নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে একই পরিবারের চারজনের বিরুদ্ধে একটি মৎস্য প্রকল্পের লাগিয়ত হিসেবে দেওয়া ১২ লাখ ৩১ হাজার টাকা আত্মসাত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উল্টো আত্মসাত করা টাকা ফেরত না দেওয়ার জন্য অস্ত্রধারী দুবৃর্ত্তদের নিয়ে ওই মৎস্য প্রকল্পে হামলা চালিয়ে দুই কর্মচারীকে অস্ত্রের মুখে জিন্মি করে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট ও ক্ষতিসাধন করেছে অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় মৎস্য প্রকল্পের ইজারাদার ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আরজ খাতুনের মেয়ে সাগরিকা বেগম বাদি হয়ে ইতোমধ্যে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার জমা দিয়েছেন। এজাহারে স্থানীয় ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ার মৃত মনির উল্লাহ’র ছেলে বদিউল আলম, শাহ আলম, আনছুর আলম ও শাহ আলমের ছেলে শাহজাহানকে আসামি করা হয়েছে।
ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরজ খাতুন অভিযোগ করে বলেছেন, প্রায় পনের দিন আগে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার জমা দিলেও অদ্যবদি আইনী কোনধরনের প্রতিকার পাচ্ছি না। এতে অভিযুক্তরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

অভিযোগে ঢেমুশিয়ার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আরজ খাতুন বলেন, চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ও উজানটিয়া মৌজার বিএস ১ নম্বর খতিয়ানের ৭৫৪ ও ২৬০২/১ দাগের ১৫ একর আয়তনের মৎস্য প্রকল্পটি ২০২০ সালে তিনবছর মেয়াদে (২০২০/২০২১/২০২২) সালের জন্য অভিযুক্ত বদিউল আলমের কাছ থেকে আমি ইজারামুলে বন্ধক নিই। এব্যাপারে লিখিত স্ট্যাম্পে পাঁচটি চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়। চুক্তির আলোকে আমার কাছ থেকে মোট ১২ লাখ ৩১ হাজার টাকা বুঝে নেন বদিউল আলম ও তার ভাইয়েররা। এরপর আমি দেড় লাখ টাকা খরচ করে একটি খামারঘর ও দেড় লাখ টাকা খরচ করে একটি পলবোট এবং ৭ লাখ টাকা খরচ করে পাকা পলবোট নির্মাণ করি। ২০২২/২০২১ দুইবছর মৎস্য প্রকল্পে চাষ করে আমার ৮ লাখ টাকার মতো গচ্চা থাকে।
আরজ খাতুন অভিযোগ করে বলেন, ২০২৩ সাল একবছর মৎস্য প্রকল্পটি আমার রক্ষণাবেক্ষণের মেয়াদ থাকলেও অভিযুক্তরা চুক্তিপত্র লঙ্ঘন করে সর্বশেষ গত ১৮ ডিসেম্বর সকালে আমি এলাকায় না থাকার সুযোগে অস্ত্রধারী দুবৃর্ত্তদের নিয়ে মৎস্য প্রকল্পে হামলা চালিয়ে ঘেরটি জোরপূর্বক জবরদখল করেছে । এসময় আমার খামারে থাকা দুই কর্মচারী নেজাম উদ্দিন ও মোহাম্মদ হোসেনকে অস্ত্রের মুখে জিন্মি করে খামারে ব্যাপক তান্ডব চালিয়ে একটি পলবোট ভাংচুর করে ৩ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন এবং চারটি বিহিঙ্গী জাল, পাঁচটি ঝাঁকি জাল সরঞ্জামসহ দুই লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী ইজারাদার আরজ খাতুন বলেন, মুলত মৎস্য প্রকল্পটির বন্ধকী লাগিয়ত হিসেবে দেওয়া ১২ লাখ ৩১ হাজার টাকা আত্মসাত করার জন্য অভিযুক্ত বদিউল আলম অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী নিয়ে আমার মৎস্য প্রকল্পে হামলা ও লুটপাট চালিয়ে অবৈধ দখলে নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, আমি ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান। দীর্ঘ বছর ধরে আওয়ামী লীগে রাজনীতি করে আসছি। অথচ অভিযুক্তরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা জবরদখল সহ নানাধরণের অপরাধ করে যাচ্ছে। এমনকি অভিযুক্ত বদিউল আলমের বিরুদ্ধে মামলায় ( সিআর ৭৪৫/২০) গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি থাকলেও বহাল তবিয়তে থেকে এলাকায় রাজত্ব চালিয়ে আসছে।
ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আরজ খাতুন বলেন, আমার মৎস্য প্রকল্পটি অবৈধভাবে দখলে নিয়ে উল্টো অভিযুক্তরা আমাকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানির পাশাপাশি অপপ্রচার ছড়িয়ে মানহানি করছে। আমি দখলবাজ চক্রের কবল থেকে আমার মৎস্য প্রকল্পটি উদ্ধার ও জামানত হিসেবে নেওয়া ১২ লাখ ৩১ হাজার টাকা ফেরত পেতে কক্সবাজার ১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলম, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার ও চকরিয়া থানা পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ##
