সেইজন্য আমরা মরদেহ উদ্ধারপুর্বক সুরতহাল তৈরী শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছি।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত রির্পোট হাতে পেলেই ওই গৃহবধুর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে পারবো। সেখানে বাদিপক্ষের অভিযোগ সঠিক থাকলে অবশ্যই এজাহারটি মামলা হিসেবে রের্কড করা হবে।
মামলার বাদি নিহতের ভাই মো.দিদার চকরিয়া থানায় জমা দেওয়া এজাহারে বলেন, প্রায় ৯বছর আগে আমার বোন মিনার নাহার ছোটমনিকে (২৬) সামাজিক রীতি অনুযায়ী দেনমোহর ধার্য্যপুর্বক কাপড়-চোপড়, স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র ও নগদ টাকাসহ বরপক্ষের সকল দাবি পুরণ করে ১নং আসামি আলা উদ্দিনের (২৮) সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।
তাদের সুখের সংসারে নেহা মনি (৬) ও মো.রামিম (দেড়বছর) ভুমিষ্ট হয়। এতদিন সংসার জীবন ভালোভাবে অতিবাহিত হলেও গেল দুইমাস ধরে রূপ পাল্টে যায় স্বামী আলাউদ্দিনের। এরই মধ্যে টেকনাফের বাসিন্দা কলি আক্তার নামের এক নারীর পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে আলাউদ্দিন। সেখান থেকে স্বামী আলাউদ্দিনকে ফেরাতে অনেক বুঝানোর চেষ্ঠা করে গৃহবধু মিনার নাহার। এতে উল্টো ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বোন মিনার নাহারের উপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু করে অভিযুক্ত স্বামী। একপর্যায়ে বাড়ি আসা এমনকি আমার বোন ও তাঁর দুই সন্তানের ভরণ-পোষনও বন্ধ করে দেন আসামি আলাউদ্দিন। এরই মধ্যে কলি আক্তার নামের ওই নারীকে বিয়ে করে।
এজাহারে বাদি দিদার আরো বলেন, দুইটি শিশু সন্তান রেখে কেন অন্য নারীকে বিয়ে করেছে জানতে চাইলে সর্বশেষ ২৬ ফেব্র“য়ারী বিকালে স্বামী আলাউদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়িতে আমার বোন মিনার নাহারকে বেদড়ক মারধর করেন। এসময় প্রতিবাদ করলে স্বামী আলাউদ্দিন ও তাঁর পিতা ফরিদ আলম এবং মাতা নুরতাজ বেগম সেখানে উপস্থিত হয়ে উল্টো অশালিন ভাষায় গালিগালাজ করে। তাতে আমার বোন মিনার নাহার আবারও প্রতিবাদ করলে তাঁরা একসঙ্গে মিলে কাঠের বাটামের আঘাতে পেটাতে পেটাতে তাঁর সর্বশরীর থেতঁলে দেয়। পরে তাকে বাড়িতে আটকে রেখে অভিযুক্তরা।
নিহতের ভাই দিদার জানান, ঘটনাটি আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে অবগত হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন পরিষদের চৌকিদার পাঠিয়ে আমার বোনকে উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, গৃহবধু মিনার নাহার ছোট মনির মৃত্যুর ঘটনাটি খুবই অমানবিক। নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার সদস্যরা আমাকে জানিয়েছে। তারপরও পুলিশের ময়নাতদন্ত রির্পোট পাওয়া গেলে ঘটনার মুল্য রহস্য উৎঘাটন সম্ভব হবে। ##
