এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া :
চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মাহমুদনগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসার বিরোধের জেরে দুইপক্ষের বন্দুকযুদ্ধে অপরাধ জগতের স¤্রাট স্থানীয় ‘দা বাহিনীর’ প্রধান মোহাম্মদ শাহজাহান (৩২) নিহত হয়েছে। শনিবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া এলাকার সরকারী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর ঘটেছে বন্দুকযুদ্ধের এ ঘটে। খবর পেয়ে রাত তিনটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে চকরিয়া থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন। ওইসময় লাশের অদুরে পরিত্যক্ত অবস্থা থেকে পুলিশ দেশে তৈরী একটি এলজি, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও চারশত পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে।
নিহত শাহজাহান চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদনগরস্থ গর্জনবাগান এলাকার মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে। এদিকে সন্ত্রাসী শাহজাহানের মৃত্যুর খবরে উল্লাসে মেতে উঠছে স্থানীয় জনসাধারণ। অপরদিকে শনিবার ভোররাতে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ওসি মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী।
পুলিশ জানায়; শাহজাহান এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় কলেজ ছাত্র মুর্শেদ হত্যা, সরকারী কর্মকর্তাকে মারধর, ডাকাতি, ধর্ষণ, অপহরণ, চাঁদাবাজি, বন মামলাসহ অন্তত ১২ টি মামলা রয়েছে। শনিবার রাতে মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের বিরোধের জেরে সংগঠিত বন্দুকযুদ্ধে শাহজাহান নিহত হয়েছে।
এলাকাবাসি জানায়, শাহজাহান কয়েকবছর ধরে ২০ থেকে ২৫জন যুবককে সংগঠিত করে এলাকায় একটি বাহিনী গঠন করেন। তারপর থেকে শাহজাহান ও তাঁর সহযোগিরা উপজেলার বরইতলী বনবিটের অধীন সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল বেদখল কাজে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল।
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, শাহজাহান বাহিনী চকরিয়া উপজেলার বরইতলী বনবিটের পাশাপাশি পাশের লামা ফাইতং ইউনিয়নেও বনভুমি জবরদখল, চাঁদাবাজি, ভূমিদখল, ইয়াবা ব্যাবসাসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।
সর্বশেষ গত ৮ মে চকরিয়া উপজেলার বানিয়ারছড়া-ফাইতং সড়কের মহশেখালী পাড়া এলাকায় এলাকায় বনভূমি জবরদখলের প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় শাহজাহান ও তাঁর সহযোগিরা। এ সময় দুইজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫ জন আহতও হয়। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে অপরপক্ষের চারজনকে আটক করলেও কলেজ ছাত্র মোরশেদ হত্যা মামলার আসামী বানিয়ারছড়াস্থ পাহাড়ি জনপদের আলোচিত ত্রাস শাহজাহান ও তাঁর সহযোগিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
চকরিয়া থানার ওসি মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শনিবার রাতে উপজেলার বানিয়ারছড়াস্থ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে মাদক ব্যবসায়ীদের দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওইসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে দা বাহিনীর কমান্ডার শাহজাহান মারা গেছে। খবর পেয়ে ভোররাতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেন। ওইসময় দেশে তৈরী একটি এলজি, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও ৪শত পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, শাহজাহানের দা বাহিনী নামে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে। এক সময় মুসা কাক্কা নামের এক সন্ত্রাসী এ বাহিনীর প্রধান থাকলেও ২০১৭ সালে পিআইবি পুলিশের অভিযানে মুছা কাক্কা কলেজ ছাত্র মুর্শেদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন। পরে সেকেন্ড ইন কমান্ড শাহজাহান ‘দা বাহিনী’ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেন।
স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, বনবিভাগের জায়গা দখলে নেতৃত্ব দেয়া কলেজ ছাত্র মোরশেদ হত্যা মামলার আসামি শাহজাহান বানিয়ারছড়াস্থ পাহাড়ি জনপদে মানুষের মাঝে ছিল মুর্তিমান আতঙ্ক। বেশ কয়েকবছর ধরে শাহজাহান পুলিশের গ্রেফতার এড়িয়ে দাপটের সাথে বনভুমি দখল-বিক্রি, গাছ কেটে লুটসহ নানা ধরণের অপরাধ কর্ম সংগঠিত করে আসছিলেন।
এলাকাবাসির অভিযোগ, শাহজাহান ও তাঁর বাহিনীর হাতে জিন্মিদশায় দিন কাটাতো বরইতলী ও বানিয়ারছড়া এলাকার হাজারো পরিবার। তাদের কথায় অবাধ্য হয়ে কেউ কোন কাজ করতে পারেনা। ভুলবশত: কেউ অবাধ্য হয়ে কোন কাজ করলে তাকে কঠিন মাসুল দিতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত এই বাহিনীর অত্যাচার থেকে নিস্তার পেতনা স্থানীয় অসহায় পরিবার গুলোর বিয়ের উপযুক্ত কিশোরী-যুবতীরা। নানাভাবে এসব পরিবারের নারীদের ইজ্জত লুন্টন করতো শাহজাহান ও তাঁর বাহিনীর সদস্যরা।
