চকরিয়ায় বাড়ি-ভিটা থেকে উচ্ছেদে বাবা-ছেলেসহ পরিবারের ১০ জনকে মামলায় হয়রানির অভিযোগ

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী গ্রামে পৈত্রিক ভিলেজারী বসতভিটার জায়গা থেকে উচ্ছেদে এবার বাবা-ছেলেসহ তিন পরিবারের ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাত্র আট কড়া জমি দখলে নিতে আদালতে পরিকল্পিতভাবে এ সাজানো মামলাটি দায়ের করা হয়েছে এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী তিনটি পরিবারের সদস্যরা।
গত ১৭ অক্টোবর চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে (সিআর ১২০০/২১) মামলাটি করেছেন ছাইয়াখালী গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে বর্তমানে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানাধীন পাঠানটুলী গণি মেচ এলাকার বাসিন্দা মো.সরোয়ার। মামলার এজাহারে আসামি করা হয়েছে চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ছাইরাখালী গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৬০), আমান উল্লাহর ছেলে নুরুল আবছার (২০), নুরুল হকের ছেলে ইব্রাহিম খলিল (৪০), মোস্তাক আহমদের ছেলে ওসমান গনী (৩৫), নুরুল হকের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২), মোস্তাক আহমদের ছেলে আবু বকর (২৮), আবদু শুক্কুর (২৬), তাদের বাবা মোস্তাক আহমদ (৬২), দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শাকুয়ার হোসেন (২১) ও আমির হোসেনের ছেলে নুরুল হক (৭০)। মামলার বাদি ও আসামিরা পরস্পর নিকট আত্বীয়। বিজ্ঞ আদালত বাদির অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তপুর্বক প্রতিবেদন দিতে চকরিয়া থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আসামি পক্ষের লোকজন জানান, চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে বনবিভাগের ভিলেজারী হিসেবে পাঁচভাই নুরুল হক, ফজলুল হক, মোস্তাক আহমদ, দেলোয়ার হোসেন ও মোহাম্মদ হোসেন পরিবারের যৌথ জায়গা আছে। উল্লেখিত জায়গায় সমান বন্টন হারে পাঁচ ভাইয়ের পরিবার তথা ছেলেরা বসতবাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপুর্ণভাবে জীবনধারণ করে আসছেন।
তদমধ্যে মোস্তাক আহমদ ও ফজলুল হকের পরিবারের মধ্যে ১৮ কড়া বসতভিটার জায়গা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি মোস্তাক আহমদের পরিবার স্থানীয় ফাসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীকে জানিয়ে সমাধান চান। এরপর চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল গিয়ে জায়গার পরিমাপ করে দুই পরিবারের বিরোধ মিটিয়ে দেন এবং ১৮ কড়ার বদলে মাত্র ৮ কড়া জমি ভাই মোস্তাক আহমদকে ছেঁেড় দিতে অপর ভাই ফজলুল হকের পরিবারকে বলেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি সন্তোষজনকভাবে সমাধান করে দিলেও ফজলুল হকের পরিবার তাতে ক্ষুদ্ধ হন। এরই জেরে সর্বশেষ ১৩ অক্টোবর বিকালে ছাইয়াখালী স্টেশনে ফজলুল হকের ছেলেরা ক্ষিপ্ত হয়ে অপর ভাই মোস্তাক আহমদের ছেলেদের উপর হামলা করতে উদ্যত হন। এসময় দুইপক্ষের মধ্যে হালকা কথা কাটাকাটি হলে উপস্থিত লোকজন এসে সবাইকে নিবারণ করেন।
মোস্তাক আহমদের পরিবার সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, মাত্র আট কড়া জমি নিয়ে সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে ফজলুল হকের ছেলে সরোয়ার পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলাটি দায়ের করেছে। সেইদিন ছাইরাখালী স্টেশনে কোন ধরণের ঘটনা না হলেও মামলার এজাহারে তাঁর স্ত্রী আয়েশা ছিদ্দিকাকে জখমী দেখিয়ে জঘন্যরূপে গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগ তুলেছেন। অথচ সেইদিন ছাইরাখালী স্টেশনে দুইপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির সময় ঘটনাস্থলে দুই পরিবারের কোন নারী সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনার ব্যাপারে এলাকাবাসি সবাই স্বাক্ষী আছে। আবার মামলার এজাহারে আসামি করা হয়েছে ফজলুল হকের অপর তিন ভাই যথাক্রমে নুরুল হক, মোস্তাক আহমদ ও দেলোয়ার হোসেনের পরিবারের ১০ জনের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী তিনটি পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, ফজলুল হকের ছেলে মুলত বসতভিটার জায়গা দখলের কুমতলবে আদালতে এই মিথ্যা মামলাটি করা হয়েছে। এ অবস্থায় নিরীহ তিনটি পরিবারের সদস্যরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে ন্যায় বিচার প্রার্থনা করেছেন, পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উৎঘাটনে চকরিয়া থানার ওসির জরুরী হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা। #