এম.জিয়াবুল হক : চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বাড়িভিটার জমি দখলে রাখার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ যায় ঘটনাস্থলে। তদন্ত করে পুলিশদল ঘটনাস্থল থেকে ফেরার পরপর বাদিপক্ষের উপর হামলা চালিয়েছে আসামিপক্ষের লোকজন। এসময় ফাতেমা বেগম (২৩) নামের এক গর্ভবতী নারীকে তলপেটে লাথি দেয়ায় পেটের ভেতরে মারা গেছে পাঁচমাসের নবজাতক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া সরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক। বৃস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মরং পুর্বপাড়া গ্রামে ঘটেছে এ হামলার ঘটনা। রাতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় অবস্থা বেগদিক দেখে পরিবার সদস্যরা আহত ওই নারীকে গতকাল চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ফাতেমা বেগম কোনাখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া গ্রামের মনির উদ্দিনের স্ত্রী। এ ঘটনায় তাঁর বাবা সোনা মিয়া বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় পাঁচজনকে আসামি করে গতকাল শুক্রবার রাতে একটি এজাহার জমা দিয়েছেন।
আহত ফাতেমা বেগমের বাবা সোনা মিয়া জানান, প্রায় ২০বছর আগে কোনাখালী ইউনিয়নের মরং পুর্বপাড়া গ্রামে তিনি ৩২ কড়া জমি কিনে বাড়ি ও চলাচলের রাস্তা তৈরী করেছেন। কিন্তু তাঁর কেনা জমির মধ্যে ১২ কড়া জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন প্রতিবেশি লাঠিয়াল মনজুর আলমের পরিবার। এব্যাপারে তিনি স্থানীয় কোনাখালী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে জমি উদ্ধারের আবেদন জানিয়ে একটি অভিযোগ দেন।
সোনা মিয়া আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের অভিযোগের আলোকে দখলদার মনজুর আলমকে বেশ কয়েকবার পরিষদে ডাকা হলে তিনি নানা কারণ দেখিয়ে সময় নেয়। এভাবে প্রায় দেড়বছর চলার পর দুইমাস আগে বিচারকদের জানিয়ে দেয় বিচার মানবে না, পারলে তাঁর কাছ থেকে জমি উদ্ধার করতে। এরই প্রেক্ষিতে পরিষদের গ্রাম আদালত আমার পক্ষে রায়ডিগ্রি দেন।
মুলত গ্রাম আদালতে আমার পক্ষে ডিগ্রি দেয়ায় ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে মনজুর আলম নানাভাবে হাঁকাবঁকা করতে থাকে। এতে আমি নিরুপায় সম্প্রতি এব্যাপারে চকরিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করি। থানার ওসি আমার অভিযোগটি তদন্তের জন্য মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সুজা আবদুল্লাহকে দায়িত্ব দেন। এরই আলোকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে এসআই সুজা আবদুল্লাহসহ পুলিশদল ঘটনাস্থলে তদন্তে যান।
গৃহকর্তা সোনা মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তদন্ত শেষ করে পুলিশদল ঘটনাস্থল থেকে ফেরার পরপর আমার বাড়িতে এসে পরিবার সদস্যদের উপর হামলা চালিয়েছে আসামিপক্ষের লোকজন। এসময় অভিযুক্ত মনজুর আলমের নেতৃত্বে সহযোগি নুরুল আলম, রোজিনা আক্তার, সেতারা বেগম ও তাদের মাতা হালিমা খাতুন মিলে আমার বিবাহিত মেয়ে গর্ভবতী ফাতেমা বেগমকে তলপেটে একাধিকবার লাথি মারে।
এতে প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে পেটের ভেতরে মারা গেছে পাঁচমাসের নবজাতক। গতকাল শুক্রবার চকরিয়া সরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মেয়ের পেটের ভেতরে পাঁচমাসের নবজাতক মারা যাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে। #
