এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া উপজেলার হাতির অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিতি দুইটি বনরেঞ্জে ” হাতি করলে সংরক্ষণ, রক্ষা পাবে সবুজ বন” এই শ্লোগানে বনকর্মীসহ শ্রেণী-পেশার নাগরিকদের অংশগ্রহনের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ব হাতি দিবস-২০২১।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের তত্তাবধানে ইউএসএইড এর ইকো লাইফ প্রকল্পের আওতায় নেকম এবং আইইউসিএন সার্বিক সহযোগীতায় বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সকল স্বাস্থ্য বিধি মেনে এদিন বেলা এগারটার দিকে উপজেলার মালুমঘাটস্থ ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ অফিস চত্বর থেকে একটি র্যালী বের করা হয়। একইদিন বিকালে বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের মেধাকচ্ছপিয়া পার্ক অফিসে আলোচনা সভার মধ্যদিয়ে পালিত হয় বিশ্ব হাতি দিবস।
হাতি দিবস উপলক্ষ্যে উপজেলার দুইটি বনরেঞ্জে অনুষ্ঠিত র্যালী আলোচনা সভা ও মুক্ত মতামত অনুষ্ঠানে অংশনেন ফাঁসিয়াখালী ও মেধাকচ্ছপিয়া সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি, সিপিজি টহল দল, পিএফ ও ভিসিএফ সদস্য, বনসংরক্ষণ ক্লাবের সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক আশিকুর রহমান এর সভাপতিত্বে ফাসিয়াখালীতে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী বন সংরক্ষক মোঃ সোহেল রানা এব্ং মেধাকচ্ছপিয়ায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সহকারী বন সংরক্ষক দ্বীপন চন্দ্র দাস।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইউসিএন এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার ড. মিজানুর রহমান, ইকোলাইফ (নেকম) প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. শফিকুর রহমান, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থাপক মো.আবদুল কাইউম, আইইউসিএন এর প্রোগ্রাম সহকারী আশীকুর রহমান, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি ফাঁসিয়াখালীর সভাপতি ও ডুলাহাজারা কলেজের অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি মেধাকচ্ছপিয়ার আলহাজ জয়নাল আবেদীন, কোষাধ্যক্ষ আক্তার কামাল। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম। সভা সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন সাইট অফিসার সিরাজুম মুনির এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহায়ক সাইদুর রহমান ।
সভায় বক্তারা, বিশ্ব হাতি দিবস এর প্রেক্ষাপট, বর্তমান হাতির বাসস্থান ও খাদ্যভান্ডার সংরক্ষণ চ্যালেঞ্জ, হাতি চলাচলের করিডোর, বাংলাদেশ হাতি সংরক্ষণ পরিকল্পনা ২০১৮-২০২৭, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম, বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইন-২০১২, হাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, হাতি সংরক্ষণে সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকা ইত্যাদি বি য়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, হাতির আবাসস্থল অক্ষতরাখার মধ্যদিয়ে প্রকৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সেটি নিশ্চিত করা গেলে হাতির খাদ্যভান্ডার সংরক্ষন হবে। পাশাপাশি পাহাড়ে হাতির অবাধ চলাচলে করিডোর রাখতে হবে। সর্বোপুরি হাতির নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে বন উজাড় বন্ধ করতে, পাহাড়ে অবৈধ বসতি স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমুলক ভুমিকা রাখতে হবে।
তাই সুন্দর প্রথিবীতে আমাদেরকে বেঁেচ থাকতে চাইলে জীবনের প্রয়োজনে জীব বৈচিত্র্য এবং হাতিকে বাঁিচয়ে রাখতে বন রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ##
