এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া : চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-টিআইবি, চকরিয়ার সহযোগিতায় “ তথ্যের অধিকার, সুশাসনের হাতিয়ার ; তথ্যই শক্তি, দুর্নীতি থেকে মুক্তি” এই প্রতিপাদ্যের আলোকে ২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস ২০১৮ পালিত হয়েছে।
উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি উপজেলা পরিষদ চত্ত¡র হতে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদালত সড়ক প্রদক্ষিণ করে পূণরায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। র্যালি শেষে আলোচনা সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন মোহনায় অনুষ্ঠিত হয়।
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), চকরিয়ার সভাপতি অধ্যাপক এ. কে. এম. শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য মহব্বত চৌধুরী। দিবসের ধারণাপত্র পাঠ করেন ইয়েস দলনেতা মো. ইউনুচ উদ্দিন।
আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করে বক্তারা বলেন “তথ্য অধিকার আইন ২০০৯” দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। এ আইন জনগনের দাঁড়গোড়ায় নিয়ে যেতে হবে এবং এর যথাযথ প্রয়োগ সাধারন জনগনকেই করতে হবে। তবেই এই আইনের সুফল সাধারণ জনগণ ভোগ করতে পারবে। তখনই সকল ক্ষেত্রে দুর্নীতি বিলুপ্তি হবে ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে, অন্যথায় কোন সুফল আসবেনা।
আরো বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য জিয়া উদ্দিন, স্বজন সদস্য ফয়সল উদ্দিন আহমদ, স্বজন সদস্য খালেদা খানমা, জাকিয়া ইয়াছমিন, কোস্ট প্রতিনিধি হুমায়রা খানম। সঞ্চালনায় ছিলেন টিআইবির এরিয়া ম্যানেজার এ. জি. এম. জাহাঙ্গীর আলম। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কুইজ প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়।
তথ্য অধিকার আইন যথাযথ বাস্তবায়ন ও সুফল নিশ্চিত করার জন্য সনাক-টিআইবির পক্ষ থেকে ১০ টি করণীয় বিষয় উপস্থাপন করা হয়: তথ্য অধিকার আইনে ব্যবসা, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তথ্য অধিকার আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে; যেমন – ব্যতিক্রম বলে চিহ্নিত সবগুলো ক্ষেত্রে জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনার বিধান যোগ করতে হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আইনের অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। সুুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তথ্য অধিকার আইনে অনুরোধকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের বিবরণ প্রদানের বাধ্যবাধকতা বাদ দিয়ে অনুরোধকারী ব্যক্তি প্রদত্ত নির্দিষ্ট যে কোন ঠিকানায় তথ্য প্রদানের সুযোগ দেওয়া বাঞ্ছনীয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নিতে হবে। তথ্য অধিকার আইনে অনুরোধকারীর আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিধান করতে হবে।
তথ্য অধিকার আইনের পরিপন্থী বিদ্যমান আইনসমূহ সংস্কার বা কোন কোন ক্ষেত্রে বাতিল করতে হবে, যেমন: সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ এর ৩২ ধারাসহ বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী অন্যান্য ধারা বাতিল করতে হবে। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য প্রাপ্তির সঠিক আবেদন তৈরিতে সহায়তার জন্য সরকার কর্তৃক জনসাধারণের জন্য ‘তথ্য ও পরামর্শ ডেস্ক’ বা অনলাইন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সকল কর্তৃপক্ষকে আইনের ধারা ৫ ও সংশ্লিষ্ট প্রবিধানমালা, ২০১০ অনুযায়ী তথ্য সংরক্ষণ এবং স্ব-উদ্যোগে তথ্য প্রকাশের নীতিকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে। তথ্য সংরক্ষণের সহায়ক হিসেবে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত আবেদনপত্রও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তথ্য প্রদানে নিয়োজিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জ্ঞান ও তথ্য প্রদানে প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অর্জনে বিভিন্ন কারিগরী ও অনলাইন প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। তথ্য ও প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার ও আইন বাস্তবায়নের গতি, তথ্য প্রদানে কর্তৃপক্ষের দক্ষতা ও সংগতি পর্যবেক্ষণে তথ্য কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। মনিটরিং কার্যক্রমে সুশীল সমাজ ও জনগণেরও অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তথ্য কমিশনের নেতৃত্বে সবার সক্রিয় সম্পৃক্ততায় বিভিন্ন মেয়াদে পর্যায়ক্রমে কৌশলগত কর্ম-পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়নে বার্ষিক জাতীয় বাজেটে অর্থ-বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
