চকরিয়ায় এমপি জাফর আলম ও পৌর সভাপতি লিটু স্বপদে বহাল

লেখক: নুরুল করিম রাসেল
প্রকাশ: ৫ years ago

নিজস্ব প্রতিনিধি, চকরিয়া :
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ জাফর আলম এবং চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটুকে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে। গতকাল রোরবার ১৩ জুন ঢাকায় আওয়ামীলীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কক্সবাজার জেলা এবং চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ নিয়ে জরুরী বৈঠক ডাকেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ।
বৈঠকে দিকনির্দেশনামুলক বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহাবুব উল আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাশ এমপি, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তাফা, দলের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য সাহাবুদ্দিন ফরাজী, সৈয়দ আক্ষদুল আউয়াল শামীম ছাড়াও বৈঠকে কক্সবাজারের তিনজন সাংসদ, জেলা এবং চকরিয়া উপজেলা, পৌরসভা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ও চকরিয়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের সিদ্বান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা। তাঁরা বলেন, বেশ কয়েকটি স্বর্তসাপেক্ষে এমপি জাফর আলম ও জাহেদুল ইসলাম লিটুকে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে। তবে স্বর্তের মধ্যে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চকরিয়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী তথা নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। তাঁরাও কথা দিয়েছেন নৌকার বিজয়ে সবার সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করবেন। এছাড়া সংগঠনের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয় সেইধরনের কাজ থেকে সবাই বিরত থাকবে।
জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক এম.এ মঞ্জুর বলেন, রোববার ঢাকায় কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমপি জাফর আলম ও লিটুর অব্যাহতির আদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উতপ্ত পরিস্থিতিতে অনভিপ্রেত আচরণের জন্য এমপি জাফর আলম ক্ষমা চেয়েছেন। সেই সঙ্গে চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে এমপিসহ সবাইকে একযোগে কাজ করতে বলেছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
তিনি বলেন, এছাড়াও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনা হলো আগামী ১৭ জুন চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী একটি কর্মী সভা আহ্বান করবেন। সেখানে সভাপতিত্ব করবেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাফর আলম এমপি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। বিশেষ অতিথি থাকবেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান ছাড়া জেলার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সেখানে সবাই ভুল বুঝাবুঝি নিরশনপুর্বক দলের জন্য একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গিকার করবেন।
প্রসঙ্গত: গত ৮ জুন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং চকরিয়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামীলীগে মনোনীত মেয়র প্রার্থীর বিপক্ষে কৌশলে কাজ করার অভিযোগে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি লিটুকে দলীয় পদবী থেকে অব্যাহতি দেন।
এরই জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ৮ জুন রাতে চকরিয়া চিংড়ি চত্বর এলাকায় চকরিয়া পৌর আওয়ামীলীগের লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী ও চকরিয়া পৌর নির্বাচনে নৌকার মেয়রপ্রার্থী বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী উপর হামলার ঘটনা ঘটে।
এতে সাংসদ জাফর আলম ছাড়াও চকরিয়া পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাহেদুল ইসলাম লিটু, বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা হাসানুল ইসলাম আদর ছিলেন দাবি করে জেলা আওয়ামীলীগের কাছে অভিযোগ করেন আক্রান্ত নেতৃবৃন্দ।
এরই প্রেক্ষিতে গত ১০ জুন জরুরী সভা করেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই দিনের জরুরী সভায় বলা হয়, গত ৮ জুন চকরিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতিক উদ্দিন চৌধুরী ও চকরিয়া পৌরসভার নৌকার মনোনীত মেয়র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আলমগীর চৌধুরী উপর হামলা ও দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গের কারণে এমপি জাফর আলমকে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসঙ্গে বিষয়টির আলোকে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ করেন জেলা আওয়ামী লীগ।
এরই প্রেক্ষিতে সর্বশেষ রোববার ১৩ জুন ঢাকায় আওয়ামীলীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে কক্সবাজার জেলা এবং চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ নিয়ে জরুরী বৈঠক ডাকেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ।##