বিশেষ প্রতিবেদক : পার্বত্য পাহাড়ের ঢালু, নদী-ছড়া বা খালের দু’তীর জুড়ে শুধু তামাক। এখানকার উর্বর মাটি তামাক পাতার সবুজ চাদরে ঢাকা পড়ে যায়। যে দিকে চোখ যায় শুধু তামাক আর তামাক। সম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় কৃষকরা তামাককেই শুধু অর্তকরি ফসল ভাবেন না। নদী চরের, ছড়া তীরের মাটিতে এখন তারা তরমুজসহ নানান কৃষিজাত পন্য চাষ করছেন। অনুকূল পরিবেশের কারণে তরমুজের আবাদ বাড়ছে পার্বত্য জনপদে। বিগত তিন দশক ধরে মৌসুমে নদী কিংবা খালের দুই পাড়ের ক্ষেতে শুধুই তামাক হতো। এ বিপদজনক চাষ থেকে কৃষক ক্রমেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। কৃষকের প্রত্যাশা, সরকারি প্রণোদনা পেলে তারা তামাক বাদ দিয়ে এলাকায় তরমুজসহ আরো নানা মৌসুমী ফসল উৎপাদন করবেন।
এধরণের এক অপেশাদার কৃষক আলীকদম মৈত্রি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একজন কৃষক। এলাকায় সবাই যখন তামাক কেন্দ্রিক ব্যাস্ত সময় পার করছেন, ঠিক তিনি তখন ক্ষেত থেকে তুলতে লাগলেন চোখ জুড়ানো তরমুজ। সম্প্রতি আলীকদমের হাঠ বাজারের ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে বেশ বড় সাইজের সবুজ রঙের তরমুজ ক্ষেত থেকে তুলছেন। এ প্রতিনিধি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, এসব তরমুজ স্থানীয় নদী-খালের তীরের উর্বর মাটিতে চাষ হয়েছে। এলাকার বাস্তবতায় দীর্ঘ বছর ধরে এই মৌসুমে তামাক ছাড়া অন্য কৃষি ফসল! কল্পনা করারমতো ছিল। আশার কথা হচ্ছে, এখন ক্রমেই পরিবর্তন আসছে কৃষি পন্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে।
শিক্ষক জসিম উদ্দিন ছাড়াও অনেক কৃষক এখন তামাকের বিকল্প অর্থকরী ফসল হিসেবে বেছে নিয়েছেন, তরমুজ, খিরাসহ নানা জাতের সবুজ সবজি। এসব সবজি বা ফল মুলের উৎপাদনে কৃষকরা আগাম কোন অর্থ বিনিয়োগকারী পাচ্ছেন না, যেমনটি তামাকের ক্ষেত্রে পাওয়া যায়। এর সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফড়িয়ারাও বেশ মুনাফা হাতিয়ে নেন প্রান্তিক কৃষকের থেকে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাযায়, এখানকার মাটি সব কৃষির জন্য অনুকুল। কৃষি বিভাগের সচেতনতা মুলক কর্মকান্ডে সাম্প্রতিক সময়ে বিশাক্ত তামাকের আগ্রাসন কিছুটা কমে আসছে। সেনাবাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ নানান কৌশুল অবলম্বন করে তামাক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাতে দেখা যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে যত চেষ্টা চালাক, কর্তৃপক্ষ তখনই সফল হবেন; যখন কৃষকের শ্রমের মুল্য-লাভের বিষয়টি নিশ্চিত করবেন। হতাশার বিষয় হচ্ছে, তামাক কোম্পানীগুলো জনবল নিয়োগের মাধ্যমে কৃষকদেরকে তামাক চাষে আগাম অর্থ সহায়তা ও বাজার নিশ্চয়তা বিধান করে। অন্যদিকে মৌসুমী সম্ভাব্য অন্যান্য ফসলের বাজার নিশ্চয়তাসহ আগাম অর্থ বিনিয়োগে কারোর সহযোগিতা থাকেনা।
একটি হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা হলে বিভিন্ন ফসল চাষ ও সংরক্ষণ করে কৃষকরা সমচিত বাজার মুল্য পেতেন।
কৃষকদের শ্রমকে মুল্যায়ন করে পরিবেশ বান্ধব কৃষি পন্য উৎপাদন করার ব্যবস্থা গ্রহনে যত বিলম্ব হবে, ততই উন্নত বাংলাদেশ গড়ার বাস্তবিক স্বপ্ন বিলম্বিত হবে। এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
