চকরিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বসতবাড়ির সীমানা দেওয়াল ভেঙে জায়গা দখলের চেষ্টা

লেখক: হুমায়ুন রশিদ
প্রকাশ: ৩ years ago

নিজস্ব প্রতিবেদক : চকরিয়া পৌরসভা এলাকায় হাজি আবদু সবুর নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বসতবাড়ির সীমানা দেওয়াল ভেঙে জায়গা দখলে নিতে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চকরিয়া পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কাহারিয়াঘোনা এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাই মৃত হাজী আবু বক্করের বসতবাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাইয়ের স্ত্রী খাইরুন নেছার নামে কাহারিয়াঘোনা মৌজায় ১৭৪৪ ও ৯০৩ নম্বর বিএস খতিয়ানমুলে ৫ শতাংশ জমি মালিকানা হিসেবে দখলভুক্ত ও সীমানা প্রাচীরযুক্ত রয়েছে।

ভুক্তভোগী গৃহকর্ত্রী খাইরুন নেছার অভিযোগ, আমার উল্লেখিত জমির বিপরীতে বৈধ কাগজপত্র ও খতিয়ান সৃজিত হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেশী কামাল উদ্দিনের স্ত্রী রাখেলা বেগম ও তার লোকজন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা আদেশ অমান্য করে সীমানা দেওয়াল ভেঙে জায়গা জবরদখলে বারবার হামলা চালাচ্ছে। এমনকি ইতোপূর্বে কয়েকবার হামলার ঘটনায় চকরিয়া থানায় এজাহার জমা দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা আইন আদালত তোয়াক্কা না করে দখল চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজি আবদু ছবুর বলেন, চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়াঘোনা মৌজায় পৈত্রিক সম্পত্তির জায়গায় আমি ছাড়াও ভাইয়ের পরিবার সদস্যরা বসতঘর নির্মাণ করে যুগের পর যুগ ধরে বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছি। নিজেদের বাড়িঘরে পরিবার নিয়ে শান্তিপুর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। আমাদের জায়গা নিয়ে কারো সঙ্গে কোন বিরোধও নেই। কিন্তু কিছুদিন আগে প্রতিবেশী কামাল উদ্দিনের পরিবার সদস্যরা জোরপূর্বক আমার বাড়িভিটায় ঢুকে স্থাপনা নির্মাণ করতে চেষ্টা চালায়।
এ ঘটনায় আমি জড়িতদের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার জমা দিই। পরে বিষয়টি সমাধানে চেষ্টা করেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী। এ নিয়ে অভিযুক্ত কামাল উদ্দিনের পরিবার ঘটনাটি সমাধানের জন্য উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাজী আবু মো বশিরুল আলমের দ্বারস্থ হন। এরপর মুক্তিযোদ্ধা হাজি বশিরুল আলম দুইপক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন।

হাজি আবদু ছবুর দাবি করেন, ইতোমধ্যে হাজি বশিরুল আলম বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিরোধীয় জায়গা পরিমাপের মাধ্যমে দুইপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে আসেন। এসময় পরিমাপে কামাল উদ্দিনের পরিবারের দখলে আমাদের জায়গা থাকার বিষয়টি ধরা ড। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন কামাল উদ্দিন ও তার স্ত্রী রাখেলা বেগম জায়গা দখল ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উপস্থিত সবার সামনে আমার বসতভিটায় ব্যাপক ভাংচুর চালায়। এসময় বসতভিটার শতাধিক ছোটবড় রকমারি গাছ কেটে সাবাড় করে দিয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা হাজি আবদু ছবুর অভিযোগ করে বলেন, হামলার সময় ইটপাটকেল ছুঁড়ে আমার পরিবারের সদস্যদের জিন্মি করে বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। পরে পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ ফোন কলে আমরা অভিযোগ জানালে চকরিয়া থানার এএসআই গৌতম ভৌমিক এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
তারা বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা এইধরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ চাই। ##